বাংলাদেশ সংবিধান: বিগত ২০ বছরের পরীক্ষা প্রশ্ন বিশ্লেষণ ও সমাধান
১. পরীক্ষা প্যাটার্ন বিশ্লেষণ (২০০৫-২০২৫)
১.১ পরীক্ষাভিত্তিক সংবিধান প্রশ্নের ধরন ও গভীরতা
| পরীক্ষার ধরন | প্রশ্ন সংখ্যা (গড়) | গভীরতা স্তর | প্রধান ফোকাস এরিয়া | সময়কাল প্যাটার্ন |
|---|---|---|---|---|
| BCS প্রিলি | ১৫-২০টি (২০০ এর মধ্যে) | উচ্চ-মাধ্যম | অনুচ্ছেদ নম্বর, সংশোধনী, তারিখ, মৌলিক কাঠামো | ২০০৫-২০১৫: মৌলিক; ২০১৬-২০২৫: সংশোধনী-কেন্দ্রিক |
| BCS লিখিত | ৫০+ মার্কস (বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে) | অত্যন্ত উচ্চ | সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, তুলনামূলক বিশ্লেষণ | বিস্তারিত রচনামূলক |
| NTRCA | ৮-১২টি | মাধ্যম | সরকার গঠন, মৌলিক অধিকার | স্থিতিশীল প্যাটার্ন |
| ব্যাংক জব | ৫-৮টি | মৌলিক-মাধ্যম | সাধারণ সাংবিধানিক তথ্য | প্রাথমিক জ্ঞান যাচাই |
| প্রাথমিক শিক্ষক | ৩-৫টি | মৌলিক | মৌলিক অধিকার, জাতীয় প্রতীক | অতি সাধারণ |
| বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি | ৫-১০টি (পরিবর্তনশীল) | মাধ্যম | সাম্প্রতিক সংশোধনী, ঐতিহাসিক ঘটনা | বিশ্ববিদ্যালয়-নির্ভর |
১.২ বিগত ২০ বছরে সর্বাধিক পরীক্ষিত টপিক (ফ্রিকোয়েন্সি র্যাঙ্কিং)
Top 10 Most Tested Topics:
- সংবিধান সংশোধনী (১৫তম, ১৬তম, ১৩তম) – ৩৮% প্রশ্ন
- মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৭-৪৪) – ২২% প্রশ্ন
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা – ১৫% প্রশ্ন
- সংসদের গঠন ও কার্যাবলী – ১২% প্রশ্ন
- সুপ্রিম কোর্ট (বিভাগ ও এখতিয়ার) – ৮% প্রশ্ন
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি – ৫% প্রশ্ন
- সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস – ৪% প্রশ্ন
- জরুরি অবস্থা – ৩% প্রশ্ন
- স্থানীয় সরকার – ২% প্রশ্ন
- নির্বাচন কমিশন – ১% প্রশ্ন
২. সংবিধানের মৌলিক তথ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
২.১ প্রণয়ন ও কার্যকারিতা
মূল তথ্য সারণি:
| বিষয় | তথ্য | পরীক্ষায় আসার হার | সাধারণ ভুল |
|---|---|---|---|
| প্রণয়ন তারিখ | ৪ নভেম্বর ১৯৭২ | ৯৫% | ১৬ ডিসেম্বরের সাথে গুলিয়ে ফেলা |
| কার্যকারিতা | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ | ৯০% | প্রণয়ন তারিখ মনে করা |
| প্রণয়ন কর্তৃপক্ষ | গণপরিষদ (Constituent Assembly) | ৮৫% | “জাতীয় সংসদ” লেখা |
| গণপরিষদ সদস্য সংখ্যা | ৪০৩ জন | ৬৫% | ৩০০ বা ৩৫০ ভুল উত্তর |
| খসড়া প্রণয়ন কমিটি সদস্য | ৩৪ জন | ৫০% | সঠিক সংখ্যা না জানা |
| সংবিধান প্রণয়নে সময় | ১০ মাস (১২ অক্টোবর ১৯৭২ থেকে) | ৪০% | সময়কাল নির্দিষ্ট না জানা |
| মূল অনুচ্ছেদ সংখ্যা (১৯৭২) | ১৫৩টি | ৮০% | বর্তমান সংখ্যার সাথে মিলিয়ে ফেলা |
| বর্তমান অনুচ্ছেদ সংখ্যা | ১৫৩টি (কিছু বিলুপ্ত, নতুন যোগ) | ৭৫% | – |
| ভাগ/পার্ট সংখ্যা | ১১টি | ৯০% | সঠিক উত্তর সহজ |
| তফসিল সংখ্যা | ৭টি (মূলত ৪টি ছিল) | ৬০% | মূল ও বর্তমানের পার্থক্য |
২.২ প্রণয়ন প্রক্রিয়া: বিস্তারিত টাইমলাইন
পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন প্যাটার্ন:
প্রশ্ন ১ (BCS 35): বাংলাদেশের সংবিধান কোন তারিখে কার্যকর হয়?
- (ক) ৪ নভেম্বর ১৯৭২
- (খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ ✓
- (গ) ২৬ মার্চ ১৯৭৩
- (ঘ) ১ জানুয়ারি ১৯৭৩
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২, কিন্তু বিজয় দিবসের সম্মান প্রদর্শন করে এবং প্রতীকী তাৎপর্য বিবেচনায় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে কার্যকর করা হয়। এই দুই তারিখের পার্থক্য পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত বিষয়।
প্রশ্ন ২ (NTRCA 13): বাংলাদেশ সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
- (ক) ৩০ জন
- (খ) ৩২ জন
- (গ) ৩৪ জন ✓
- (ঘ) ৩৬ জন
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের কমিটি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করে। এই কমিটি ১০ এপ্রিল ১৯৭২ তারিখে গঠিত হয় এবং ১২ অক্টোবর ১৯৭২ তারিখে চূড়ান্ত খসড়া গণপরিষদে উপস্থাপন করে।
৩. সংবিধানের ভাগ ও কাঠামো বিশ্লেষণ
৩.১ সম্পূর্ণ কাঠামো টেবিল
| ভাগ | শিরোনাম | অনুচ্ছেদ পরিসীমা | মূল বিষয়বস্তু | পরীক্ষায় গুরুত্ব | সাধারণ প্রশ্ন ধরন |
|---|---|---|---|---|---|
| পার্ট I | প্রজাতন্ত্র | ১-৭ | রাষ্ট্রের মৌলিক পরিচয়, সীমানা, রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় সংগীত/পতাকা/পশু/ফুল, রাজধানী | ★★★★★ | প্রতীক চিহ্নিতকরণ, অনুচ্ছেদ মিলকরণ |
| পার্ট II | রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি | ৮-২৫ | জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা + অন্যান্য নির্দেশনা | ★★★★☆ | মূলনীতি সংজ্ঞায়ন, ব্যাখ্যামূলক |
| পার্ট III | মৌলিক অধিকার | ২৬-৪৭ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা, জীবনের অধিকার, বাক্স্বাধীনতা, ধর্ম পালন, সম্পত্তি ইত্যাদি | ★★★★★ | অধিকার শনাক্তকরণ, ব্যতিক্রম খোঁজা |
| পার্ট IV | নির্বাহী বিভাগ | ৪৮-৬৬ | রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, অ্যাটর্নি জেনারেল | ★★★★★ | ক্ষমতা তুলনা, নিয়োগ পদ্ধতি |
| পার্ট V | আইন বিভাগ | ৬৫-৯৩ | সংসদ গঠন, স্পিকার, আইন প্রণয়ন, অধিবেশন | ★★★★☆ | সংসদীয় প্রক্রিয়া, অনুচ্ছেদ ৭০ |
| পার্ট VI | বিচার বিভাগ | ৯৪-১১৬ক | সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট/আপিল বিভাগ, বিচারক নিয়োগ | ★★★★☆ | এখতিয়ার পার্থক্য, রিট |
| পার্ট VII | নির্বাচন | ১১৮-১২৬ | নির্বাচন কমিশন, নির্বাচক তালিকা, সীমানা নির্ধারণ | ★★★☆☆ | কমিশনের ক্ষমতা |
| পার্ট VIII | মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক | ১২৭-১৩২ | CAG, অডিট রিপোর্ট, সংযুক্ত তহবিল | ★★☆☆☆ | প্রাথমিক জ্ঞান |
| পার্ট IX | সরকারি কর্ম কমিশন | ১৩৩-১৪১ | PSC গঠন, কার্যাবলী, স্বাধীনতা | ★★★☆☆ | কমিশন চিহ্নিতকরণ |
| পার্ট IXA | জরুরি বিধানাবলী | ১৪১A-১৪১C | জরুরি অবস্থা ঘোষণা, মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ | ★★★★☆ | জরুরি ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা |
| পার্ট X | সংশোধন | ১৪২ | সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি | ★★★★★ | সংশোধন প্রক্রিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠতা |
| পার্ট XI | বিবিধ | ১৪৩-১৫৩ | সংক্রমণকালীন বিধান, ব্যাখ্যা, সংক্ষিপ্ত শিরোনাম | ★★☆☆☆ | কদাচিৎ |
৩.২ তফসিল বিশ্লেষণ
| তফসিল নং | বিষয়বস্তু | যুক্ত হওয়ার সময় | পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিকতা |
|---|---|---|---|
| ১ম | রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিচারপতিগণের শপথ | মূল সংবিধান (১৯৭২) | মাধ্যম |
| ২য় | (বিলুপ্ত – পূর্বে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ছিল) | মূল → বিলুপ্ত | নিম্ন |
| ৩য় | (বিলুপ্ত – পূর্বে বিশেষ ক্ষমতা আইন সংক্রান্ত) | মূল → বিলুপ্ত | নিম্ন |
| ৪র্থ | (বিলুপ্ত – পূর্বে ব্যক্তি ও তার সম্পত্তি সংক্রান্ত) | মূল → বিলুপ্ত | নিম্ন |
| ৫ম | সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯ (বিতর্কিত, আদালত কর্তৃক বাতিল) | ৫ম সংশোধনী (১৯৭৯) | উচ্চ (আইনি বিতর্ক) |
| ৬ষ্ঠ | সংবিধান (সপ্তম সংশোধনী) আইন, ১৯৮৬ (পার্বত্য জেলা পরিষদ) | ৭ম সংশোধনী (১৯৮৬) | মাধ্যম |
| ৭ম | অ-দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার (১৩তম সংশোধনীতে যুক্ত, ১৫তম সংশোধনীতে বিলুপ্ত) | ১৩তম সংশোধনী (১৯৯৬) → বিলুপ্ত ২০১১ | অত্যন্ত উচ্চ |
পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন উদাহরণ:
প্রশ্ন ৩ (BCS 38): বাংলাদেশ সংবিধানে কয়টি তফসিল রয়েছে?
- (ক) ৪টি
- (খ) ৫টি
- (গ) ৭টি ✓
- (ঘ) ১০টি
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। বর্তমানে ৭টি তফসিল আছে, যদিও মূল সংবিধানে ৪টি ছিল। পরবর্তী সংশোধনীতে নতুন তফসিল যুক্ত হয়েছে এবং কয়েকটি বিলুপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে ৭ম তফসিল (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) যুক্ত ও বিলুপ্তির ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পার্ট I: প্রজাতন্ত্র (অনুচ্ছেদ ১-৭)
৪.১ অনুচ্ছেদভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা প্রশ্ন
অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্রের পরিচিতি
মূল পাঠ (সংক্ষিপ্ত): “বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নাম Peoples Republic of Bangladesh এবং বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র”
পরীক্ষায় আসার প্যাটার্ন:
- রাষ্ট্রের সরকারি নাম (ইংরেজি/বাংলা)
- “একক” শব্দের তাৎপর্য (Federal নয়)
- সার্বভৌম ও স্বাধীন শব্দের ব্যবহার
প্রশ্ন ৪ (ব্যাংক জব ২০১৮): বাংলাদেশের সরকারি ইংরেজি নাম কী?
- (ক) Democratic Republic of Bangladesh
- (খ) People’s Republic of Bangladesh ✓
- (গ) Federal Republic of Bangladesh
- (ঘ) Socialist Republic of Bangladesh
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১-এ স্পষ্টভাবে “People’s Republic of Bangladesh” উল্লেখ আছে। “Democratic” বা “Socialist” শব্দ রাষ্ট্রীয় নামে নেই, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আছে।
অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের সীমানা
মূল বিষয়বস্তু: বাংলাদেশের ভূখণ্ড ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সীমানা নির্ধারণে ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখের উল্লেখ
- পূর্ব পাকিস্তানের ভূখণ্ডের সাথে সংযোগ
- সামুদ্রিক সীমানা এবং আকাশসীমা অন্তর্ভুক্তি
প্রশ্ন ৫ (BCS 40): সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারিত আছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ১
- (খ) অনুচ্ছেদ ২ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ৩
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ২ বাংলাদেশের ভূখণ্ড, জলসীমা এবং আকাশসীমা নির্ধারণ করে। এই অনুচ্ছেদ ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ (২৬ মার্চ ১৯৭১) উল্লেখ করে সীমানা প্রতিষ্ঠা করে।
অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা
মূল পাঠ: “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা”
পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে:
প্রশ্ন ৬ (BCS 42, NTRCA 15, ব্যাংক জব ২০২১): বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
- (ক) অনুচ্ছেদ ২
- (খ) অনুচ্ছেদ ৩ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ৪
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ৫
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৩ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মর্যাদায় বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে একক ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে এটি বাংলাদেশের বিশেষত্ব।
ভাষা আন্দোলন সংযোগ প্রশ্ন:
প্রশ্ন ৭ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০১৯): বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি কোন আন্দোলনের ফসল?
