বাংলাদেশের সংবিধান — সম্পূর্ণ মনে রাখার গাইড
বিসিএস প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ছন্দ, গল্প-পদ্ধতি ও শর্টকাট নেমোনিক
১ সংবিধান প্রণয়নের তথ্য (মাস্টার চার্ট)
কমিটি গঠন
১১ এপ্রিল ১৯৭২
মোট সদস্য
৩৪ জন
সভাপতি
ড. কামাল হোসেন
একমাত্র নারী সদস্য
বেগম রাজিয়া বানু
মোট বৈঠক
২২৯টি
সময় লেগেছে
৯ মাস ১৮ দিন
গণপরিষদে উত্থাপন
১২ অক্টোবর ১৯৭২
সংবিধান গৃহীত
৪ নভেম্বর ১৯৭২ (সংবিধান দিবস)
কার্যকর হয়
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
মোট ভাগ / অনুচ্ছেদ
১১ ভাগ / ১৫৩টি অনুচ্ছেদ
মোট তফসিল
৭টি তফসিল
মোট সংশোধনী
১৭টি (সর্বশেষ ২০১৮)
স্মৃতিকৌশল: “১১ এপ্রিল ৩৪ জন মিলে ৯ মাস কাজ করে ২২৯ মিটিং করলেন, ৪ নভেম্বর গৃহীত হল, ১৬ ডিসেম্বর চালু হল।” — মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসেই সংবিধান কার্যকর হয়েছিল, এটা মনে রাখলে ১৬ ডিসেম্বর তারিখ ভোলা যাবে না।
২ প্রস্তাবনা — হুবহু মুখস্থ করুন
সংবিধানের প্রস্তাবনা (পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী)
“বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম (পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে)
আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;
আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।”
আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;
আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।”
মনে রাখার টিপস: প্রস্তাবনায় চারটি মূলনীতি — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। পঞ্চম সংশোধনীতে “ধর্মনিরপেক্ষতা” বাদ গিয়েছিল, পরে পঞ্চদশ সংশোধনীতে আবার যুক্ত হয়েছে। রচনামূলক উত্তরে এই কোটেশন ব্যবহার করলে নম্বর বাড়ে।
৩ ১১টি ভাগ — মাস্টার নেমোনিক
প্র · রা · মৌ · নি · আ · বি · নি · ম · বাং · জ · সং · বি
প্রতিটি অক্ষর একটি ভাগের প্রতীক। এই ১২টি শব্দাংশ মনে রাখলে সব ভাগ মনে থাকবে।
| ভাগ | অনুচ্ছেদ | নাম | সংক্ষিপ্ত কী-ওয়ার্ড |
|---|---|---|---|
| ১ম | ১–৭ | প্রজাতন্ত্র | দেশের পরিচয় ও সংবিধানের প্রাধান্য |
| ২য় | ৮–২৫ | রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি | রাষ্ট্রের আদর্শ, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষা |
| ৩য় | ২৬–৪৭ক | মৌলিক অধিকার | নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা |
| ৪র্থ | ৪৮–৬৪ | নির্বাহী বিভাগ | রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা |
| ৫ম | ৬৫–৯৩ | আইনসভা | জাতীয় সংসদ, স্পিকার, বাজেট |
| ৬ষ্ঠ | ৯৪–১১৭ | বিচার বিভাগ | সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, রিট |
| ৭ম | ১১৮–১২৬ | নির্বাচন | নির্বাচন কমিশন, ভোটার |
| ৮ম | ১২৭–১৩২ | মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক | সরকারি হিসাব পরীক্ষা |
| ৯ম | ১৩৩–১৪১ | বাংলাদেশের কর্মবিভাগ | সরকারি চাকরি, পিএসসি |
| ৯ম-ক | ১৪১ক–১৪১গ | জরুরি বিধানাবলী | জরুরি অবস্থা ঘোষণা |
| ১০ম | ১৪২ | সংবিধান সংশোধন | সংশোধন পদ্ধতি |
| ১১তম | ১৪৩–১৫৩ | বিবিধ | চুক্তি, শপথ, ব্যাখ্যা |
৪ অনুচ্ছেদ ১–১২ (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ শুরু)
গল্প-পদ্ধতিতে মনে রাখুন — ধারাবাহিক কাহিনী
