BCS (প্রশাসন) প্রশিক্ষণ মডিউল ০৩ অনুযায়ী ০১–০৬ সেশন সাজানো। প্রতিটি ধারায় ইংরেজি আইনি ভাষা, বাংলা ব্যাখ্যা, ফিল্ড-প্রয়োগ ও পরীক্ষার কৌশল একসঙ্গে দেওয়া আছে।
ক. ফৌজদারি আদালতের শ্রেণী ও ক্ষমতা — ধারা ৪, ৪ক, ৫, ৬
Chapter I। এই তিনটি ধারা গোটা CrPC-এর “কাঠামো” — কে কোন আদালত, কার অধীনে, তা এখান থেকেই শুরু।
আদালতের স্তরক্রম
• জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট → CJM (১৭(২)); CJM-সহ সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট → সেশন জজ (১৭(৪))।
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট → CMM (১৭(৩)); CMM-সহ সবাই → মেট্রোপলিটন সেশন জজ (১৭(৪))।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেশন জজের অধীন নন।
খ. সংজ্ঞা নির্মাণ ও বিশেষ আইনের অধীনে বিচার — ধারা ৪ক, ৫
ক. আদালত ও কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অধীনতা — ধারা ১০-১৪, ১৭, ১৮
| ধারা | বিষয় | ফিল্ড প্রয়োগ |
|---|---|---|
| ১১ | সরকার প্রতিটি জেলায় (এবং প্রয়োজনে একাধিক জেলা মিলিয়ে) কতজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন তা ঠিক করে এবং তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) হিসেবে মনোনীত করে। CJM শুধু বিচারিক কাজ করেন না, বরং জেলার সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে মামলা বণ্টন, ছুটি-বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় এবং অধস্তন আদালতের কাজের তদারকিও করেন — অর্থাৎ পদটি বিচারিক ও প্রশাসনিক দুই ভূমিকাই একসাথে বহন করে। | জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে CJM-ই সকল মামলা এন্ট্রি ও এখতিয়ার বণ্টনের কেন্দ্রবিন্দু — কোনো নতুন মামলা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাবে তা মূলত তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়। |
| ১২ | নির্দিষ্ট প্রকৃতির মামলা বা এলাকার জন্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন “স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট” নিয়োগ দিতে পারে, যাঁর এখতিয়ার একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলা বা একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। এই নিয়োগ সাধারণত সাময়িক এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে প্রত্যাহারযোগ্য। | খাদ্যে ভেজাল, মাদক, নির্বাচনী অপরাধের মতো বিশেষ প্রকৃতির মামলাগুলো দ্রুত ও বিশেষায়িতভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর — সাধারণ আদালতের দীর্ঘ সারিতে না ফেলে আলাদা ট্র্যাকে বিচার নিশ্চিত করে। |
| ১০ (Executive Magistrate ও DM নিয়োগ) | জেলার নির্বাহী শাখায় সরকার একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) এবং প্রয়োজনে একাধিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) হিসেবে নিয়োগ দেয়। DM-ই জেলার সমস্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক প্রধান এবং তাঁর মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়ভার বর্তায়। | বাংলাদেশে জেলা প্রশাসক (DC) পদাধিকারবলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেন — অর্থাৎ ধারা ১০(১) অনুযায়ী সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে এবং তাঁদের একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করে; প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করার ক্ষমতাও সরকারের (১০(৫)), আর সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার ও UNO আইনেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (১০(৬))। |