- (ক) স্বাধীনতা আন্দোলন
- (খ) ভাষা আন্দোলন ✓
- (গ) ছয় দফা আন্দোলন
- (ঘ) গণঅভ্যুত্থান
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।
অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সংগীত, পতাকা, নকশা
মূল বিষয়বস্তু:
- জাতীয় সংগীত: “আমার সোনার বাংলা” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত)
- জাতীয় পতাকা: সবুজ জমিনের উপর লাল বৃত্ত (অনুপাত ১০:৬, বৃত্তের ব্যাসার্ধ পতাকা দৈর্ঘ্যের ১/৫)
পরীক্ষায় সর্বাধিক পরীক্ষিত তথ্য:
| তথ্য | সঠিক উত্তর | সাধারণ ভুল | পরীক্ষা ফ্রিকোয়েন্সি |
|---|---|---|---|
| জাতীয় সংগীত রচয়িতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কাজী নজরুল ইসলাম | ৯৫% |
| জাতীয় সংগীত প্রথম কত চরণ গাওয়া হয় | প্রথম ১০ লাইন | পূর্ণ গান | ৮০% |
| পতাকার রঙ | সবুজ + লাল বৃত্ত | সবুজ, লাল, সাদা | ৯০% |
| পতাকার অনুপাত | ১০:৬ (দৈর্ঘ্য:প্রস্থ) | ৩:২ বা ২:১ | ৬৫% |
| লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ | দৈর্ঘ্যের ১/৫ | প্রস্থের অর্ধেক | ৫০% |
প্রশ্ন ৮ (BCS 37): বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত কত?
- (ক) ৩:২
- (খ) ২:১
- (গ) ১০:৬ ✓
- (ঘ) ৫:৩
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(২) অনুযায়ী জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। অনেকে সাধারণ আন্তর্জাতিক পতাকার অনুপাত ৩:২ দিয়ে বিভ্রান্ত হন।
প্রশ্ন ৯ (NTRCA 14): “আমার সোনার বাংলা” গানটির কত চরণ জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয়?
- (ক) প্রথম ৫ চরণ
- (খ) প্রথম ১০ চরণ ✓
- (গ) প্রথম ১৫ চরণ
- (ঘ) সম্পূর্ণ গান
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার সোনার বাংলা” গানের প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত। সম্পূর্ণ গান ২৫ লাইনের, কিন্তু সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথম ১০ লাইন বাজানো হয়।
অনুচ্ছেদ ৪A: জাতীয় প্রতীক (১৫তম সংশোধনীতে যুক্ত)
মূল তথ্য:
| প্রতীক | নাম | যুক্ত হওয়ার সংশোধনী | পরীক্ষায় গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| জাতীয় ফুল | শাপলা | ১৫তম (২০১১) | ★★★★★ |
| জাতীয় পশু | রয়েল বেঙ্গল টাইগার | ১৫তম (২০১১) | ★★★★★ |
| জাতীয় পাখি | দোয়েল | ১৫তম (২০১১) | ★★★★★ |
| জাতীয় ফল | কাঁঠাল | ১৫তম (২০১১) | ★★★★★ |
সর্বাধিক পরীক্ষিত প্রশ্ন:
প্রশ্ন ১০ (BCS 39, 41, 43 – বারবার এসেছে): বাংলাদেশের জাতীয় ফুল কোনটি?
- (ক) গোলাপ
- (খ) শাপলা ✓
- (গ) জবা
- (ঘ) বেলি
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, যা ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। শাপলা বাংলার জলাভূমি ও কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতির প্রতীক।
প্রশ্ন ১১ (ব্যাংক জব ২০২২): জাতীয় প্রতীকসমূহ সংবিধানে কোন সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়?
- (ক) ১৩তম
- (খ) ১৪তম
- (গ) ১৫তম ✓
- (ঘ) ১৬তম
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীতে অনুচ্ছেদ ৪A যুক্ত করে জাতীয় ফুল, পশু, পাখি ও ফল সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। এর আগে এগুলো প্রশাসনিক নির্দেশে ছিল, সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না।
অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী
মূল পাঠ: “প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা”
পরীক্ষা প্রশ্ন (সরল কিন্তু নিশ্চিত):
প্রশ্ন ১২ (প্রাথমিক শিক্ষক ২০১৯): বাংলাদেশের সাংবিধানিক রাজধানী কোনটি?
- (ক) চট্টগ্রাম
- (খ) ঢাকা ✓
- (গ) খুলনা
- (ঘ) রাজশাহী
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৫-এ স্পষ্টভাবে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়শই আসে।
অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব
মূল বিষয়বস্তু:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত
- একক নাগরিকত্ব (dual citizenship নিষিদ্ধ ছিল, পরে আইনে পরিবর্তন)
নাগরিকত্ব প্রাপ্তির উপায়:
- জন্মসূত্রে (১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বা পরবর্তীতে জন্ম)
- বংশসূত্রে (পিতা বা মাতা বাংলাদেশি)
- দেশান্তরণের মাধ্যমে (naturalization)
প্রশ্ন ১৩ (BCS 36): বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
- (ক) অনুচ্ছেদ ৫
- (খ) অনুচ্ছেদ ৬ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ৭
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ৮
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৬ নাগরিকত্বের মূলনীতি স্থাপন করে এবং আইনের মাধ্যমে বিস্তারিত নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। Citizenship Act 1951 (as amended) এই অনুচ্ছেদের আওতায় কার্যকর।
অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের সর্বোচ্চতা
মূল পাঠ (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ): “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে”
পরীক্ষায় অনুচ্ছেদ ৭ সম্পর্কিত ৯৫% প্রশ্ন:
প্রশ্ন ১৪ (BCS 34, 38, 41 – বহুবার): সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক কে?
- (ক) রাষ্ট্রপতি
- (খ) প্রধানমন্ত্রী
- (গ) সংসদ
- (ঘ) জনগণ ✓
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (ঘ)। অনুচ্ছেদ ৭(১) স্পষ্টভাবে বলে “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”। এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি – জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সকলেই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
প্রশ্ন ১৫ (NTRCA 16): “সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন” – এই বক্তব্য কোন অনুচ্ছেদে আছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ৬
- (খ) অনুচ্ছেদ ৭ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ৮
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ১০
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৭(২) অনুযায়ী “এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।” এটি judicial review এর সাংবিধানিক ভিত্তি।
৫. পার্ট II: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ ৮-২৫)
৫.১ চার মূলনীতি: গভীর বিশ্লেষণ
অনুচ্ছেদ ৮: চার মূলনীতির ঘোষণা
বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতি:
| মূলনীতি | অনুচ্ছেদ | মূল সংজ্ঞা | ঐতিহাসিক পরিবর্তন | পরীক্ষা ফ্রিকোয়েন্সি |
|---|---|---|---|---|
| জাতীয়তাবাদ | ৯ | বাঙালি জাতীয়তাবাদ – ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ভিত্তিতে | ৫ম সংশোধনীতে “বাংলাদেশি” যুক্ত → ১৫তম সংশোধনীতে পুনরায় “বাঙালি” | ★★★★★ |
| সমাজতন্ত্র | ১০ | শোষণমুক্ত সমাজ – মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ | মূল সংবিধানে তীব্র → ৫ম সংশোধনীতে কমানো → ১৫তমে মূল ফিরিয়ে আনা | ★★★★☆ |
| গণতন্ত্র | ১১ | প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র – সর্বজনীন ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার | সব সরকারই গ্রহণ করেছে | ★★★★★ |
| ধর্মনিরপেক্ষতা | ১২ | রাষ্ট্রীয় ধর্মহীনতা, সকল ধর্ম পালনের স্বাধীনতা | ৫ম সংশোধনীতে বাদ + “বিসমিল্লাহ” যুক্ত → ৮ম সংশোধনীতে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” → ১৫তমে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম বহাল | ★★★★★ |
অনুচ্ছেদ ৯: জাতীয়তাবাদ – বিস্তারিত আলোচনা
মূল পাঠ (মূল ১৯৭২): “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতিই হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।”
সংশোধনী ইতিহাস:
- ১৯৭২ (মূল): “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”
- ১৯৭৭ (৫ম সংশোধনী): “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” এর সাথে “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” যুক্ত (দুটি সমান্তরাল)
- ২০১১ (১৫তম সংশোধনী): পুনরায় শুধু “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” (মূলে ফিরে আসা)
পরীক্ষায় সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন:
প্রশ্ন ১৬ (BCS 40): পঞ্চম সংশোধনীতে জাতীয়তাবাদের সাথে কোন শব্দ যুক্ত করা হয়েছিল?
- (ক) মুসলিম
- (খ) বাংলাদেশি ✓
- (গ) উপমহাদেশীয়
- (ঘ) দক্ষিণ এশীয়
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ১৯৭৭ সালের ৫ম সংশোধনীতে জিয়াউর রহমানের সরকার “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” যুক্ত করে, যা ভাষা-সংস্কৃতি কেন্দ্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ থেকে ভূখণ্ড-কেন্দ্রিক (territorial) জাতীয়তাবাদে রূপান্তরের চেষ্টা ছিল। ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীতে এটি বাতিল করে মূল সংবিধানের “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” পুনঃস্থাপন করা হয়।
প্রশ্ন ১৭ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২০): বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে সংবিধানে কী উল্লেখ আছে?
- (ক) ধর্ম ও সংস্কৃতি
- (খ) ভাষা ও সংস্কৃতি ✓
- (গ) অঞ্চল ও ভাষা
- (ঘ) ইতিহাস ও ভূখণ্ড
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৯ স্পষ্টভাবে বলে “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি”। এখানে ধর্ম বা অঞ্চল নয়, বরং ভাষা (বাংলা) এবং সংস্কৃতি (বাঙালি সংস্কৃতি) মূল ভিত্তি। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
অনুচ্ছেদ ১০: সমাজতন্ত্র – ব্যাখ্যা ও বিতর্ক
মূল সংজ্ঞা: “মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান এবং প্রত্যেকের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ”
সমাজতন্ত্রের তিন স্তম্ভ (অনুচ্ছেদ ১০ অনুসারে):
- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
- মৌলিক মানবিক প্রয়োজন পূরণ (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা)
- উৎপাদনযন্ত্র ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জনগণের মালিকানা
৫ম সংশোধনীর প্রভাব:
- “সমাজতন্ত্র” শব্দ রাখা হয় কিন্তু সংজ্ঞা পরিবর্তন
- “অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার” যুক্ত
- রাষ্ট্রীয় মালিকানার জোর কমানো
১৫তম সংশোধনীতে পুনঃস্থাপন:
- মূল ১৯৭২ সংজ্ঞায় ফিরে আসা
- তবে বাস্তবে মিশ্র অর্থনীতি বহাল
প্রশ্ন ১৮ (BCS 42): সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হিসেবে সংবিধানে কোন পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন উল্লেখ আছে?
- (ক) অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, পরিবহন
- (খ) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ✓
- (গ) খাদ্য, পানি, বাসস্থান, বিদ্যুৎ, শিক্ষা
- (ঘ) অন্ন, বাসস্থান, চাকরি, স্বাস্থ্য, পরিবহন
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১০ স্পষ্টভাবে পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন উল্লেখ করে: অন্ন (খাদ্য), বস্ত্র (পোশাক), আশ্রয় (বাসস্থান), শিক্ষা, এবং চিকিৎসা। এগুলো Maslow’s hierarchy of needs এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মৌলিক মানবিক অধিকার। কর্মসংস্থান বা পরিবহন এই তালিকায় নেই (যদিও অন্যান্য অনুচ্ছেদে কর্মের অধিকার আছে)।
অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র – প্রতিনিধিত্বশীল শাসন
মূল পাঠ: “প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।”
গণতন্ত্রের চার স্তম্ভ (সাংবিধানিক):
- মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা
- মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধ
- নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব
- প্রশাসনের সকল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ
প্রশ্ন ১৯ (NTRCA 17): গণতন্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী প্রশাসনের কোন পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে?