কল্পনা করুন — একটি নতুন দেশের জন্মের ঘটনা। প্রথমে দেশের নাম দিতে হবে (১), তারপর সীমানা নির্ধারণ হয় (২)। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে, তাই সীমানার সাথেই আসে রাষ্ট্রধর্ম (২ক)। শহীদ মিনারের তিনটি স্তম্ভের মতো অনুচ্ছেদ তিনে আসে রাষ্ট্রভাষা (৩)। অনুষ্ঠানে “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম চার লাইন বাজানো হয় — তাই চারে জাতীয় সংগীত, পতাকা, প্রতীক (৪)। “চারের কৃতি” — চার-কতে জাতির পিতার প্রতিকৃতি (৪ক)। ঢাকা পাঁচবার রাজধানী হয়েছে — তাই অনুচ্ছেদ পাঁচে রাজধানী (৫)। “নাগরিকত্ব” শব্দে ছয়টি ব্যঞ্জনবর্ণ — তাই অনুচ্ছেদ ছয়ে নাগরিকত্ব (৬)। সংবিধান সবার উপরে, সাত আসমানের মতো — সাতে সংবিধানের প্রাধান্য (৭)।
- ১প্রজাতন্ত্রদেশের নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
- ২রাষ্ট্রীয় সীমানাপ্রজাতন্ত্রের ভৌগোলিক সীমা
- ২করাষ্ট্রধর্মইসলাম রাষ্ট্রধর্ম (৮ম সংশোধনী) সংশোধিত
- ৩রাষ্ট্রভাষাবাংলা — শহীদ মিনারের ৩ স্তম্ভ মনে রাখুন
- ৪জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীকপ্রথম চার লাইন বাজানো হয় বলে ৪ নম্বরে
- ৪কজাতির পিতার প্রতিকৃতি“কৃতি” ও “চার”-এর মিল সংশোধিত
- ৫রাজধানীঢাকা ৫বার রাজধানী হয়েছে বলে ৫ নম্বরে
- ৬নাগরিকত্ব“নাগরিকত্ব” শব্দে ৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ
- ৭সংবিধানের প্রাধান্যসর্বোচ্চ আইন; সংবিধান বাতিল অপরাধ (৭খ)
- ৭কসংবিধান বাতিলের দণ্ডরাষ্ট্রদ্রোহিতা সংশোধিত
- ৭খমৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্যকিছু অনুচ্ছেদ কখনো পরিবর্তন করা যাবে না
- ৮মূলনীতিসমূহ৪টি মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
- ৯জাতীয়তাবাদবাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি
- ১০সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তিনারীর অংশগ্রহণ সহ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা
- ১১গণতন্ত্র ও মানবাধিকার“গণতন্ত্র ও মানবাধিকার” — ১১টি অক্ষর, তাই ১১
- ১২ধর্মনিরপেক্ষতাধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা — “বারো” মানে বাড়া থেকে সতর্কতা
৫ অনুচ্ছেদ ১৩–২৫ (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি)
মালি · কৃষক · মৌ · গ্রাম · অবৈতনিক · জনস্বাস্থ্য · সুযোগ
↓ তারপর: অধিকার · নাগরিক · নির্বাহী · সংস্কৃতি · স্মৃতি · আন্তর্জাতিক
ছন্দ-গল্প (১৩–২৫)
“একজন মালিক তার কৃষককে মৌলিক প্রয়োজনের জন্য গ্রামে পাঠিয়ে অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হলো এবং সকলের সুযোগের সমতা ফিরল। নাগরিকরা তাদের অধিকার ও কর্তব্যে সচেতন হয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করলেন এবং জাতীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে স্মৃতি নিদর্শন রক্ষা করে আন্তর্জাতিক শান্তি আনলেন।”
- ১৩মালিকানার নীতিরাষ্ট্রীয়, সমবায় ও ব্যক্তিগত — ৩ ধরনের মালিকানা (তিন = তেরো)
- ১৪কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তিশোষণ থেকে মুক্তি
- ১৫মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থাখাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা — ৫টি মৌলিক প্রয়োজন
- ১৬গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পরে গ্রাম পুনর্গঠন দরকার ছিল
- ১৭অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা“সাথে আছি সতেরো” — শিক্ষা সবার সাথে
- ১৮জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা১৮ক: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
- ১৯সুযোগের সমতা১৯ = ১ ও ৯ এর সমন্বয় — অসম অঙ্কে সমতার কথা
- ২০অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্মকাজ করার অধিকার
- ২১নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য২১(২): “সর্বদা জনগণের সেবা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মীর কর্তব্য” — গুরুত্বপূর্ণ!