| ২০ (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার) | প্রত্যেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যে মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য নিযুক্ত, তার সব স্থানে এখতিয়ার প্রয়োগ করেন (ধারা ২০)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্থানীয় এখতিয়ার সরকার বা (সরকারের নিয়ন্ত্রণে) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদেশে নির্ধারণ করেন (ধারা ১০(৪)); সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও UNO নিজ নিজ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ১০(৬)); সরকার চাইলে পুলিশ কমিশনারকেও মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিতে পারে (ধারা ১০(৭))। | |
| ১৭ | Subordination (অধীনতা কাঠামো): ধারা ১৭ দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আলাদা শৃঙ্খলা-রেখা টেনে দেয় — সকল নির্বাহী (Executive) ম্যাজিস্ট্রেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM)-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনার অধীন, আর সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট CJM-এর অধীন। তবে এই দুই ধারা সমান্তরাল, একটি অন্যটির ওপরে নয় — — নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট DM-এর অধীন (ধারা ১৭(১)), আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেশন জজের অধীন (ধারা ১৭(৪))। | এই দ্বি-স্তর কাঠামো (নির্বাহী শাখা vs বিচার বিভাগীয় শাখা) মূলত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পৃথকীকরণ (separation of powers)-এর প্রতিফলন — নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশাসনের অংশ হয়েও নির্দিষ্ট ফৌজদারি ক্ষমতা পান, কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত জবাবদিহিতা বিচার বিভাগের নিজস্ব শৃঙ্খলে থাকে। |
| ১৮ (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ) | প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM), অতিরিক্ত CMM ও অন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হন। (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট DM-এর অধীন — ধারা ১৭(১); ADM-এর ক্ষমতা — ধারা ১০।) |
অধীনতার (Subordination) মানচিত্র — ধারা ১৭
খ. আমলে গ্রহণের শর্ত — ধারা ১৯০-১৯৯খ (Chapter XV)
(ক) পুলিশ রিপোর্ট ব্যতীত কোনো অপরাধ গঠনকারী তথ্যের ভিত্তিতে (complaint)
(খ) পুলিশ কর্মকর্তার লিখিত রিপোর্টের ভিত্তিতে
(গ) নিজের জ্ঞান বা সন্দেহের ভিত্তিতে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ১৯১ | যে মুহূর্তে একজন ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মামলা আমলে নেন (আইনের পাঠ: ধারা ১৯০(১)(গ) অনুযায়ী আমলে নিলে — সাক্ষ্য গ্রহণের আগে), সেই মুহূর্তেই তাঁকে অভিযুক্তকে জানাতে হবে যে তিনি চাইলে অন্য আদালতে বিচারিত হওয়ার আপত্তি জানাতে পারেন। এই বিধান নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার একটি প্রাথমিক পদ্ধতিগত সুরক্ষা — বিশেষত যেখানে ম্যাজিস্ট্রেট নিজের জ্ঞানে বা তথ্যের ভিত্তিতে (own knowledge) মামলা আমলে নিয়েছেন, সেখানে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে এই সুযোগ রাখা হয়েছে। |
| ১৯২ | একজন ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নেওয়ার পরও মনে করতে পারেন মামলাটি অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচারের জন্য পাঠানো উপযুক্ত হবে (কর্মচাপ, বিশেষায়ন বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে) — এই মামলা স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা CJM (জুডিশিয়াল) বা CMM (মেট্রোপলিটন এলাকায়)-এর হাতে ন্যস্ত, যাতে বণ্টন প্রক্রিয়া একটি কেন্দ্রীয় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। |