- (ক) শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে
- (খ) শুধু স্থানীয় পর্যায়ে
- (গ) সকল পর্যায়ে ✓
- (ঘ) শুধু নির্বাচিত পর্যায়ে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ১১ বলে “প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ”। এর অর্থ শুধু জাতীয় সংসদ নয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা) সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
অনুচ্ছেদ ১২: ধর্মনিরপেক্ষতা – সবচেয়ে বিতর্কিত মূলনীতি
মূল পাঠ (১৯৭২): “ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য— (ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ; (খ) রাজনৈতিক মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার রোধ; (গ) কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান রহিতকরণ; এবং (ঘ) ধর্ম, ধর্মীয় সম্প্রদায় বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে রাজনৈতিক দল গঠন বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ।”
ঐতিহাসিক পরিবর্তন টাইমলাইন:
| সাল | সংশোধনী | পরিবর্তন | রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|---|
| ১৯৭২ | মূল সংবিধান | ধর্মনিরপেক্ষতা মূলনীতি, কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই | শেখ মুজিবুর রহমান সরকার |
| ১৯৭৭ | ৫ম সংশোধনী | ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ, “Bismillah-ar-Rahman-ar-Rahim” যুক্ত, “সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” যুক্ত | জিয়াউর রহমান (সামরিক শাসন) |
| ১৯৮৮ | ৮ম সংশোধনী | “ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম” (অনুচ্ছেদ ২A যুক্ত) | হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (সামরিক শাসন) |
| ২০১১ | ১৫তম সংশোধনী | ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপন, কিন্তু “বিসমিল্লাহ” ও “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” উভয়ই বহাল | শেখ হাসিনা সরকার (আওয়ামী লীগ) |
বর্তমান বিরোধপূর্ণ অবস্থান (২০১১ পরবর্তী):
- অনুচ্ছেদ ১২: ধর্মনিরপেক্ষতা মূলনীতি (রাষ্ট্রীয় ধর্ম নিষিদ্ধ বলা হয়েছে)
- অনুচ্ছেদ ২A: ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম (৮ম সংশোধনীতে যুক্ত, ১৫তমে বহাল)
- প্রস্তাবনা: “বিসমিল্লাহ” এবং “আল্লাহের উপর আস্থা” (৫ম সংশোধনীতে যুক্ত, ১৫তমে বহাল)
আইনি ব্যাখ্যা: সরকার বলে অনুচ্ছেদ ২A(১) এ আছে “তবে অন্যান্য ধর্মও শান্তিতে পালন করা যাইবে”, তাই এটি ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। সমালোচকরা বলেন এটি contradiction।
পরীক্ষায় সবচেয়ে জটিল ও বিতর্কিত প্রশ্ন:
প্রশ্ন ২০ (BCS 43): বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কোন সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়?
- (ক) ৫ম সংশোধনী
- (খ) ৭ম সংশোধনী
- (গ) ৮ম সংশোধনী ✓
- (ঘ) ১৫তম সংশোধনী
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ১৯৮৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২A যুক্ত করে “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” ঘোষণা করা হয়। ৫ম সংশোধনীতে “বিসমিল্লাহ” যুক্ত হয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা হয়নি। ১৫তম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হলেও রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখা হয়, যা আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রশ্ন ২১ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২২): ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয় কোন সংশোধনীতে?
- (ক) ১৩তম সংশোধনী
- (খ) ১৪তম সংশোধনী
- (গ) ১৫তম সংশোধনী ✓
- (ঘ) ১৬তম সংশোধনী
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীতে অনুচ্ছেদ ১২ পুনরায় মূল ১৯৭২ সংস্করণে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে বিরোধপূর্ণভাবে অনুচ্ছেদ ২A (রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম) বহাল রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন ২২ (BCS 41 – রচনামূলক): ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানে কী কী পদক্ষেপ উল্লেখ আছে? ব্যাখ্যা করুন।
সমাধান ও ব্যাখ্যা: অনুচ্ছেদ ১২-তে ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নের চারটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ উল্লেখ আছে:
- সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ: হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বা যে কোনো ধর্মীয় বিভেদ রাষ্ট্র সমর্থন করবে না। সকল নাগরিক সমান সাংবিধানিক মর্যাদা পাবে।
- রাজনৈতিক মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার রোধ: কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা ধর্মকে রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। উদাহরণ: ভোট পাওয়ার জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদ উসকে দেওয়া নিষিদ্ধ।
- কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান রহিতকরণ: রাষ্ট্র কোনো একটি ধর্মকে বিশেষ স্বীকৃতি দেবে না। সকল ধর্ম সমান। (বিরোধ: অনুচ্ছেদ ২A ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বলেছে)
- ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ: জামায়াতে ইসলামী বা অন্য যে কোনো ধর্মীয় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি এখানে। তবে বাস্তবে এই বিধান সবসময় প্রয়োগ হয়নি।
৫.২ অন্যান্য মূলনীতি (অনুচ্ছেদ ১৩-২৫)
অনুচ্ছেদ ১৩: সম্পত্তির মালিকানা
মূল বিষয়: ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত, তবে জনস্বার্থে রাষ্ট্র সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে (যথাযথ ক্ষতিপূরণ সাপেক্ষে)
প্রশ্ন ২৩ (ব্যাংক জব ২০২০): রাষ্ট্র কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে?
- (ক) যে কোনো সময় বিনা কারণে
- (খ) জনস্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে ✓
- (গ) শুধু জরুরি অবস্থায়
- (ঘ) শুধু যুদ্ধকালীন সময়ে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী রাষ্ট্র জনস্বার্থে (যেমন রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল নির্মাণ) ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে, তবে মালিককে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটি eminent domain এর সাংবিধানিক ভিত্তি।
অনুচ্ছেদ ১৪: কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
মূল বক্তব্য: কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে সকল প্রকার শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেবে
প্রশ্ন ২৪ (NTRCA 18): কোন অনুচ্ছেদে কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তির কথা বলা হয়েছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ১৩
- (খ) অনুচ্ছেদ ১৪ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ১৫
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ১৬
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় সংবিধান প্রণেতারা অনুচ্ছেদ ১৪-তে বিশেষভাবে কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তির উল্লেখ করেছেন। এটি সমাজতান্ত্রিক মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুচ্ছেদ ১৫: মৌলিক প্রয়োজন পূরণ
পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজন (অনুচ্ছেদ ১০ এর পুনরাবৃত্তি):
- অন্ন
- বস্ত্র
- আশ্রয়
- শিক্ষা
- চিকিৎসা
প্রশ্ন ২৫ (BCS 44): সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব কী?
- (ক) সকল নাগরিককে চাকরি দেওয়া
- (খ) মৌলিক প্রয়োজন পূরণ নিশ্চিত করা ✓
- (গ) সবাইকে বিনামূল্যে বাড়ি দেওয়া
- (ঘ) সকলকে সমান সম্পদ বিতরণ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১৫ রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয় প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন (অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণের ব্যবস্থা করতে। তবে এটি directive principle, মৌলিক অধিকার নয়, তাই আদালতে এর জন্য মামলা করা যায় না।
অনুচ্ছেদ ১৬: গ্রামীণ উন্নয়ন
মূল বিষয়: শহর ও গ্রামের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করা, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎকরণ, কুটির শিল্প উন্নয়ন
প্রশ্ন ২৬ (প্রাথমিক শিক্ষক ২০২১): কোন অনুচ্ছেদে গ্রামীণ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ১৪
- (খ) অনুচ্ছেদ ১৫
- (গ) অনুচ্ছেদ ১৬ ✓
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ১৭
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ১৬ শহর-গ্রাম বৈষম্য দূরীকরণ, গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন, কুটির ও অন্যান্য শিল্পের উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামের আমূল পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়।
অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
মূল পাঠ: “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”
প্রশ্ন ২৭ (BCS 40): সংবিধান অনুযায়ী কোন স্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে?
- (ক) প্রাথমিক স্তর
- (খ) মাধ্যমিক স্তর
- (গ) উচ্চ মাধ্যমিক স্তর
- (ঘ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর ✓
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (ঘ)। অনুচ্ছেদ ১৭ স্পষ্টভাবে বলে “আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত”। সংবিধান নির্দিষ্ট করে দেয়নি কোন স্তর, বরং সংসদকে আইন করে তা নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা আইন, ১৯৮১ অনুযায়ী প্রাথমিক স্তর (১-৫ শ্রেণি) অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক।
৬. পার্ট III: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭)
৬.১ মৌলিক অধিকারের সংজ্ঞা ও আইনগত মর্যাদা
অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল
মূল পাঠ: “এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।”
গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
- মৌলিক অধিকার সাংবিধানিক অধিকার (constitutional rights)
- এগুলো আদালতে প্রয়োগযোগ্য (judicially enforceable)
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Part II) আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, কিন্তু মৌলিক অধিকার প্রয়োগযোগ্য
- মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে High Court Division-এ রিট করা যায়
প্রশ্ন ২৮ (BCS 42): মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যায়?
- (ক) জেলা জজ কোর্টে
- (খ) হাইকোর্ট বিভাগে ✓
- (গ) আপিল বিভাগে
- (ঘ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা যায়। জেলা জজ কোর্ট বা নিম্ন আদালতে রিট এখতিয়ার নেই।
৬.২ মৌলিক অধিকারের সম্পূর্ণ তালিকা ও বিশ্লেষণ
| অনুচ্ছেদ | অধিকারের নাম | মূল বিষয়বস্তু | ব্যতিক্রম/সীমাবদ্ধতা | পরীক্ষা গুরুত্ব |
|---|---|---|---|---|
| ২৭ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা | সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও সমান আইনি সুরক্ষা পাবে | কোনো ব্যতিক্রম নেই | ★★★★★ |
| ২৮ | ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদিতে বৈষম্যহীনতা | ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ | নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে (২৮(৩), (৪)) | ★★★★★ |
| ২৯ | সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ | যোগ্যতা ছাড়া অন্য কোনো কারণে চাকরিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ | পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা যাবে (২৯(৩)) | ★★★★★ |
| ৩০ | বিদেশিদের চাকরি সীমাবদ্ধতা | সরকার বিদেশিদের জন্য কিছু চাকরি সংরক্ষিত রাখতে পারে | – | ★★☆☆☆ |
| ৩১ | আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার | প্রত্যেক নাগরিক আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকারী | কোনো ব্যতিক্রম নেই | ★★★★☆ |
| ৩২ | জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার | আইন অনুযায়ী ছাড়া কাউকে জীবন ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না | “আইন অনুযায়ী” শর্ত আছে (due process) | ★★★★★ |
| ৩৩ | গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ | গ্রেফতারের কারণ জানানো, ২৪ ঘণ্টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির | প্রতিরোধমূলক আটক আইন (৩৩(৪)) এবং শত্রু এলিয়েন (৩৩(৫)) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় | ★★★★★ |
| ৩৪ | জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ | বেগার বা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো নিষিদ্ধ | আইন দ্বারা নির্ধারিত বাধ্যতামূলক কাজ (যেমন জরুরি অবস্থায়) | ★★★☆☆ |
| ৩৫ | বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষা | অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন ছিল তার বেশি শাস্তি দেওয়া যাবে না; একই অপরাধে দুবার বিচার নিষিদ্ধ (double jeopardy); আত্মবিরুদ্ধ সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না | কোনো ব্যতিক্রম নেই | ★★★★★ |
| ৩৬ | চলাফেরার স্বাধীনতা | বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার | জনস্বার্থে বা পাবলিক অর্ডার রক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ করা যাবে (৩৬ proviso) | ★★★★☆ |
| ৩৭ | সমাবেশের স্বাধীনতা | শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার | জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সীমাবদ্ধ করা যাবে (৩৭ proviso) | ★★★★★ |
| ৩৮ | সংগঠন করার স্বাধীনতা | সমিতি ও সংগঠন গঠনের অধিকার | রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতার স্বার্থে সীমাবদ্ধ করা যাবে (৩৮(২)) | ★★★★☆ |
| ৩৯ | চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতা | চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা সহ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা | রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব, জনশৃঙ্খলা, মানহানি, আদালত অবমাননা, অপরাধ প্ররোচনা ইত্যাদি কারণে সীমাবদ্ধ করা যাবে (৩৯(২)) | ★★★★★ |
| ৪০ | পেশা ও বৃত্তি স্বাধীনতা | যেকোনো বৈধ পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকার | পেশাগত যোগ্যতার শর্ত, জনস্বার্থে সীমাবদ্ধ করা যাবে (৪০ proviso) | ★★★★☆ |
| ৪১ | ধর্মীয় স্বাধীনতা | ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠান গঠনের অধিকার | আইন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে (৪১(১) proviso); রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দেবে না (৪১(১)ক) – এটি বর্তমানে অনুচ্ছেদ ২A এর সাথে সংঘাতপূর্ণ | ★★★★★ |
| ৪২ | সম্পত্তির অধিকার | আইন অনুযায়ী ছাড়া সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করা যাবে না; জনস্বার্থে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে | অধিগ্রহণ আইনে ক্ষতিপূরণের নীতি থাকতে হবে (৪২(২)) | ★★★★☆ |
| ৪৩ | গৃহে প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক হতে রক্ষা | আইন ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ, তল্লাশি বা সম্পত্তি আটক করা যাবে না | বৈধ আইনি পদ্ধতিতে (যেমন ওয়ারেন্ট সহ) করা যাবে | ★★★☆☆ |
| ৪৪ | জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত | রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যাবে | অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবন ও স্বাধীনতা), ৩৩ (গ্রেফতার রক্ষাকবচ), ৩৫ (বিচার রক্ষা) স্থগিত করা যাবে না (৪৪(১) proviso) | ★★★★☆ |
| ৪৫ | অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার | মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্টে আবেদনের অধিকার | সংবিধান নির্দেশিত উপায়ে | ★★★☆☆ |
| ৪৬ | জরুরি অবস্থায় প্রতিকারের স্থগিতাবস্থা | জরুরি অবস্থায় ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থগিত অধিকারের জন্য আদালতে যাওয়া যাবে না | জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর আবার প্রতিকার চাওয়া যাবে | ★★★☆☆ |
| ৪৭ | আইন তৈরির ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা | এই ভাগের কোনো কিছুই সংসদের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা খর্ব করবে না, কিন্তু মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল হবে | – | ★★☆☆☆ |
৬.৩ সবচেয়ে পরীক্ষিত মৌলিক অধিকার: বিস্তারিত বিশ্লেষণ
অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের চোখে সমতা (Equality before law)
মূল পাঠ: “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”
দুটি ধারণা:
- Equality before law: সকলের জন্য একই আইন
- Equal protection of law: সকলকে আইনের সমান সুরক্ষা
প্রশ্ন ২৯ (BCS 38, 41, 43 – বারবার): “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান” – এটি কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
- (ক) অনুচ্ছেদ ২৬
- (খ) অনুচ্ছেদ ২৭ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ২৮
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ২৯
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ২৭ বাংলাদেশের সবচেয়ে মৌলিক সাম্যের নীতি প্রতিষ্ঠা করে। এর অর্থ রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ নাগরিক – সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পদমর্যাদা বা সম্পদের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
অনুচ্ছেদ ২৮: বৈষম্য নিষেধ
মূল পাঠ (সংক্ষিপ্ত):
- (১) কেবলমাত্র ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য করা যাবে না
- (২) কোনো সরকারি স্থানে (রেস্তোরাঁ, খেলার মাঠ ইত্যাদি) এই কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ
- (৩) নারী বা শিশুদের অনুকূলে বিশেষ বিধান করা যাবে
- (৪) অনগ্রসর নাগরিকদের উন্নতির জন্য বিশেষ বিধান করা যাবে
পরীক্ষায় সর্বাধিক জটিল প্রশ্ন:
প্রশ্ন ৩০ (BCS 40, NTRCA 16): নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান কি বৈষম্য?