- ২২বিচার বিভাগ পৃথকীকরণনির্বাহী থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করা — দুইটি জিনিস আলাদা = বাইশ
- ২৩জাতীয় সংস্কৃতি২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষা
- ২৪জাতীয় স্মৃতিনিদর্শনঐতিহাসিক স্থান ও বস্তু সংরক্ষণ
- ২৫আন্তর্জাতিক শান্তি ও সংহতিজাতিসংঘের নীতি মেনে চলা
৬ অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭ক (মৌলিক অধিকার)
ছন্দ: ২৬–৩১ (আইন ও সমতা)
মৌ · আইন · ধর্ম · সরকারি · খেতাব · আশ্রয়
গল্প (২৬–৩১)
“মৌলিক অধিকার আইনের দৃষ্টিতে ধর্ম, সরকারী নিয়োগ ও বিদেশী খেতাব গ্রহণে সকলের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে।”
- ২৬অসামঞ্জস্য আইন বাতিলমৌলিক অধিকারের বিরোধী আইন বাতিল
- ২৭আইনের দৃষ্টিতে সমতা“সাতাশে সমতা” — সহজ ছন্দ
- ২৮ধর্মাদি কারণে বৈষম্য নিষেধ২৮(২): সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান অধিকার
- ২৯সরকারি নিয়োগে সমান সুযোগসরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিষেধ
- ৩০বিদেশি খেতাব গ্রহণ নিষিদ্ধরাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া বিদেশি খেতাব নেওয়া যাবে না
- ৩১আইনের আশ্রয়“আইনের আশ্রয় একার” → একত্রিশ
ছন্দ: ৩২–৩৫ (ব্যক্তি স্বাধীনতা)
জীবনে ১বার গ্রেপ্তার হলে জবরদস্তি বিচার হয়
- ৩২জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতাসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার
- ৩৩গ্রেপ্তার ও আটকের রক্ষাকবচগ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির
- ৩৪জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধবাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ
- ৩৫বিচার ও দণ্ডের রক্ষণএকই অপরাধে দুইবার বিচার নয়; নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী নয়
ছন্দ: ৩৬–৪৩ (স্বাধীনতার অধিকার)
চ · সমা · সং · বাদক → পেধসগৃ
গল্প পদ্ধতি (৩৬–৪৩)
মানুষজন রাস্তায় চলাফেরা করছে → অনেকে একসাথে হলে সমাবেশ → সমাবেশ থেকে সংগঠন → সংগঠনে বাক স্বাধীনতা → সংগঠনকে চালাতে সবাই একটা পেশায় যুক্ত হয় → তারপর ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, গৃহের গোপনীয়তা।
- ৩৬চলাফেরার স্বাধীনতাচসমাসংবাদক ছন্দের প্রথম অক্ষর
- ৩৭সমাবেশের স্বাধীনতা
- ৩৮সংগঠনের স্বাধীনতা
- ৩৯চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতাসংবাদপত্রের স্বাধীনতাও এখানে
- ৪০পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতাপেধসগৃ ছন্দের প্রথম অক্ষর
- ৪১ধর্মীয় স্বাধীনতাতাবলিগে ৪০ দিন = চিল্লা → একচল্লিশ = ধর্ম
- ৪২সম্পত্তির অধিকার
- ৪৩গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তাচিঠি, টেলিফোন অলঙ্ঘনীয়
- ৪৪মৌলিক অধিকার বলবৎ করণহাইকোর্টে রিট দাখিল করার অধিকার
- ৪৫শৃঙ্খলামূলক আইনসামরিক বাহিনী বা অনুরূপ বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে বিধান
- ৪৬দায়মুক্তি বিধানের ক্ষমতাসংসদ কর্তৃক ক্ষমার বিধান
- ৪৭কতিপয় আইনের বিধান৪৭ক: কিছু ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য নয়