| ১৯৩ | দায়রা আদালত নিজে থেকে সরাসরি কোনো ফৌজদারি মামলা আমলে নিতে পারে না — মামলাটি প্রথমে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অনুসন্ধান (inquiry) হয়ে “কমিটাল” (committal) প্রক্রিয়ায় দায়রা আদালতে সোপর্দ হতে হয়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম শুধু তখনই ঘটে যখন কোনো বিশেষ আইন (যেমন মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইন) সুস্পষ্টভাবে দায়রা আদালতকে সরাসরি আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। |
| ১৯৬ | দণ্ডবিধির অধ্যায় ৬ (১২৭ ধারা বাদে) ও ৯ক-এর অপরাধ এবং ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক, ৫০৫ ধারার অপরাধে আদালত আমলে নিতে পারে কেবল সরকার বা সরকার-ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আদেশে বা কর্তৃত্বে দায়েরকৃত অভিযোগের (complaint) ভিত্তিতে (ধারা ১৯৬)। |
| ১৯৭ | বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারের অনুমোদন ছাড়া অপসারণযোগ্য নন এমন সরকারি কর্মচারী যদি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে (বা পালনের ভান করে) কৃত অপরাধে অভিযুক্ত হন, তবে সরকারের পূর্বানুমোদন (previous sanction) ছাড়া আদালত আমলে নিতে পারে না। সরকার কে, কীভাবে ও কোন আদালতে অভিযোগ পরিচালনা করবে তাও নির্ধারণ করতে পারে (১৯৭(২))। এটি সব সরকারি কর্মচারীর জন্য সাধারণ রক্ষাকবচ নয় — ধারার নির্দিষ্ট শ্রেণী ও দাপ্তরিক কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা শর্ত। |
| ১৯৮ | মানহানির (defamation, দণ্ডবিধি ৪৯৯-৫০০) মামলায় রাষ্ট্র নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারে না — শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে বা তাঁর পক্ষে আইনত অনুমোদিত ব্যক্তি সরাসরি আদালতে ব্যক্তিগত অভিযোগ (private complaint) দাখিল করলেই আদালত তা আমলে নিতে পারবে, থানায় এজাহার করে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নয়। এর পেছনে যুক্তি হলো মানহানি মূলত ব্যক্তিগত সুনামের ক্ষতি, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়। |
| ১৯৯ | ধারা ১৯৯: দণ্ডবিধি ৪৯৭ বা ৪৯৮-এর অপরাধে কেবল নারীর স্বামীর অভিযোগে (স্বামীর অনুপস্থিতিতে আদালতের অনুমতিক্রমে নারীর তত্ত্বাবধায়কের অভিযোগে) আদালত আমলে নিতে পারে। (দণ্ডবিধি অধ্যায় ১৯/২১ ও ৪৯৩-৪৯৬ — যার মধ্যে ৪৯৪ — ধারা ১৯৮-এর আওতায়: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অভিযোগ ছাড়া আমলে নেওয়া যায় না।) |
| ১৯৯ক-১৯৯খ | ধারা ১৯৯ক: ১৮ বছরের কম বয়সী বা উন্মাদ ব্যক্তির পক্ষে অন্যের অভিযোগ দায়েরের আবেদনে বৈধ অভিভাবকের আপত্তি-সংক্রান্ত বিধান। ধারা ১৯৯খ: ধারা ১৯৮/১৯৯-এর দ্বিতীয় শর্তাংশের অধীনে স্বামীর অন্যকে অভিযোগ দায়েরের অনুমতির (authorization) ফরম ও শর্ত। |
গ. চার্জের ধরন ও যুক্তকরণ — ধারা ২২১-২৪০ (Chapter XIX)
| ধারা | নীতি | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ২৩৩, ২২১-২২৩ | ধারা ২৩৩: প্রতিটি স্বতন্ত্র অপরাধের জন্য আলাদা চার্জ এবং আলাদা বিচার — ব্যতিক্রম ধারা ২৩৪, ২৩৫, ২৩৬ ও ২৩৯-এ। (ধারা ২২১ = চার্জে অপরাধের উল্লেখ; ২২২ = সময়, স্থান ও ব্যক্তির বিবরণ; ২২৩ = অপরাধ সংঘটনের পদ্ধতি।) | এটিই সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়; পরীক্ষায় প্রথমে ২৩৩ ধারার সাধারণ নীতি লিখে তারপর প্রযোজ্য ব্যতিক্রম ধারা উল্লেখ করা উচিত। |
| ২৩৫ | যদি একই ধারাবাহিক কাজ (series of acts) এমনভাবে পরস্পর সংযুক্ত থাকে যে তারা একটিই সংঘটিত ঘটনা (same transaction) গঠন করে, তাহলে সেই ঘটনায় সংঘটিত একাধিক ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্য একইসাথে একাধিক চার্জ গঠন করে একই বিচারে বিচার করা যায়। “same transaction” নির্ধারণে সময়ের নৈকট্য, স্থানের নৈকট্য এবং কাজগুলোর মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক (continuity of purpose) বিবেচনা করা হয়। | চুরি করতে ঢুকে বাধা পেয়ে প্রহার করলে চুরি ও আঘাত — দুটি পৃথক অপরাধ হলেও একই ঘটনাপ্রবাহের অংশ হলে ধারা ২৩৫(১) অনুযায়ী উভয় অপরাধের জন্য চার্জ গঠন ও একই বিচার সম্ভব (may be charged and tried together)। |