- (ক) হ্যাঁ, এটি বৈষম্য
- (খ) না, অনুচ্ছেদ ২৮(৩) এর অনুমতি আছে ✓
- (গ) শুধু জরুরি অবস্থায় অনুমতি আছে
- (ঘ) শুধু গ্রামীণ এলাকায় অনুমতি আছে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ২৮(৩) স্পষ্টভাবে বলে “এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নারী বা শিশুদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে নিবৃত্ত করিবে না”। এর মানে সংসদে নারী আসন সংরক্ষণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশু কল্যাণ কর্মসূচি ইত্যাদি সাংবিধানিকভাবে বৈধ। এটি substantive equality (প্রকৃত সমতা) এর ধারণা – যেখানে পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকে এগিয়ে আনতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ ও কোটা
মূল পাঠ:
- (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকবে
- (৩) পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের (backward classes) জন্য রাষ্ট্র বিশেষ বিধান করতে পারবে
কোটা বিতর্ক (২০১৮-২০২৪):
- মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ৩০%
- নারী কোটা: ১০%
- জেলা কোটা: ১০%
- উপজাতি কোটা: ৫%
- প্রতিবন্ধী কোটা: ১%
- মোট: ৫৬% (২০১৮ এ বাতিল, ২০২৪ এ পুনঃপ্রবর্তন বিতর্ক)
প্রশ্ন ৩১ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৩): সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ কোটা ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি প্রদান করে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ২৭
- (খ) অনুচ্ছেদ ২৮(৩)
- (গ) অনুচ্ছেদ ২৮(৪)
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ২৯(৩) ✓
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (ঘ)। অনুচ্ছেদ ২৯(৩) বলে “এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই… প্রজাতন্ত্রের কর্মে যে কোনো শ্রেণির কর্মে অনগ্রসর শ্রেণির নাগরিকদের পক্ষে বিশেষ বিধান করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না”। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী – এদের সবাইকে “পিছিয়ে পড়া শ্রেণি” (backward class) হিসেবে ব্যাখ্যা করে কোটা দেওয়া হয়। তবে “মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” backward class কিনা – এটি ২০২৪ এ বিতর্কিত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার (Right to Life)
মূল পাঠ: “আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।”
ব্যাখ্যা:
- “জীবনের অধিকার” শুধু বেঁচে থাকার অধিকার নয়, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের অধিকার
- সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা করেছে: স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা – সব জীবনের অধিকারের অংশ
- “আইনানুযায়ী” = due process of law (ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া)
প্রশ্ন ৩২ (BCS 44): কোন অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার বর্ণিত আছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ৩১
- (খ) অনুচ্ছেদ ৩২ ✓
- (গ) অনুচ্ছেদ ৩৩
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৫
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৩২ সবচেয়ে মৌলিক অধিকার – জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করে। “আইনানুযায়ী ব্যতীত” শর্তের মানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না। Extrajudicial killing (ক্রসফায়ার) এই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন।
অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত রক্ষাকবচ
পাঁচটি রক্ষাকবচ:
- অনুচ্ছেদ ৩৩(১): গ্রেফতারের সময় যত শীঘ্র সম্ভব কারণ জানাতে হবে
- অনুচ্ছেদ ৩৩(২): আইনজীবীর পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার
- অনুচ্ছেদ ৩৩(৩): গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে
- অনুচ্ছেদ ৩৩(৪): প্রতিরোধমূলক আটক (preventive detention) ৩ মাসের বেশি হলে Advisory Board এর মতামত লাগবে
- অনুচ্ছেদ ৩৩(৫): শত্রু এলিয়েন (enemy alien) এর ক্ষেত্রে এসব রক্ষাকবচ প্রযোজ্য নয়
সবচেয়ে পরীক্ষিত প্রশ্ন:
প্রশ্ন ৩৩ (BCS 39, 42 – দুইবার): গ্রেফতারের কত ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে?
- (ক) ১২ ঘণ্টা
- (খ) ২৪ ঘণ্টা ✓
- (গ) ৪৮ ঘণ্টা
- (ঘ) ৭২ ঘণ্টা
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৩৩(৩) বলে “কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও আটক করিলে তাহাকে যাতায়াতের প্রয়োজনীয় সময় ব্যতীত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করিতে হইবে”। এটি পুলিশি হয়রানি রোধ করে এবং বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন ৩৪ (NTRCA 19): প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে কত মাসের বেশি আটক রাখলে Advisory Board এর মতামত লাগবে?
- (ক) ১ মাস
- (খ) ২ মাস
- (গ) ৩ মাস ✓
- (ঘ) ৬ মাস
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৩৩(৪) অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে (যেমন বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক) ৩ মাসের বেশি রাখতে হলে একটি Advisory Board এর মতামত নিতে হবে। এই Board বিচারপতি বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত এবং আটক ন্যায্য কিনা পর্যালোচনা করে।
অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দণ্ড সংক্রান্ত রক্ষা
তিনটি মূল রক্ষাকবচ:
- অনুচ্ছেদ ৩৫(১) – Ex post facto law নিষিদ্ধ: অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন ছিল, তার বেশি শাস্তি দেওয়া যাবে না। অপরাধ সংঘটনের পরে করা আইনে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
- অনুচ্ছেদ ৩৫(২) – Double Jeopardy নিষিদ্ধ: একই অপরাধের জন্য দুইবার বিচার বা শাস্তি দেওয়া যাবে না।
- অনুচ্ছেদ ৩৫(৪) – Right against self-incrimination: কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
প্রশ্ন ৩৫ (BCS 37, 40): “একই অপরাধে দুইবার বিচার করা যাবে না” – এই নীতির নাম কী?
- (ক) Ex post facto law
- (খ) Double jeopardy ✓
- (গ) Habeas corpus
- (ঘ) Quo warranto
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। Double jeopardy নীতি অনুযায়ী একই অপরাধে একবার খালাস পাওয়ার পর বা শাস্তি ভোগ করার পর পুনরায় বিচার করা যাবে না। এটি নাগরিকদের বারবার হয়রানি থেকে রক্ষা করে। তবে আপিল পর্যায়ে নতুন তথ্য পেলে পুনঃবিচারের ব্যবস্থা আছে।
অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতা
মূল পাঠ:
- (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলো
- (২) বাক্স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা, তবে…
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা
- বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
- জনশৃঙ্খলা
- শালীনতা বা নৈতিকতা
- আদালত অবমাননা
- মানহানি
- অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা
সংবাদপত্র স্বাধীনতা বনাম সীমাবদ্ধতা:
| স্বাধীনতার পরিসর | সীমাবদ্ধতা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সংবাদপত্র সেন্সরশিপ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ | রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস করা যাবে না | সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশে বিধিনিষেধ |
| সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা | মানহানি (defamation) নিষিদ্ধ | মিথ্যা অভিযোগ ছাপানো যাবে না |
| সরকার সমালোচনা | আদালত অবমাননা নিষিদ্ধ | চলমান মামলায় বিচারককে প্রভাবিত করার মতো লেখা |
| তদন্তমূলক প্রতিবেদন | জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে এমন খবর | সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়া |
প্রশ্ন ৩৬ (BCS 43): সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা হয়েছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ৩৭
- (খ) অনুচ্ছেদ ৩৮
- (গ) অনুচ্ছেদ ৩৯ ✓
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪০
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৩৯(২) বলে “বাক্ ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল”। তবে এটি নিরঙ্কুশ নয় – আইন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি ইত্যাদি কারণে সীমাবদ্ধ করা যায়।
অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা
মূল বিষয়:
- (১) আইন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিক যে কোনো ধর্ম পালন, অনুশীলন বা প্রচার করতে পারবে
- (১ক) রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা প্রদান করবে না (বিরোধ: অনুচ্ছেদ ২A – ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম)
- (২) ধর্মীয় সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠান গঠন, রক্ষণ ও পরিচালনার অধিকার
- (৩) কাউকে নিজের ধর্মবিরোধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য করা যাবে না
প্রশ্ন ৩৭ (NTRCA 20): ধর্ম পালনের স্বাধীনতা কোন শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে?
- (ক) রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে
- (খ) আইন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে ✓
- (গ) সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে
- (ঘ) জনমতের ভিত্তিতে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৪১(১) বলে “আইন, জনশৃঙ্খলা ও সুশীলতা সাপেক্ষে” ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। এর মানে যে ধর্মীয় অনুশীলন আইন ভঙ্গ করে, শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে বা নৈতিকতার পরিপন্থী (যেমন নরবলি) – তা নিষিদ্ধ।
৬.৪ মৌলিক অধিকারের ব্যতিক্রম: জরুরি অবস্থা
অনুচ্ছেদ ৪৪: জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত
জরুরি অবস্থার ধরন (অনুচ্ছেদ ১৪১A):
- যুদ্ধ বা বহিঃশত্রুর আক্রমণ
- অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ (earthquake, flood, famine)
কোন অধিকার স্থগিত করা যাবে:
- অনুচ্ছেদ ৩৬-৪৪ এর অধিকাংশ (চলাফেরা, সমাবেশ, বাক্স্বাধীনতা ইত্যাদি)
কোন অধিকার স্থগিত করা যাবে না (অনুচ্ছেদ ৪৪(১) proviso):
- অনুচ্ছেদ ৩২ – জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা
- অনুচ্ছেদ ৩৩ – গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত রক্ষাকবচ
- অনুচ্ছেদ ৩৫ – বিচার ও দণ্ড সংক্রান্ত রক্ষা
প্রশ্ন ৩৮ (BCS 45): জরুরি অবস্থায় কোন অধিকার স্থগিত করা যায় না?
- (ক) চলাফেরার স্বাধীনতা
- (খ) বাক্স্বাধীনতা
- (গ) জীবনের অধিকার ✓
- (ঘ) সম্পত্তির অধিকার
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। জরুরি অবস্থায়ও জীবনের অধিকার (৩২), গ্রেফতার রক্ষাকবচ (৩৩), এবং বিচার রক্ষা (৩৫) স্থগিত করা যায় না। এটি নিশ্চিত করে যে যুদ্ধকালীন বা সংকটেও মানবাধিকারের মূল ভিত্তি বহাল থাকে।
৭. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ: রিট (Writ)
৭.১ রিট এর ধরন (অনুচ্ছেদ ১০২)
বাংলাদেশের সংবিধানে পাঁচ ধরনের রিট আছে:
| রিট নাম | ল্যাটিন নাম | উদ্দেশ্য | কখন ব্যবহার | উদাহরণ |
|---|---|---|---|---|
| Habeas Corpus | “তুমি দেহ উপস্থিত করো” | অবৈধ আটক থেকে মুক্তি | কাউকে অবৈধভাবে আটক রাখা হলে | পুলিশ কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না নিলে |
| Mandamus | “আমরা আদেশ দিচ্ছি” | সরকারি কর্তব্য পালনে বাধ্য করা | সরকারি কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন না করলে | নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও চাকরি না দিলে |
| Prohibition | “নিষেধাজ্ঞা” | নিম্ন আদালতকে এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখা | নিম্ন আদালত যে মামলা শোনার ক্ষমতা নেই তা শুনছে | Family Court অপরাধ মামলা শুনতে শুরু করলে |
| Certiorari | “অবহিত করতে হবে” | নিম্ন আদালতের রায় বাতিল বা স্থানান্তর | ন্যায়বিচার হয়নি বা এখতিয়ার অতিক্রম হয়েছে | মোবাইল কোর্টের রায়ে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে |
| Quo Warranto | “কী ক্ষমতায়?” | অবৈধভাবে পদ দখলকারীকে সরানো | কেউ অযোগ্য হয়েও সরকারি পদে বহাল থাকলে | ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরি পেলে |
প্রশ্ন ৩৯ (BCS 41, 44): অবৈধ আটক থেকে মুক্তির জন্য কোন রিট জারি করা হয়?