৭ ১৭টি সংশোধনী — একনজরে
মনে রাখার কৌশল: সংশোধনীগুলো ঘটনার সাথে মেলান। সামরিক আইনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে ৫ম, ৭ম সংশোধনীতে। ১২তম সংশোধনীতে সংসদীয় পদ্ধতি ফিরেছে। ১৫তম সংশোধনী সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
| সংশোধনী | সাল | মূল বিষয় |
|---|---|---|
| ১ম | ১৯৭৩ | যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান (অনুচ্ছেদ ৪৭ সংশোধন) |
| ২য় | ১৯৭৩ | জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান চালু (অনুচ্ছেদ ২৬, ৬৩, ৭২, ১৪২) |
| ৩য় | ১৯৭৪ | বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন |
| ৪র্থ | ১৯৭৫ | সংসদীয় পদ্ধতি বিলুপ্ত, রাষ্ট্রপতি শাসন + বাকশাল প্রতিষ্ঠা |
| ৫ম | ১৯৭৯ | ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সামরিক কার্যক্রমের বৈধতা; মূলনীতি পরিবর্তন (আদালত বাতিল করেছে) |
| ৬ষ্ঠ | ১৯৮১ | রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ নির্ধারণ |
| ৭ম | ১৯৮৬ | এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা (আদালত বাতিল করেছে) |
| ৮ম | ১৯৮৮ | ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি (অনুচ্ছেদ ২ক); Dacca→Dhaka |
| ৯ম | ১৯৮৯ | রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি ভোটে |
| ১০ম | ১৯৯০ | সংসদে ৩০টি নারী আসন সংরক্ষণ (১০ বছরের জন্য) |
| ১১তম | ১৯৯১ | উপরাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্তি |
| ১২তম | ১৯৯১ | সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তন গুরুত্বপূর্ণ |
| ১৩তম | ১৯৯৬ | নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন (পরে বাতিল) |
| ১৪তম | ২০০৪ | নারী আসন ৩০→৪৫; বিচারপতিদের বয়স ৬৫→৬৭ |
| ১৫তম | ২০১১ | ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল; তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত বৃহত্তম |
| ১৬তম | ২০১৪ | বিচারপতি অপসারণ সংসদের হাতে (পরে বাতিল) |
| ১৭তম | ২০১৮ | সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি, আরও ২৫ বছর |
বাংলাদেশের সংবিধান — নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ
অনুচ্ছেদ ৪৮–১৫৩, তফসিল, গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ এবং ৩০ দিনের স্টাডি প্ল্যান
১ অনুচ্ছেদ ৪৮–৬৪ (নির্বাহী বিভাগ)
ছন্দ: রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত (৪৮–৫৪)
“রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমার মেয়াদে দায়মুক্তি পেতে অভিসংশন ও অপসারণের ক্ষমতা স্পিকারকে দিলেন।”
- ৪৮রাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রের প্রধান; প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন (কিছু ক্ষেত্র ছাড়া)
- ৪৯ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকাররাষ্ট্রপতি যেকোনো দণ্ড মার্জনা করতে পারেন
- ৫০রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ৫ বছরের জন্য; সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ
- ৫১রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তিপদে থাকাকালীন বিচার হয় না
- ৫২রাষ্ট্রপতির অভিসংশনদুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিসংশন
- ৫৩অসামর্থ্যে অপসারণশারীরিক বা মানসিক অক্ষমতায় অপসারণ
- ৫৪স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে স্পিকার দায়িত্ব নেন
ছন্দ: মন্ত্রিসভা (৫৫–৫৮)
“মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিগণ প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ ঠিক করেন।”
- ৫৫মন্ত্রিসভাপ্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে সরকার; টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর বিধানও এখানে
- ৫৬মন্ত্রিগণপ্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ
- ৫৭প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদসংসদের আস্থা থাকলে মেয়াদ; সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে পদত্যাগ
- ৫৮অন্য মন্ত্রীদের মেয়াদপ্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হলে সব মন্ত্রীর পদ শূন্য
- ৫৮ক–৫৮ঘস্থানীয় শাসনস্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিধান
- ৫৯স্থানীয় শাসনস্থানীয় সরকার পরিচালনার বিধান
- ৬০স্থানীয় সরকারের ক্ষমতাকর আরোপ ও বাজেটের ক্ষমতা
- ৬৩যুদ্ধসংসদের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা নয় গুরুত্বপূর্ণ
- ৬৪অ্যাটর্নি জেনারেলসরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ
২ অনুচ্ছেদ ৬৫–৯৩ (আইনসভা / জাতীয় সংসদ)
সদস্যরা শূন্য পারিশ্রমিকে অর্থদণ্ড পেয়ে পদত্যাগ করলে দ্বৈত সদস্যতা রদ হয়।
অধিবেশনে ভাষণ দেন স্পিকার। কোরামের জন্য স্থায়ী কমিটি ন্যায়পাল নিয়োগ করে সচিবালয়ে।
অধিবেশনে ভাষণ দেন স্পিকার। কোরামের জন্য স্থায়ী কমিটি ন্যায়পাল নিয়োগ করে সচিবালয়ে।
৬৫ থেকে ৭৮ পর্যন্ত এই ছন্দ ব্যবহার করুন
- ৬৫সংসদ প্রতিষ্ঠাএকক কক্ষবিশিষ্ট; ৩০০ + ৫০ (সংরক্ষিত নারী আসন) = ৩৫০ আসন
- ৬৬নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাবয়স কমপক্ষে ২৫ বছর; নাগরিক হতে হবে
- ৬৭আসন শূন্য হওয়ামৃত্যু, পদত্যাগ, অযোগ্যতায় শূন্য
- ৬৮সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিকসংসদ কর্তৃক নির্ধারিত
- ৬৯অর্থদণ্ডশপথের আগে আসন নিলে বা ভোট দিলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা জরিমানা
- ৭০ফ্লোর ক্রসিংনিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল গুরুত্বপূর্ণ
- ৭১দ্বৈত সদস্যতায় বাধাএকই সময়ে দুটি আসনে থাকা যাবে না
- ৭২সংসদের অধিবেশনবছরে কমপক্ষে ২টি অধিবেশন; দুই অধিবেশনের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি ব্যবধান নয়
- ৭৩রাষ্ট্রপতির ভাষণসংসদের প্রতিটি বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ
- ৭৩কমন্ত্রীদের সংসদ সংক্রান্ত অধিকারমন্ত্রীরা সংসদে বক্তব্য দিতে পারেন
- ৭৪স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসংসদ কর্তৃক নির্বাচিত
- ৭৫কোরাম ও কার্যবিধিকোরাম: মোট সদস্যের ১/১০ = ৬০ জন
- ৭৬স্থায়ী কমিটিসমূহপ্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি কমিটি