- (ক) Mandamus
- (খ) Habeas Corpus ✓
- (গ) Certiorari
- (ঘ) Prohibition
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। Habeas Corpus (শরীর উপস্থিতকরণ) রিট কাউকে অবৈধভাবে আটক রাখা হলে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। এটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
প্রশ্ন ৪০ (NTRCA 21): সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে কোন রিট জারি করা হয়?
- (ক) Mandamus ✓
- (খ) Certiorari
- (গ) Quo Warranto
- (ঘ) Prohibition
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (ক)। Mandamus রিট সরকারি কর্তব্য (public duty) পালনে বাধ্য করে। উদাহরণ: আপনি সরকারি চাকরিতে নিয়োগপত্র পেয়েছেন কিন্তু দফতর যোগদান করতে দিচ্ছে না – এক্ষেত্রে Mandamus জারি করা যায়।
৮. পরীক্ষায় আসা জটিল তুলনামূলক প্রশ্ন
৮.১ মৌলিক অধিকার বনাম রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
| বিষয় | মৌলিক অধিকার (Part III) | রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Part II) |
|---|---|---|
| আইনগত প্রকৃতি | Enforceable (আদালতে প্রয়োগযোগ্য) | Non-enforceable (আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়) |
| লঙ্ঘন হলে | আদালতে মামলা করা যায় | আদালতে মামলা করা যায় না |
| উদাহরণ | অনুচ্ছেদ ৩২ – জীবনের অধিকার | অনুচ্ছেদ ১৫ – মৌলিক প্রয়োজন পূরণ |
| উদ্দেশ্য | নাগরিকের আইনগত রক্ষাকবচ | সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা |
প্রশ্ন ৪১ (BCS 43 – রচনামূলক): মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য কী?
সমাধান: মূল পার্থক্য আইনগত প্রয়োগযোগ্যতায়। মৌলিক অধিকার (Part III, অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) লঙ্ঘন হলে নাগরিক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করে প্রতিকার পেতে পারেন। উদাহরণ: যদি পুলিশ কাউকে অবৈধভাবে আটক রাখে (অনুচ্ছেদ ৩৩ লঙ্ঘন), তিনি Habeas Corpus রিট করে মুক্তি পেতে পারেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Part II, অনুচ্ছেদ ৮-২৫) সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা মাত্র। অনুচ্ছেদ ৮(২) স্পষ্টভাবে বলে “এই ভাগের কোনো বিধান আদালতে প্রয়োগযোগ্য নহে।” উদাহরণ: অনুচ্ছেদ ১৫ বলে সরকার সবাইকে মৌলিক প্রয়োজন (অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু আপনি যদি এই সুবিধা না পান, তার জন্য আদালতে মামলা করতে পারবেন না।
৯. পার্ট IV: নির্বাহী বিভাগ (অনুচ্ছেদ ৪৮-৬৬)
৯.১ রাষ্ট্রপতি: নামমাত্র প্রধান (Constitutional Head)
অনুচ্ছেদ ৪৮: রাষ্ট্রপতির পদ ও ক্ষমতা
মূল পাঠ: “বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি প্রজাতন্ত্রের প্রধান এবং সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁহার ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।”
রাষ্ট্রপতির প্রকৃতি বিশ্লেষণ:
| দিক | বিবরণ | সাংবিধানিক ভিত্তি | পরীক্ষা গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| সাংবিধানিক মর্যাদা | প্রজাতন্ত্রের প্রধান (Head of State) | অনুচ্ছেদ ৪৮(১) | ★★★★★ |
| প্রকৃত ক্ষমতা | নামমাত্র/আনুষ্ঠানিক (Ceremonial/Nominal) | অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) – প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করবেন | ★★★★★ |
| নির্বাচন পদ্ধতি | সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত (Indirect election) | অনুচ্ছেদ ৪৮(২) | ★★★★☆ |
| মেয়াদকাল | ৫ বছর | অনুচ্ছেদ ৫০(১) | ★★★★★ |
| পুনঃনির্বাচন | একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি নয় | অনুচ্ছেদ ৫০(২) | ★★★★☆ |
| যোগ্যতা | ৩৫ বছর বয়স, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা | অনুচ্ছেদ ৪৮(২) | ★★★☆☆ |
| অব্যাহতি | ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি (ইমিউনিটি) | অনুচ্ছেদ ৫১ | ★★★★☆ |
সবচেয়ে পরীক্ষিত প্রশ্ন প্যাটার্ন:
প্রশ্ন ৪২ (BCS 36, 39, 42 – বহুবার): বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
- (ক) জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে
- (খ) সংসদ সদস্যদের ভোটে ✓
- (গ) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত
- (ঘ) সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৪৮(২) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। এটি পরোক্ষ নির্বাচন (indirect election) পদ্ধতি। ভারত, পাকিস্তানেও একই ব্যবস্থা, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে Electoral College এবং ফ্রান্সে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট।
প্রশ্ন ৪৩ (BCS 40): রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল কত বছর?
- (ক) ৩ বছর
- (খ) ৪ বছর
- (গ) ৫ বছর ✓
- (ঘ) ৬ বছর
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৫০(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি হতে পারবেন না (অনুচ্ছেদ ৫০(২))। এর অর্থ সর্বোচ্চ ১০ বছর পরপর, তবে বিরতি দিয়ে আবার হতে পারেন।
প্রশ্ন ৪৪ (NTRCA 18): রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতা কার পরামর্শে প্রয়োগ করেন?
- (ক) সংসদের স্পিকার
- (খ) প্রধান বিচারপতি
- (গ) প্রধানমন্ত্রী ✓
- (ঘ) মন্ত্রিপরিষদ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) বলে “রাষ্ট্রপতি তাঁহার সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করিবেন।” এটি বাংলাদেশকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা (Parliamentary system) হিসেবে চিহ্নিত করে। রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান, প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
অনুচ্ছেদ ৪৮: ব্যতিক্রম – যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে কাজ করেন
অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) এর proviso অনুযায়ী দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই কাজ করতে পারেন:
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (অনুচ্ছেদ ৯৫): রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন (১৬তম সংশোধনীর পূর্বে এবং তা বাতিল হওয়ার পরে)
- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ (অনুচ্ছেদ ৫৬(৩)): যদি সংসদে কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনায় নিয়োগ দেবেন
প্রশ্ন ৪৫ (BCS 43): কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
- (ক) সর্বক্ষেত্রে
- (খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ✓
- (গ) যে কোনো আইনে সম্মতি দিতে
- (ঘ) মন্ত্রিপরিষদ গঠনে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। সাধারণত রাষ্ট্রপতি সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করেন, কিন্তু প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তিনি স্বাধীন (বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য)। আইনে সম্মতি দেওয়া বা মন্ত্রিপরিষদ গঠন – সবই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে।
অনুচ্ছেদ ৫১: রাষ্ট্রপতির অব্যাহতি (Immunity)
মূল বিষয়:
- পদে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা (criminal proceedings) করা যাবে না
- দেওয়ানি মামলা (civil cases) করা যাবে, তবে ২ মাস আগে নোটিশ দিতে হবে
- পদত্যাগের পর সব মামলা করা যায়
প্রশ্ন ৪৬ (ব্যাংক জব ২০২১): রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা করা যায় না?
- (ক) দেওয়ানি মামলা
- (খ) ফৌজদারি মামলা ✓
- (গ) সাংবিধানিক মামলা
- (ঘ) কোনো মামলাই না
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৫১ অনুযায়ী পদে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম (গ্রেফতার, বিচার) করা যাবে না। এটি পদের মর্যাদা রক্ষার জন্য। তবে দেওয়ানি মামলা (সম্পত্তি বিবাদ ইত্যাদি) করা যায়, ২ মাস নোটিশ সহ।
অনুচ্ছেদ ৫২: রাষ্ট্রপতির অপসারণ (Impeachment)
অপসারণ পদ্ধতি:
- সংসদের মোট সদস্যের অন্তত অর্ধেক সদস্যের স্বাক্ষরে ১৪ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে
- অভিযোগ: শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্য, অথবা সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণ
- দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটে অপসারণ
প্রশ্ন ৪৭ (BCS 41): রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে সংসদের কত ভোট লাগে?
- (ক) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট
- (খ) তিন-চতুর্থাংশ ভোট
- (গ) দুই-তৃতীয়াংশ ভোট ✓
- (ঘ) সর্বসম্মত ভোট
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৫২(২) অনুযায়ী সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ ৩০০ সদস্যের মধ্যে ২০০) ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। এটি উচ্চ threshold, যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় রাষ্ট্রপতি অপসারণ না হয়।
৯.২ প্রধানমন্ত্রী: প্রকৃত নির্বাহী প্রধান (Chief Executive)
অনুচ্ছেদ ৫৬: প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ও ক্ষমতা
নিয়োগ পদ্ধতি:
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন
- যদি কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনায় নিয়োগ দেবেন
- প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হবে
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা তালিকা:
| ক্ষমতার ধরন | সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা | সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ | বাস্তব উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| নিয়োগ ক্ষমতা | মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা নিয়োগের পরামর্শ | ৫৬(২) | মন্ত্রিসভা গঠন |
| পররাষ্ট্র | বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ | ৫৫(৪) | রাষ্ট্রীয় সফর, চুক্তি স্বাক্ষর |
| আইন প্রণয়ন | সংসদে বিল উত্থাপন, আইন পাশে নেতৃত্ব | ৮০-৮৪ | বাজেট পেশ, আইন পাস |
| প্রশাসনিক | সচিব, জেলা প্রশাসক নিয়োগের পরামর্শ | ৫৬(৩) | প্রশাসনিক নিয়োগ |
| বিচারিক | অন্যান্য বিচারক (প্রধান বিচারপতি ছাড়া) নিয়োগের পরামর্শ | ৯৫ | সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ |
| সামরিক | সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধান নিয়োগের পরামর্শ | ৫৬(৪) | সামরিক কমান্ড |
| সংসদ নিয়ন্ত্রণ | সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার চালনা | ৫৬(১) | বিশ্বাস ভোট |
প্রশ্ন ৪৮ (BCS 37, 40, 44 – সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন): বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা কার হাতে?
- (ক) রাষ্ট্রপতি
- (খ) প্রধানমন্ত্রী ✓
- (গ) স্পিকার
- (ঘ) প্রধান বিচারপতি
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, যেখানে রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। অনুচ্ছেদ ৫৫(৩) বলে “নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক প্রয়োগ করা হবে।” প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে দায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছে নয়।
প্রশ্ন ৪৯ (NTRCA 17): প্রধানমন্ত্রী কাকে নিয়োগ দেন?
- (ক) শুধু মন্ত্রীদের
- (খ) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ✓
- (গ) শুধু সচিবদের
- (ঘ) সংসদ সদস্যদের
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা নিয়োগের পরামর্শ রাষ্ট্রপতিকে দেন। রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র দেন, কিন্তু প্রকৃত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।
অনুচ্ছেদ ৫৮: প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা অপসারণ
তিনটি উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়:
- স্বেচ্ছায় পদত্যাগ: রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে
- সংসদে আস্থাহীনতা ভোট (No confidence motion): সংসদ যদি ভোটে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে
- সংসদ সদস্যপদ হারালে: মৃত্যু, পদত্যাগ বা অযোগ্য ঘোষিত হলে
প্রশ্ন ৫০ (BCS 42): প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন?
- (ক) স্পিকার
- (খ) রাষ্ট্রপতি ✓
- (গ) প্রধান বিচারপতি
- (ঘ) সংসদ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৫৮(১) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র দিলে পদ শূন্য হয়। যদিও রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান, আনুষ্ঠানিকতার জন্য তাঁর কাছেই পদত্যাগ করতে হয়।
৯.৩ মন্ত্রিপরিষদ: সমষ্টিগত দায়বদ্ধতা
অনুচ্ছেদ ৫৫: মন্ত্রিসভার গঠন ও কার্যাবলী
মন্ত্রিসভার গঠন:
- প্রধানমন্ত্রী (সভাপতি)
- মন্ত্রী (cabinet ministers)
- প্রতিমন্ত্রী (state ministers)
- উপদেষ্টা (advisers – যদি থাকে)
সংখ্যা সীমা: সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, তবে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হয়
সমষ্টিগত দায়বদ্ধতা (Collective Responsibility):
অনুচ্ছেদ ৫৫(৩) অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সমষ্টিগতভাবে সংসদের কাছে দায়ী। এর অর্থ:
- কোনো মন্ত্রী যদি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের সাথে একমত না হন, তবুও প্রকাশ্যে সমর্থন করতে হবে
- যদি সংসদ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দেয়, সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে
- একজন মন্ত্রীর ব্যর্থতা পুরো মন্ত্রিসভার দায়
প্রশ্ন ৫১ (BCS 38): মন্ত্রিপরিষদ কার কাছে দায়ী?