- ৭৭ন্যায়পালOmbudsman; এখনও গঠন হয়নি গুরুত্বপূর্ণ
- ৭৮সচিবালয়সংসদের নিজস্ব সচিবালয়
- ৮০আইন প্রণয়ন পদ্ধতিবিল উত্থাপন → পাস → রাষ্ট্রপতির সম্মতি
- ৮১অর্থবিলশুধু অর্থমন্ত্রী উত্থাপন করতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ
- ৮৭বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি (বাজেট)“বাজেটে সবাই সাথে আছি” — সাতাশি গুরুত্বপূর্ণ
- ৯৩অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতাসংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন
৩ অনুচ্ছেদ ৯৪–১১৭ (বিচার বিভাগ)
মনে রাখার গল্প
“চুরানব্বইতে সুপ্রিম কোর্ট, একশো দুইয়ে রিট করতে হাইকোর্টে যাও, একশো সতেরোতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল — কারণ একসাথে অনেক কিছু (সমূহ = সতেরো)।”
- ৯৪সুপ্রিম কোর্টআপিল বিভাগ + হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ
- ৯৫বিচারক নিয়োগরাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ; প্রধান বিচারপতির পরামর্শে
- ৯৬বিচারকের মেয়াদ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত (১৪তম সংশোধনীতে পরিবর্তিত)
- ১০১হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ারঅধস্তন আদালত তদারকি
- ১০২রিট (Writ)হাইকোর্টে রিট দাখিলের অধিকার — ৫ ধরনের রিট গুরুত্বপূর্ণ
- ১০৫আপিল বিভাগের রায় পর্যালোচনানিজের রায় পর্যালোচনার ক্ষমতা
- ১০৬উপদেষ্টামূলক এখতিয়াররাষ্ট্রপতির প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের মতামত
- ১১৫অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগসুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শে রাষ্ট্রপতি
- ১১৬অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণসুপ্রিম কোর্টের অধীনে
- ১১৭প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল“সমূহ = একসাথে অনেক = সতেরো” ছন্দ গুরুত্বপূর্ণ
৫ ধরনের রিট (অনুচ্ছেদ ১০২):
১. বন্দী প্রদর্শন (Habeas Corpus) — বেআইনি আটক মুক্তি
২. পরমাদেশ (Mandamus) — সরকারি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনের আদেশ
৩. প্রতিষেধ (Prohibition) — নিম্ন আদালতকে থামানো
৪. উৎপ্রেষণ (Certiorari) — নিম্ন আদালতের রেকর্ড তলব
৫. কো-ওয়ারেন্টো (Quo-Warranto) — পদ দখলের বৈধতা প্রশ্ন
১. বন্দী প্রদর্শন (Habeas Corpus) — বেআইনি আটক মুক্তি
২. পরমাদেশ (Mandamus) — সরকারি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনের আদেশ
৩. প্রতিষেধ (Prohibition) — নিম্ন আদালতকে থামানো
৪. উৎপ্রেষণ (Certiorari) — নিম্ন আদালতের রেকর্ড তলব
৫. কো-ওয়ারেন্টো (Quo-Warranto) — পদ দখলের বৈধতা প্রশ্ন
৪ নির্বাচন, হিসাব, কর্মবিভাগ ও জরুরি বিধান
- ১১৮নির্বাচন কমিশনস্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; প্রধান নির্বাচন কমিশনার
- ১২২ভোটার তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতাবয়স ১৮+, নাগরিক, সুস্থ মস্তিষ্ক
- ১২৩সংসদ সদস্য নির্বাচননির্বাচনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
- ১২৬নির্বাহী বিভাগের সহায়তানির্বাচন কমিশনকে সহায়তা বাধ্যতামূলক