- (ক) রাষ্ট্রপতি
- (খ) প্রধানমন্ত্রী
- (গ) সংসদ ✓
- (ঘ) জনগণ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৫৫(৩) স্পষ্ট বলে “মন্ত্রিসভা সমষ্টিগতভাবে সংসদের কাছে দায়ী থাকিবেন।” এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল নীতি – নির্বাহী বিভাগ (মন্ত্রিসভা) আইনবিভাগ (সংসদ) এর কাছে জবাবদিহি করে। রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক প্রধান, কিন্তু মন্ত্রিসভা তাঁর কাছে দায়ী নয়।
অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি জেনারেল
পদের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা (Chief Legal Officer)
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)
- অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে
- মেয়াদ: রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন (pleasure of the President)
দায়িত্ব:
- সরকারের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা
- সরকারকে আইনি পরামর্শ প্রদান
- সংসদে বক্তৃতা করার অধিকার (ভোট দেওয়ার অধিকার নেই)
প্রশ্ন ৫২ (NTRCA 16): অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রধান কাজ কী?
- (ক) সরকারের আইনি পরামর্শদাতা ✓
- (খ) বিচারিক কাজ পরিচালনা
- (গ) আইন প্রণয়ন
- (ঘ) সংসদ পরিচালনা
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (ক)। অনুচ্ছেদ ৬৪(১) অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল “প্রজাতন্ত্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা” এবং সরকারকে আইনি পরামর্শ দেন। তিনি বিচারক নন, আইন প্রণয়ন করেন না, বরং সরকারের হয়ে আদালতে মামলা লড়েন।
১০. পার্ট V: আইনবিভাগ/সংসদ (অনুচ্ছেদ ৬৫-৯৩)
১০.১ সংসদের গঠন ও ক্ষমতা
অনুচ্ছেদ ৬৫: সংসদ প্রতিষ্ঠা
মূল পাঠ: “বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সংসদের নাম হইবে ‘জাতীয় সংসদ'”
সংসদ কাঠামো বিশ্লেষণ:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ | সাংবিধানিক ভিত্তি | পরীক্ষা ফ্রিকোয়েন্সি |
|---|---|---|---|
| নাম | জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) | অনুচ্ছেদ ৬৫(১) | ★★★★☆ |
| সদস্য সংখ্যা | ৩৫০ (৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ৫০ নারী সংরক্ষিত) | অনুচ্ছেদ ৬৫(২), (৩) | ★★★★★ |
| সরাসরি নির্বাচিত | ৩০০ জন | অনুচ্ছেদ ৬৫(২) | ★★★★★ |
| নারী সংরক্ষিত আসন | ৫০ জন (সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত) | অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) | ★★★★★ |
| মেয়াদকাল | ৫ বছর (প্রথম অধিবেশন থেকে) | অনুচ্ছেদ ৭২(১) | ★★★★★ |
| কাঠামো | একক কক্ষবিশিষ্ট (Unicameral) | অনুচ্ছেদ ৬৫ | ★★★★★ |
| নেতৃত্ব | স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার | অনুচ্ছেদ ৭৪ | ★★★★☆ |
সবচেয়ে পরীক্ষিত প্রশ্ন:
প্রশ্ন ৫৩ (BCS 35, 37, 39, 41, 43 – প্রায় প্রতি BCS-এ): জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা কত?
- (ক) ৩০০
- (খ) ৩৩০
- (গ) ৩৫০ ✓
- (ঘ) ৪০০
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৬৫(২) ও (৩) মিলে মোট ৩৫০ আসন: ৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ৫০ নারী সংরক্ষিত। এটি বাংলাদেশের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশিবার আসা প্রশ্ন।
প্রশ্ন ৫৪ (BCS 40): জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসন কতটি?
- (ক) ৩০টি
- (খ) ৪৫টি
- (গ) ৫০টি ✓
- (ঘ) ৬০টি
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) অনুযায়ী নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন আছে। এই আসনগুলো জনগণ সরাসরি ভোট দেয় না, বরং ৩০০ সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন করেন। মূল সংবিধানে ১৫টি ছিল, পরে ৩০, এখন ৫০।
প্রশ্ন ৫৫ (NTRCA 19): বাংলাদেশের সংসদ কোন ধরনের?
- (ক) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (Bicameral)
- (খ) একক কক্ষবিশিষ্ট (Unicameral) ✓
- (গ) ত্রিকক্ষবিশিষ্ট
- (ঘ) কোনোটিই নয়
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। বাংলাদেশের সংসদ একক কক্ষবিশিষ্ট (Unicameral) – শুধু জাতীয় সংসদ আছে, উচ্চকক্ষ (Senate/Upper House) নেই। তুলনা: যুক্তরাজ্য (House of Commons + House of Lords), ভারত (Lok Sabha + Rajya Sabha), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (House of Representatives + Senate) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।
অনুচ্ছেদ ৬৬: সংসদ সদস্যের যোগ্যতা
সংসদ সদস্য হওয়ার শর্ত:
- বয়স: কমপক্ষে ২৫ বছর
- নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
- ভোটার: নির্বাচনী এলাকায় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকতে হবে
অযোগ্যতা (অনুচ্ছেদ ৬৬(২)):
- মানসিক ভারসাম্যহীন ঘোষিত
- দেউলিয়া ঘোষিত
- বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ বা আনুগত্য প্রদান
- নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ও ২ বছরের কারাদণ্ড
- সরকারি চাকরি (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া)
প্রশ্ন ৫৬ (BCS 36): সংসদ সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
- (ক) ২১ বছর
- (খ) ২৫ বছর ✓
- (গ) ৩০ বছর
- (ঘ) ৩৫ বছর
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৬৬(১)(খ) অনুযায়ী কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হবে। তুলনা: রাষ্ট্রপতি ৩৫ বছর, ভোটার ১৮ বছর।
অনুচ্ছেদ ৭০: দলত্যাগ নিষেধ – সবচেয়ে বিতর্কিত অনুচ্ছেদ
মূল পাঠ (সম্পূর্ণ):
“(১) কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি—
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।”
বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
| দিক | ব্যাখ্যা | প্রভাব | সমালোচনা |
|---|---|---|---|
| উদ্দেশ্য | দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, Floor crossing রোধ | দল পরিবর্তন করে সরকার ভাঙা বন্ধ | সংসদ সদস্যের স্বাধীনতা হরণ |
| প্রয়োগ | দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন হারাবেন | সরকারের সব বিল সহজে পাস হয় | Rubber stamp parliament |
| ব্যতিক্রম | দলের পক্ষে ভোট বা অনুপস্থিত থাকলে কোনো সমস্যা নেই | সদস্যরা ভিন্নমত প্রকাশ না করে চুপ থাকেন | সংসদীয় বিতর্ক মৃত |
| নিয়ম | স্পিকার সিদ্ধান্ত নেবেন কে দলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে | স্পিকারের ক্ষমতা অত্যধিক | রাজনৈতিক প্রভাব সম্ভব |
| তুলনা | ভারতে দশম তফসিল – ১/৩ সদস্য মিলে দল ত্যাগ করলে আসন যায় না | বাংলাদেশে একক সদস্যও ভোট দিলে আসন যায় | অতি কঠোর |
পরীক্ষায় সর্বাধিক পরীক্ষিত:
প্রশ্ন ৫৭ (BCS 38, 40, 42, 44 – প্রায় সব BCS-এ): সংসদ সদস্য দলের বিপক্ষে ভোট দিলে কী হবে?
- (ক) জরিমানা হবে
- (খ) সংসদীয় আসন হারাবেন ✓
- (গ) দল থেকে বহিষ্কার হবেন
- (ঘ) কিছুই হবে না
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৭০ স্পষ্টভাবে বলে যে কোনো সংসদ সদস্য যে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। এটি anti-defection law নামে পরিচিত। উদ্দেশ্য: ১৯৭০-এর দশকে Floor crossing (দল বদল করে সরকার ভাঙা) রোধ করা। সমালোচনা: সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না, দলীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য।
প্রশ্ন ৫৮ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২২): অনুচ্ছেদ ৭০ এর উদ্দেশ্য কী?
- (ক) সংসদে বিতর্ক বৃদ্ধি
- (খ) দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ✓
- (গ) সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বৃদ্ধি
- (ঘ) সরকার পরিবর্তন সহজ করা
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৭০ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছিল। ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানসহ অনেক দেশে Floor crossing (টাকা বা পদের লোভে সংসদ সদস্যরা দল বদল করা) এর কারণে সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতো। বাংলাদেশ এটি রোধ করতে কঠোর বিধান রেখেছে।
প্রশ্ন ৫৯ (BCS 43 – রচনামূলক): অনুচ্ছেদ ৭০ এর পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিন।
সমাধান:
পক্ষে যুক্তি:
- সরকারের স্থিতিশীলতা: দল বদলের মাধ্যমে সরকার ভাঙা বন্ধ হয়, ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকে
- দলীয় শৃঙ্খলা: দল যে ইশতেহারে জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পেয়েছে, সংসদ সদস্যরা সেই নীতি অনুসরণে বাধ্য থাকে
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: টাকা বা পদের লোভে দল বদল (horse trading) রোধ হয়
- সংসদীয় কার্যকারিতা: দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট থাকে, আইন পাস দ্রুত হয়
বিপক্ষে যুক্তি:
- সংসদ সদস্যের স্বাধীনতা হরণ: নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজের বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না, দলীয় হুইপের দাস হয়ে যান
- Rubber stamp parliament: সব সদস্য দলীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য, তাই সংসদে প্রকৃত বিতর্ক হয় না, সরকারের সব বিল চোখ বন্ধ করে পাস হয়
- জনপ্রতিনিধিত্ব দুর্বল: সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থের চেয়ে দলীয় নির্দেশকে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য
- ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা: নির্বাহী বিভাগ (সরকার) আইনবিভাগ (সংসদ) কে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে, checks and balances নষ্ট
- অতিরিক্ত কঠোরতা: ভারতে দশম তফসিলে ১/৩ সদস্য মিলে দল ত্যাগ করলে আসন যায় না (split allowed), বাংলাদেশে একক সদস্যও ভোট দিলে আসন হারান
অনুচ্ছেদ ৭৪: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
নিয়োগ পদ্ধতি:
- সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সংসদ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবে
- সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী জিতে
দায়িত্ব:
- সংসদ অধিবেশন পরিচালনা
- সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা
- অনুচ্ছেদ ৭০ লঙ্ঘন হয়েছে কিনা সিদ্ধান্ত নেওয়া
বিশেষ মর্যাদা:
- স্পিকার নিরপেক্ষ, দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন (নীতিগতভাবে, বাস্তবে সবসময় হয় না)
- স্পিকার পদে থাকাকালীন সংসদে ভোট দেন না (সমান ভোট হলে কাস্টিং ভোট দেন)
প্রশ্ন ৬০ (BCS 37): সংসদের অধিবেশন কে পরিচালনা করেন?
- (ক) প্রধানমন্ত্রী
- (খ) রাষ্ট্রপতি
- (গ) স্পিকার ✓
- (ঘ) বিরোধী দলীয় নেতা
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুযায়ী স্পিকার সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন। তিনি নিরপেক্ষ সভাপতির ভূমিকা পালন করেন এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।
অনুচ্ছেদ ৮০-৮৪: আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
বিল পাসের ধাপ:
- বিল উত্থাপন: মন্ত্রী বা সাধারণ সদস্য সংসদে বিল উত্থাপন করেন
- প্রথম পাঠ: বিলের শিরোনাম পাঠ ও সাধারণ আলোচনা
- কমিটিতে পাঠানো: সংসদীয় কমিটি বিস্তারিত পরীক্ষা করে
- দ্বিতীয় পাঠ: ধারাভিত্তিক আলোচনা ও সংশোধনী প্রস্তাব
- তৃতীয় পাঠ: চূড়ান্ত ভোট, পক্ষে-বিপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি: বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়, তিনি স্বাক্ষর করলে আইন হয়
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৮০):
- রাষ্ট্রপতি বিলে সম্মতি দিতে পারেন (assent)
- বিল ফেরত দিতে পারেন পুনর্বিবেচনার জন্য (return with message)
- তবে সংসদ দ্বিতীয়বার পাস করলে রাষ্ট্রপতি বাধ্যতামূলকভাবে স্বাক্ষর করবেন (৭ দিনের মধ্যে না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন হবে)
প্রশ্ন ৬১ (BCS 41): সংসদে পাস হওয়া বিল আইনে পরিণত হয় কীভাবে?
- (ক) স্পিকার স্বাক্ষর করলে
- (খ) প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে
- (গ) রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে ✓
- (ঘ) প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করলে
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ৮০ অনুযায়ী সংসদ কর্তৃক পাসকৃত বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতিলাভের পর আইনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতি একবার ফেরত দিতে পারেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার পাস হলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য।
১১. পার্ট VI: বিচার বিভাগ (অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৬ক)
১১.১ সুপ্রিম কোর্ট: গঠন ও বিভাজন
অনুচ্ছেদ ৯৪: সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
মূল পাঠ: “বাংলাদেশের একটি সুপ্রীম কোর্ট থাকিবে এবং সুপ্রীম কোর্ট দুইটি বিভাগ লইয়া গঠিত হইবে, যথা- (ক) হাইকোর্ট বিভাগ এবং (খ) আপীল বিভাগ”
সুপ্রিম কোর্ট কাঠামো:
| বিভাগ | গঠন | এখতিয়ার | বিচারকের সংখ্যা | পরীক্ষা গুরুত্ব |
|---|---|---|---|---|
| আপিল বিভাগ (Appellate Division) | প্রধান বিচারপতি + আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ | হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনা | নির্দিষ্ট নেই (সাধারণত ১১-১৫ জন) | ★★★★★ |
| হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) | হাইকোর্ট বিচারপতিগণ | দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট এখতিয়ার | নির্দিষ্ট নেই (সাধারণত ১০০+ জন) | ★★★★★ |
প্রশ্ন ৬২ (BCS 35, 38, 40, 42 – প্রায় সব BCS-এ): বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কয়টি বিভাগ?
- (ক) একটি
- (খ) দুইটি ✓
- (গ) তিনটি
- (ঘ) চারটি
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৯৪ স্পষ্ট বলে সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ। আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত (final court of appeal), হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আপিল এবং রিট শুনে।
প্রশ্ন ৬৩ (NTRCA 17): সুপ্রিম কোর্টের কোন বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত?
- (ক) হাইকোর্ট বিভাগ
- (খ) আপিল বিভাগ ✓
- (গ) দুটিই সমান
- (ঘ) প্রধান বিচারপতির আদালত
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। আপিল বিভাগ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়, কিন্তু আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই – এটি চূড়ান্ত (final and binding)।
অনুচ্ছেদ ৯৫: বিচারক নিয়োগ
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:
- রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনায় (discretion) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ লাগে না (বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য)
অন্যান্য বিচারক নিয়োগ:
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শে অন্যান্য বিচারক নিয়োগ দেন
- (১৬তম সংশোধনীতে সংসদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, পরে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে)
বিচারকের যোগ্যতা (অনুচ্ছেদ ৯৫):
- বাংলাদেশের নাগরিক
- হাইকোর্টের বিচারক হতে: কমপক্ষে ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন
- আপিল বিভাগের বিচারক হতে: হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছর, অথবা আইনজীবী হিসেবে ১৫ বছর
প্রশ্ন ৬৪ (BCS 39): প্রধান বিচারপতি কে নিয়োগ দেন?
- (ক) প্রধানমন্ত্রী
- (খ) রাষ্ট্রপতি ✓
- (গ) সংসদ
- (ঘ) বিচারপতিগণ নিজেরা নির্বাচন করেন
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ৯৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। তবে এটি রাষ্ট্রপতির একক বিবেচনায় (without advice from PM), যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনুচ্ছেদ ১০২: হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার
পাঁচ প্রকার রিট (পার্ট ১-এ বিস্তারিত আলোচিত, এখানে সংক্ষেপ):
- Habeas Corpus – অবৈধ আটক থেকে মুক্তি
- Mandamus – সরকারি কর্তব্য পালনে বাধ্য করা
- Prohibition – নিম্ন আদালতকে এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখা
- Certiorari – নিম্ন আদালতের রায় বাতিল বা স্থানান্তর
- Quo Warranto – অবৈধভাবে পদ দখলকারীকে সরানো
প্রশ্ন ৬৫ (BCS 36, 40, 43): মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে কোন আদালতে রিট করা যায়?
- (ক) জেলা জজ কোর্ট
- (খ) হাইকোর্ট বিভাগ ✓
- (গ) আপিল বিভাগ
- (ঘ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা যায়। নিম্ন আদালতে রিট এখতিয়ার নেই। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
অনুচ্ছেদ ১১৬ক: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
মূল পাঠ: “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হইবে।”
স্বাধীনতার নিশ্চয়তা:
- বিচারকদের নিয়োগ বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে (প্রধান বিচারপতির পরামর্শে)
- বিচারকদের অপসারণ কঠিন (অসদাচরণ প্রমাণিত হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তদন্ত করবে)
- বিচারকদের বেতন কাটছাঁট করা যাবে না
- নিম্ন আদালতের বিচারক ও কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে (২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ)
প্রশ্ন ৬৬ (BCS 44): বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা হয়েছে?
- (ক) অনুচ্ছেদ ১০২
- (খ) অনুচ্ছেদ ১১৫
- (গ) অনুচ্ছেদ ১১৬ক ✓
- (ঘ) অনুচ্ছেদ ১২০
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ১১৬ক (১৬তম সংশোধনীতে যুক্ত) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। এর আগে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ প্রশাসন থেকে পৃথক করা হয়।
১২. সংবিধান সংশোধনী: বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১২.১ অনুচ্ছেদ ১৪২: সংশোধন পদ্ধতি
সংশোধনের শর্ত:
- সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ ৩৫০ এর মধ্যে ২৩৪) ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়
- কোনো গণভোট (referendum) লাগে না
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাগে (আনুষ্ঠানিক)
প্রশ্ন ৬৭ (BCS 38, 41, 43): সংবিধান সংশোধন করতে সংসদের কত ভোট লাগে?
- (ক) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট
- (খ) তিন-চতুর্থাংশ ভোট
- (গ) দুই-তৃতীয়াংশ ভোট ✓
- (ঘ) সর্বসম্মত ভোট
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (২৩৪/৩৫০) ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়। এটি সাধারণ আইন পাসের চেয়ে কঠিন (যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট), কিন্তু অনেক দেশের তুলনায় সহজ (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২/৩ কংগ্রেস + ৩/৪ রাজ্যের অনুমোদন লাগে)।
১২.২ প্রধান সংশোধনী: সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী হয়েছে। নিচে পরীক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত আলোচনা:
পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) – সবচেয়ে বিতর্কিত
পটভূমি:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা
- সামরিক আইন জারি (১৯৭৫-১৯৭৯)
- জিয়াউর রহমান ক্ষমতায়
মূল পরিবর্তন:
| বিষয় | মূল সংবিধান (১৯৭২) | পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) | বর্তমান অবস্থা (১৫তম সংশোধনীর পর) |
|---|---|---|---|
| প্রস্তাবনা | “বাংলার মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে…” | “বিসমিল্লাহ-আর-রহমান-আর-রহীম” যুক্ত | “বিসমিল্লাহ” বহাল |
| জাতীয়তাবাদ | বাঙালি জাতীয়তাবাদ (ভাষা-সংস্কৃতি ভিত্তিক) | “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” যুক্ত (ভূখণ্ড ভিত্তিক) | পুনরায় “বাঙালি” |
| ধর্মনিরপেক্ষতা | চার মূলনীতির একটি | বাদ দেওয়া হয়, “আল্লাহের উপর আস্থা ও বিশ্বাস” যুক্ত | পুনঃস্থাপিত, তবে “বিসমিল্লাহ” ও “আল্লাহের উপর আস্থা” বহাল |
| সামরিক আইন | – | ১৯৭৫-১৯৭৯ এর সামরিক আইনকে বৈধতা (indemnity) দেওয়া | ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল ঘোষণা |
আদালতের রায়:
- ২০১০ সালে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে
- কারণ: সামরিক শাসন অবৈধ, সংবিধান স্থগিত করে সংশোধন করা যায় না
- তবে কিছু পরিবর্তন (যেমন “বিসমিল্লাহ”) ১৫তম সংশোধনীতে রাখা হয়
প্রশ্ন ৬৮ (BCS 40, 42, 44): পঞ্চম সংশোধনীতে কোন শব্দ প্রস্তাবনায় যুক্ত করা হয়?
- (ক) আল্লাহু আকবার
- (খ) বিসমিল্লাহ-আর-রহমান-আর-রহীম ✓
- (গ) ইন্শাআল্লাহ
- (ঘ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীতে জিয়াউর রহমানের সরকার প্রস্তাবনায় “Bismillah-ar-Rahman-ar-Rahim (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)” যুক্ত করে। এটি ছিল মূল ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। যদিও পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হয়েছে, ১৫তম সংশোধনীতে “বিসমিল্লাহ” রাখা হয়েছে।
সপ্তম সংশোধনী (১৯৮৬)
পটভূমি:
- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় (সামরিক শাসন)
- ১৯৮২-১৯৮৬ সামরিক আইনকে বৈধতা দেওয়া
মূল বিষয়:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইনের সকল আদেশ, অধ্যাদেশ, নিয়ম বৈধ ঘোষণা
- ৬ষ্ঠ তফসিল যুক্ত (পার্বত্য জেলা পরিষদ সংক্রান্ত)
আদালতের রায়:
- ২০১১ সালে আপিল বিভাগ বাতিল ঘোষণা করে
- কারণ: পঞ্চম সংশোধনীর মতো একই যুক্তি – সামরিক শাসন অবৈধ
প্রশ্ন ৬৯ (BCS 41): সপ্তম সংশোধনীতে কোন তফসিল যুক্ত হয়?
- (ক) ৫ম তফসিল
- (খ) ৬ষ্ঠ তফসিল ✓
- (গ) ৭ম তফসিল
- (ঘ) ৮ম তফসিল
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। সপ্তম সংশোধনীতে ৬ষ্ঠ তফসিল যুক্ত করা হয়, যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) জেলা পরিষদ সংক্রান্ত বিধান আছে। ৭ম তফসিল ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার (১৩তম সংশোধনীতে যুক্ত, ১৫তমে বিলুপ্ত)।
অষ্টম সংশোধনী (১৯৮৮) – রাষ্ট্রধর্ম
পটভূমি:
- এরশাদ সরকার ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন পেতে চেষ্টা
- ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা
মূল পরিবর্তন:
- অনুচ্ছেদ ২A যুক্ত: “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্ম শান্তিতে পালন করা যাইবে।”
- ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের বিধান
বিতর্ক:
- অনুচ্ছেদ ১২ (ধর্মনিরপেক্ষতা, যা ৫ম সংশোধনীতে বাদ ছিল) এর সাথে সাংঘর্ষিক
- সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে যাওয়ার ভয়
বর্তমান অবস্থা:
- ১৫তম সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপিত হলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়েছে
- সরকার বলে এই দুটি সহাবস্থান করতে পারে, সমালোচকরা বলেন এটি স্ববিরোধী
প্রশ্ন ৭০ (BCS 37, 39, 42 – বারবার): বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কোন সংশোধনীতে যুক্ত হয়?
- (ক) ৫ম সংশোধনী
- (খ) ৭ম সংশোধনী
- (গ) ৮ম সংশোধনী ✓
- (ঘ) ১৫তম সংশোধনী
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের অষ্টম সংশোধনীতে অনুচ্ছেদ ২A যুক্ত করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করা হয়। ৫ম সংশোধনীতে “বিসমিল্লাহ” ও “আল্লাহের উপর আস্থা” যুক্ত হয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা হয়নি। ১৫তম সংশোধনীতে এটি বহাল রাখা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬) – তত্ত্বাবধায়ক সরকার
পটভূমি:
- ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বিরোধী দল বয়কট
- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি
- দেশব্যাপী আন্দোলন
মূল পরিবর্তন:
- অনুচ্ছেদ ৫৮A-৫৮E যুক্ত: অ-দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
- ৭ম তফসিল যুক্ত: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিস্তারিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো:
- প্রধান উপদেষ্টা: সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি (যদি অনিচ্ছুক বা অযোগ্য হন, তবে পরবর্তী সিনিয়র)
- উপদেষ্টা: ১০ জন (অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব)
- মেয়াদ: ৯০ দিন (নির্বাচন সম্পন্ন করা পর্যন্ত)
- ক্ষমতা: দৈনন্দিন প্রশাসন চালানো, নির্বাচন পরিচালনা; কোনো নীতি সিদ্ধান্ত নয়
বিলুপ্তি:
- ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীতে বাতিল করা হয়
- সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার “সংসদীয় গণতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক”
- ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত (বিরোধী দল বয়কট)
প্রশ্ন ৭১ (BCS 38, 42): তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন সংশোধনীতে যুক্ত হয়?
- (ক) ১১তম সংশোধনী
- (খ) ১২তম সংশোধনী
- (গ) ১৩তম সংশোধনী ✓
- (ঘ) ১৪তম সংশোধনী
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ (১৩তম) সংশোধনীতে অ-দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ – তিনটি নির্বাচন এই ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীতে বাতিল করা হয়।
প্রশ্ন ৭২ (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২১): তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে ছিলেন?