- ১২৭মহাহিসাব নিরীক্ষকCAG — সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করেন
- ১৩৩সরকারি কর্মচারী নিয়োগবিসিএস সহ সকল সরকারি নিয়োগের ভিত্তি
- ১৩৭সরকারি কর্মকমিশন (PSC)“৩৭তম বিসিএসে এই প্রশ্ন এসেছিল” — ১৩৭
- ১৪১কজরুরি অবস্থা“একা চলতে হয় = একচল্লিশ = জরুরি অবস্থা” গুরুত্বপূর্ণ
- ১৪১খজরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিতকিছু অধিকার স্থগিত করা যায়
- ১৪১গজরুরি অবস্থায় সংসদের অনুমোদন১২০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন দরকার
- ১৪২সংবিধান সংশোধনদুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ
- ১৪৩প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি“143 = I Love You” — দেশের সম্পদকে ভালোবাসুন
- ১৪৫কআন্তর্জাতিক চুক্তি“১৯৪৫ সালে WWII পরে অনেক চুক্তি” — তাই ১৪৫
- ১৪৮শপথ গ্রহণরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারকসহ সকল সাংবিধানিক পদে শপথ
- ১৫২সংজ্ঞাসমূহসংবিধানে ব্যবহৃত শব্দাবলির সংজ্ঞা
- ১৫৩বাংলা ও ইংরেজি পাঠদুটি ভাষায় সংবিধান; বিরোধ হলে বাংলা পাঠ প্রামাণিক
৫ ৭টি তফসিল — একনজরে
শপ · নির্বাচন · সীমানা · স্বাধীনতা · জাতীয় · সংসদীয় · উপজেলা
তফসিলগুলো মূল সংবিধানের পরিশিষ্ট হিসেবে অনুচ্ছেদের বিস্তারিত তথ্য দেয়।
- ১মশপথ ও ঘোষণার ফর্মরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিচারকদের শপথের পাঠ
- ২য়নির্বাচনের বিধানরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত পদ্ধতি
- ৩য়রাষ্ট্রীয় সীমানাবাংলাদেশের ভূখণ্ডের বর্ণনা
- ৪র্থস্বাধীনতার ঘোষণাপত্র১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত
- ৫মজাতীয় সংগীত ও পতাকাজাতীয় সংগীতের কথা ও সুর; পতাকার মাপ ও রং
- ৬ষ্ঠজাতীয় সংসদের নির্বাচন বিধিসংসদ সদস্য নির্বাচনের বিস্তারিত পদ্ধতি
- ৭মউপজেলা ও পৌরসভাস্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধান
৬ বিসিএসে বারবার আসা গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ
রাষ্ট্রের পরিচয়
২ক, ৪ক, ৬, ৭, ৭খ
রাষ্ট্রধর্ম, প্রতিকৃতি, নাগরিকত্ব, সংবিধানের প্রাধান্য, সংশোধন অযোগ্য বিধান
মৌলিক অধিকার
৩২, ৩৫, ৩৯, ৪৪, ৪৭
জীবন স্বাধীনতা, বিচারের রক্ষণ, বাক স্বাধীনতা, রিট অধিকার
নির্বাহী বিভাগ
৪৮, ৫৫, ৫৭, ৬৩, ৬৪
রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, যুদ্ধ, অ্যাটর্নি জেনারেল
আইনসভা
৬৫, ৭০, ৭৭, ৮১, ৮৭
সংসদ গঠন, ফ্লোর ক্রসিং, ন্যায়পাল, অর্থবিল, বাজেট
বিচার বিভাগ
৯৪, ১০২, ১০৬, ১১৭
সুপ্রিম কোর্ট, রিট, উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল
সংশোধন ও বিবিধ
১৪১ক, ১৪২, ১৪৫ক, ১৪৮
জরুরি অবস্থা, সংশোধন পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি, শপথ
৭ ৩০ দিনের কংক্রিট স্টাডি প্ল্যান
| সপ্তাহ | লক্ষ্য | প্রতিদিনের কাজ |
|---|---|---|
| ১ম সপ্তাহ (দিন ১–৭) | ইতিহাস + ১১টি ভাগ + প্রস্তাবনা | দিন ১-২: সংবিধান প্রণয়নের সব তথ্য। দিন ৩: “প্র রা মৌ নি আ বি নি ম বাং জ সং বি” মুখস্থ। দিন ৪-৫: প্রস্তাবনা মুখস্থ ও ১৭টি সংশোধনী তালিকা। দিন ৬-৭: রিভিশন + কুইজ। |
| ২য় সপ্তাহ (দিন ৮–১৪) | অনুচ্ছেদ ১–৪৭ (মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার) | প্রতিদিন ৫-৬টি অনুচ্ছেদ গল্পের পদ্ধতিতে পড়ুন। রাতে ঘুমানোর আগে সে দিনের অনুচ্ছেদ রিভিশন করুন। বন্ধুর সাথে কুইজ খেলুন। |
| ৩য় সপ্তাহ (দিন ১৫–২১) | অনুচ্ছেদ ৪৮–১১৭ (নির্বাহী + আইনসভা + বিচার বিভাগ) | রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার তুলনামূলক নোট তৈরি করুন। সংসদ সংক্রান্ত সংখ্যাগুলো (৩৫০, ৩০০, ৫০, কোরাম ৬০) আলাদা নোটে লিখুন। ৫ ধরনের রিট মুখস্থ করুন। |
| ৪র্থ সপ্তাহ (দিন ২২–৩০) | অনুচ্ছেদ ১১৮–১৫৩ + তফসিল + সামগ্রিক রিভিশন | ৭টি তফসিল পড়ুন। বিগত বিসিএস প্রশ্নপত্র সমাধান করুন। সংশোধনীর কারণ ও ফলাফল নোট করুন। সম্পূর্ণ গাইড শেষবার রিভিশন। |
৮ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও কৌশল
- পকেট সংবিধান সবসময় সাথে রাখুন। বাসে, অপেক্ষার সময় বা বিশ্রামে যেকোনো সুযোগে চোখ বুলান। সংবিধান গল্পের বইয়ের মতো পড়ুন।
- নিজেকে প্রতিদিন টেস্ট করুন। একটি ফাঁকা কাগজে ১–১৫৩ পর্যন্ত লিখে প্রতিটির পাশে বিষয়বস্তু লেখার চেষ্টা করুন। ভুলে গেলে হতাশ হবেন না।
- বন্ধুকে শেখান — Teaching is learning twice. যখন অন্যকে বোঝাবেন, আপনার নিজের বোঝার ঘাটতি ধরা পড়বে।
- সংশোধনীকে ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে যুক্ত করুন। ৮ম সংশোধনী = এরশাদ = রাষ্ট্রধর্ম। ১২তম = বিএনপি ১৯৯১ = সংসদীয় পদ্ধতি ফেরত। এই সংযোগ রাখলে মনে থাকে।
- সংখ্যাভিত্তিক তথ্য আলাদা নোটে রাখুন: ৩৫০ আসন, ৩০০ সাধারণ, ৫০ নারী, কোরাম ৬০, বয়স ১৮ (ভোটার), ২৫ (সংসদ সদস্য), ৩৫ (রাষ্ট্রপতি), ৬৭ (বিচারপতি), ৫ বছর (মেয়াদ)।
- লিখিত পরীক্ষায় প্রস্তাবনার কোটেশন ব্যবহার করুন — নীল কালিতে লিখলে পরীক্ষক বুঝবেন আপনি সংবিধান মুখস্থ রাখেন। এটা অতিরিক্ত নম্বর পেতে সহায়তা করে।
- ছন্দগুলো অডিও হিসেবে শুনুন। নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করুন এবং হাঁটার সময় শুনুন — শ্রবণ স্মৃতি (Auditory Memory) পড়ার স্মৃতির চেয়ে বেশি কার্যকর।
৯ দ্রুত রেফারেন্স — গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা
সংসদ সংক্রান্ত
- মোট আসন: ৩৫০
- সাধারণ আসন: ৩০০
- নারী সংরক্ষিত আসন: ৫০
- কোরাম: ৬০ জন (১/১০)
- অধিবেশনের ব্যবধান: ৬০ দিনের বেশি নয়
- সংশোধন: ২/৩ ভাগ সদস্যের ভোট
বয়সসীমা ও মেয়াদ
- ভোটার: ১৮ বছর+
- সংসদ সদস্য: ২৫ বছর+
- রাষ্ট্রপতি: ৩৫ বছর+
- বিচারপতি অবসর: ৬৭ বছর
- রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: ৫ বছর (সর্বোচ্চ ২ বার)
- জরুরি অবস্থা অনুমোদন: ১২০ দিনের মধ্যে
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- কমিটি গঠন: ১১ এপ্রিল ১৯৭২
- উত্থাপন: ১২ অক্টোবর ১৯৭২
- গৃহীত: ৪ নভেম্বর ১৯৭২
- কার্যকর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
- সর্বশেষ সংশোধনী: ৮ জুলাই ২০১৮
সংবিধানের পরিসংখ্যান
- মোট ভাগ: ১১টি
- মোট অনুচ্ছেদ: ১৫৩টি
- মোট তফসিল: ৭টি
- মোট সংশোধনী: ১৭টি
- খসড়া কমিটির বৈঠক: ২২৯টি
- সময় লেগেছে: ৯ মাস ১৮ দিন