- (ক) প্রধানমন্ত্রী
- (খ) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ✓
- (গ) রাষ্ট্রপতি
- (ঘ) নির্বাচন কমিশনার
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা হতেন। যদি তিনি অনিচ্ছুক বা অযোগ্য, তবে পরবর্তী সিনিয়র অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। ১৯৯৬: বিচারপতি হাবিবুর রহমান, ২০০১: বিচারপতি লতিফুর রহমান, ২০০৮: ড. ফখরুদ্দীন আহমদ (প্রধান বিচারপতি ছিলেন না, জরুরি অবস্থায় সেনা সমর্থিত)।
পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১) – সবচেয়ে ব্যাপক
পটভূমি:
- শেখ হাসিনা সরকার (২০০৯-বর্তমান)
- মূল সংবিধানের মূলনীতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা
- সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে (৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিল)
মূল পরিবর্তন টেবিল:
| বিষয় | পরিবর্তন | বর্তমান অবস্থা | বিতর্ক |
|---|---|---|---|
| ধর্মনিরপেক্ষতা | পুনঃস্থাপিত (মূল ১৯৭২ সংস্করণ) | মূলনীতি পুনরায় চালু | কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম বহাল (অসামঞ্জস্য) |
| জাতীয়তাবাদ | পুনরায় “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” | “বাংলাদেশি” বাদ | – |
| তত্ত্বাবধায়ক সরকার | বিলুপ্ত | ১৩তম সংশোধনী বাতিল | নির্বাচনে বিতর্ক সৃষ্টি |
| জাতীয় প্রতীক | অনুচ্ছেদ ৪A যুক্ত (ফুল, পশু, পাখি, ফল) | শাপলা, টাইগার, দোয়েল, কাঁঠাল | সাংবিধানিক স্বীকৃতি |
| নির্বাচন পদ্ধতি | সংসদ নির্বাচন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে | আগের মতোই | – |
| প্রস্তাবনা | “বিসমিল্লাহ” ও “আল্লাহের উপর আস্থা” বহাল | ৫ম সংশোধনীর অংশ রাখা | ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে অসামঞ্জস্য |
রাষ্ট্রধর্ম বিরোধ:
- অনুচ্ছেদ ১২: “রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা প্রদান করবে না” (ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপিত)
- অনুচ্ছেদ ২A: “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” (৮ম সংশোধনী, বহাল)
- ব্যাখ্যা: সরকার বলে “রাষ্ট্রধর্ম” মানে “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা” নয়, শুধু সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি
- সমালোচনা: দুটি বিধান পরস্পরবিরোধী, আইনি অসংগতি
প্রশ্ন ৭৩ (BCS 40, 43, 44 – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): পঞ্চদশ সংশোধনীতে কোন মূলনীতি পুনঃস্থাপিত হয়?
- (ক) সমাজতন্ত্র
- (খ) জাতীয়তাবাদ
- (গ) ধর্মনিরপেক্ষতা ✓
- (ঘ) গণতন্ত্র
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপিত করা হয়, যা ১৯৭৭ সালের পঞ্চম সংশোধনীতে বাদ দেওয়া হয়েছিল। চার মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা) মূল ১৯৭২ সংস্করণে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রশ্ন ৭৪ (NTRCA 20): পঞ্চদশ সংশোধনীতে কোন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়?
- (ক) সংরক্ষিত নারী আসন
- (খ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ✓
- (গ) নির্বাচন কমিশন
- (ঘ) রাষ্ট্রপতি পদ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। পঞ্চদশ সংশোধনীতে ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ২০১৪ সাল থেকে নির্বাচন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে হচ্ছে।
ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) – বিচারক অপসারণ
পটভূমি:
- বিচারকদের অপসারণ পদ্ধতি পরিবর্তন
- সংসদকে ক্ষমতা দেওয়া
মূল পরিবর্তন:
- অনুচ্ছেদ ৯৬: সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (SJC) বিলুপ্ত
- নতুন ব্যবস্থা: সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে (২/৩ নয়) বিচারক অপসারণের প্রস্তাব করতে পারবে
আদালতের রায়:
- ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে
- কারণ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ
বর্তমান ব্যবস্থা:
- পুনরায় Supreme Judicial Council (SJC) পদ্ধতি বহাল
- SJC গঠন: প্রধান বিচারপতি (চেয়ারম্যান) + আপিল বিভাগের ২ সিনিয়র বিচারপতি
- SJC তদন্ত করে সুপারিশ করলে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারেন
প্রশ্ন ৭৫ (BCS 44): ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী ছিল?
- (ক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার
- (খ) বিচারক অপসারণ পদ্ধতি ✓
- (গ) নারী সংরক্ষিত আসন
- (ঘ) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনীতে বিচারক অপসারণ পদ্ধতি পরিবর্তন করে সংসদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট এটি বাতিল করে বলে যে এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করবে।
সপ্তদশ সংশোধনী (২০১৮) – মহিলা আসন বৃদ্ধি
মূল পরিবর্তন:
- নারী সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-তে বৃদ্ধি (অনুচ্ছেদ ৬৫(৩))
- মেয়াদ: ২০৩০ সাল পর্যন্ত
প্রশ্ন ৭৬ (সাম্প্রতিক পরীক্ষা): সপ্তদশ সংশোধনীতে নারী সংরক্ষিত আসন কতে উন্নীত হয়?
- (ক) ৪৫
- (খ) ৫০ ✓
- (গ) ৫৫
- (ঘ) ৬০
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। ২০১৮ সালের সপ্তদশ সংশোধনীতে নারী সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়। মূল সংবিধানে ছিল ১৫, পরে ৩০, তারপর ৪৫, এখন ৫০।
১৩. অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
১৩.১ নির্বাচন কমিশন (অনুচ্ছেদ ১১৮-১২৬)
গঠন:
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার + অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন, সাধারণত ৪-৫ জন)
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত
- মেয়াদ: ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স, যেটি আগে হয়
ক্ষমতা ও দায়িত্ব:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ
- নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ
- রাজনৈতিক দল নিবন্ধন
স্বাধীনতা:
- নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ (অনুচ্ছেদ ১১৮(৪))
- সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নয়
প্রশ্ন ৭৭ (BCS 38): নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ কত বছর?
- (ক) ৩ বছর
- (খ) ৪ বছর
- (গ) ৫ বছর ✓
- (ঘ) ৬ বছর
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (গ)। অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ ৫ বছর, তবে ৬৫ বছর বয়সে অবসর নিতে হয়। যদি ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ৬৫ হয়, তবে অবসর নেবেন।
১৩.২ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG) (অনুচ্ছেদ ১২৭-১৩২)
পদবি: Comptroller and Auditor General (CAG)
দায়িত্ব:
- সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা (audit)
- সংযুক্ত তহবিল (Consolidated Fund) পরীক্ষা
- বার্ষিক অডিট রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ, রাষ্ট্রপতি সংসদে পাঠান
নিয়োগ ও মেয়াদ:
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত
- মেয়াদ: ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত
স্বাধীনতা:
- বেতন কমানো যাবে না
- সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ছাড়া অপসারণ করা যাবে না
প্রশ্ন ৭৮ (NTRCA 19): মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ইংরেজি পদবি কী?
- (ক) Chief Auditor General
- (খ) Comptroller and Auditor General ✓
- (গ) Controller of Accounts
- (ঘ) General Auditor
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। Comptroller and Auditor General (CAG) সংক্ষেপে “মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক”। তিনি সরকারি অর্থের রক্ষক এবং সংসদের পক্ষে অডিট করেন।
১৩.৩ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) (অনুচ্ছেদ ১৩৩-১৪১)
নাম: Bangladesh Public Service Commission (BPSC)
গঠন:
- চেয়ারম্যান + সদস্যগণ (সংখ্যা আইনে নির্ধারিত, সাধারণত ১৪-১৫ জন)
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত
দায়িত্ব:
- সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ (BCS সহ)
- সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলামূলক বিষয়ে পরামর্শ
স্বাধীনতা:
- PSC স্বাধীন সংস্থা (অনুচ্ছেদ ১৩৮(১))
- সরকার PSC-এর পরামর্শ সাধারণত মানে, তবে বাধ্য নয়
প্রশ্ন ৭৯ (BCS 39): PSC এর পূর্ণরূপ কী?
- (ক) Pakistan Service Commission
- (খ) Public Service Commission ✓
- (গ) Parliamentary Service Commission
- (ঘ) Provincial Service Commission
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। PSC = Public Service Commission (সরকারি কর্ম কমিশন)। বাংলাদেশের সব সরকারি চাকরি নিয়োগ (BCS, শিক্ষক, প্রশাসন) PSC-এর মাধ্যমে হয়।
১৪. জরুরি অবস্থা (Part IXA: অনুচ্ছেদ ১৪১A-১৪১C)
১৪.১ জরুরি অবস্থা ঘোষণা
কখন ঘোষণা করা যায় (অনুচ্ছেদ ১৪১A):
- যুদ্ধ বা বহিঃশত্রুর আক্রমণ
- অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ভূমিকম্প, বন্যা, দুর্ভিক্ষ)
কে ঘোষণা করতে পারেন:
- রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করবেন (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)
সংসদের অনুমোদন:
- জরুরি অবস্থা ঘোষণার ১২০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন লাগবে
- সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাতিল করতে পারে
মৌলিক অধিকার স্থগিত (অনুচ্ছেদ ১৪১C):
- জরুরি অবস্থায় কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যায়
- তবে অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবন), ৩৩ (গ্রেফতার রক্ষা), ৩৫ (বিচার রক্ষা) স্থগিত করা যায় না
বাংলাদেশে জরুরি অবস্থার ইতিহাস:
- ১৯৭৪-১৯৭৫: দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
- ২০০৭-২০০৮: ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার
প্রশ্ন ৮০ (BCS 41): জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন কে?
- (ক) প্রধানমন্ত্রী
- (খ) রাষ্ট্রপতি ✓
- (গ) প্রধান বিচারপতি
- (ঘ) সংসদ
সমাধান ও ব্যাখ্যা: সঠিক উত্তর (খ)। অনুচ্ছেদ ১৪১A অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এটি করেন। ১২০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন লাগবে, নইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল।
১৫. পরীক্ষা কৌশল ও মডেল প্রশ্ন
১৫.১ BCS প্রিলিমিনারি: সর্বাধিক পুনরাবৃত্ত ৫০টি প্রশ্ন
সংবিধান থেকে BCS-এ প্রায়ই আসা প্রশ্নের ধরন:
- মৌলিক তথ্য (৩০%): তারিখ, সংখ্যা, অনুচ্ছেদ নম্বর
- সংশোধনী (২৫%): কোন সংশোধনীতে কী হয়েছে
- মৌলিক অধিকার (২০%): অধিকার চিহ্নিতকরণ, রিট
- সরকার কাঠামো (১৫%): রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ
- বিচার বিভাগ (১০%): সুপ্রিম কোর্ট, এখতিয়ার
নিশ্চিত ৫০টি প্রশ্ন (মুখস্থ করুন):
- সংবিধান প্রণয়ন: ৪ নভেম্বর ১৯৭২
- কার্যকর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
- গণপরিষদ সদস্য: ৪০৩ জন
- খসড়া কমিটি: ৩৪ জন
- মূল অনুচ্ছেদ: ১৫৩টি
- ভাগ/পার্ট: ১১টি
- তফসিল: ৭টি (মূলত ৪টি)
- রাষ্ট্রভাষা: বাংলা (অনুচ্ছেদ ৩)
- জাতীয় ফুল: শাপলা
- জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- জাতীয় পাখি: দোয়েল
- জাতীয় ফল: কাঁঠাল
- চার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
- সকল ক্ষমতার মালিক: জনগণ (অনুচ্ছেদ ৭)
- সংবিধান সর্বোচ্চ আইন: অনুচ্ছেদ ৭(২)
- মৌলিক প্রয়োজন: অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা
- মৌলিক অধিকার: অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭
- আইনের চোখে সমতা: অনুচ্ছেদ ২৭
- জীবনের অধিকার: অনুচ্ছেদ ৩২
- গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে: ২৪ ঘণ্টা
- চিন্তা ও বাক্স্বাধীনতা: অনুচ্ছেদ ৩৯
- ধর্মীয় স্বাধীনতা: অনুচ্ছেদ ৪১
- রিট: ৫ প্রকার (Habeas Corpus, Mandamus, Prohibition, Certiorari, Quo Warranto)
- রিট কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ (অনুচ্ছেদ ১০২)
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ সদস্যদের ভোটে
- রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: ৫ বছর
- প্রধানমন্ত্রী: প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা
- প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ: রাষ্ট্রপতির কাছে
- অ্যাটর্নি জেনারেল: সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা
- সংসদ নাম: জাতীয় সংসদ
- সংসদ সদস্য: ৩৫০ (৩০০ + ৫০ নারী)
- সংসদ মেয়াদ: ৫ বছর
- সংসদ সদস্যের বয়স: ২৫ বছর
- অনুচ্ছেদ ৭০: দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন যাবে
- স্পিকার: সংসদ পরিচালনা
- বিল পাস: সংসদ → রাষ্ট্রপতির সম্মতি
- সুপ্রিম কোর্ট: ২ বিভাগ (আপিল + হাইকোর্ট)
- সর্বোচ্চ আদালত: আপিল বিভাগ
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: রাষ্ট্রপতি (নিজের বিবেচনায়)
- নির্বাচন কমিশন মেয়াদ: ৫ বছর
- CAG: Comptroller and Auditor General
- PSC: Public Service Commission
- সংশোধন পদ্ধতি: ২/৩ সংসদ ভোট
- ৫ম সংশোধনী: “বিসমিল্লাহ” যুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ
- ৮ম সংশোধনী: রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম
- ১৩তম সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুক্ত
- ১৫তম সংশোধনী: ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃস্থাপন, তত্ত্বাবধায়ক বাতিল
- ১৬তম সংশোধনী: বিচারক অপসারণ (বাতিল হয়েছে)
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা: রাষ্ট্রপতি
- জরুরি অবস্থায় অলঙ্ঘনীয়: অনুচ্ছেদ ৩২, ৩৩, ৩৫