| ২৩৪ | একই ব্যক্তি যদি একই ধরনের অপরাধ (ধারা ২৩৪(২): একই ধারার অধীন সমান শাস্তিযোগ্য) ১২ মাসের মধ্যে একাধিকবার সংঘটিত করে থাকে, তাহলে বিচারিক দক্ষতা ও সময় সাশ্রয়ের স্বার্থে একসাথে সর্বোচ্চ তিনটি ঘটনা পর্যন্ত একই বিচারে অন্তর্ভুক্ত করা যায় — এর বেশি হলে অতিরিক্ত ঘটনাগুলোর জন্য পৃথক বিচার প্রয়োজন হবে, যাতে একটি একক বিচারে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি না হয়। | একই পকেটমার যদি তিন মাসে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির পকেট থেকে চুরি করে থাকে এবং প্রতিটি ঘটনায় পৃথক অভিযোগ থাকে, তবু তিনটি অভিযোগ একসাথে একই বিচারে শোনা যাবে — চতুর্থ ঘটনা থাকলে তা আলাদা বিচারে যেতে হবে। |
| ২৩৯ | যখন একাধিক ব্যক্তি একই অপরাধ সংঘটনে সরাসরি জড়িত থাকে, অথবা কেউ মূল অপরাধী আর কেউ প্ররোচনাদাতা (abettor) বা ষড়যন্ত্রকারী (conspirator) হিসেবে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের সবাইকে একই বিচারে একসাথে বিচার করা যায় — কারণ তাদের কার্যক্রম একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একই সাক্ষ্যপ্রমাণ সবার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। | একটি ডাকাতির মামলায় মূল হোতা, সহযোগী ও যে ব্যক্তি পরিকল্পনায় প্ররোচনা দিয়েছিল — এই তিনজনকেই একসাথে একই চার্জশিটে বিচার করা যাবে, পুনরাবৃত্তিমূলক সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। |
| ২৩৬ | তদন্তের সময় যদি ঠিক কোন নির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন হয় (যেমন সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ একাধিক সম্ভাব্য অপরাধের দিকে নির্দেশ করে), তাহলে আদালত একসাথে একাধিক বিকল্প চার্জ (alternative charges) গঠন করতে পারে, এবং বিচার শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী যেটি প্রমাণিত হয় সেটিতেই দণ্ড দেওয়া যাবে। | একই সম্পত্তি হস্তান্তরের ঘটনা চুরি (৩৭৮) নাকি অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত সম্পত্তি গ্রহণ (৪১১) তা নিশ্চিত না হলে, তদন্ত কর্মকর্তা উভয় ধারায় বিকল্প চার্জ রেখে বিচার শুরু করতে পারেন এবং সাক্ষ্য শুনে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কোনটি প্রযোজ্য। |
| ২২৫, ২৩২ | ধারা ২২৫: চার্জে অপরাধ বা বিবরণের ভুল/বাদ পড়া কোনো পর্যায়েই “গুরুতর” গণ্য হবে না — যদি না আসামি সত্যিই বিভ্রান্ত হন এবং তাতে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটে। ধারা ২৩২: চার্জের অনুপস্থিতি বা ত্রুটিতে দণ্ডিত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভ্রান্ত হয়েছেন মনে করলে আপিল/রিভিশন আদালত নতুন বিচারের নির্দেশ দিতে পারে। ধারা ৫৩৫: চার্জ গঠন না হওয়া এককভাবে রায়কে অবৈধ করে না, ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটলে তবেই। | ধারা ২৩৭: একটি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন — আইনে নির্ধারিত শর্তে। |
| ২৩৯-২৪০ | ধারা ২৩৯: যেসব ব্যক্তিকে একসাথে চার্জ ও বিচার করা যায় — (ক) একই লেনদেনে একই অপরাধের অভিযুক্ত; (খ) অপরাধ এবং তার সহায়তা/চেষ্টার অভিযুক্ত; (গ) যৌথভাবে ১২ মাসে একই ধরনের একাধিক অপরাধ; (ঘ) একই লেনদেনে ভিন্ন অপরাধ; (ঙ) চুরি/চাঁদাবাজি/আত্মসাৎ এবং ঐ মাল গ্রহণ/গোপনে সহায়তাকারী; (চ) ধারা ৪১১ ও ৪১৪-এর অপরাধ; (ছ) জাল মুদ্রা-সংক্রান্ত অপরাধ। ধারা ২৪০: একাধিক চার্জের একটিতে দোষী সাব্যস্ত হলে বাকি চার্জ প্রত্যাহার বা স্থগিত করা যায়। (চার্জের বিবরণ — ধারা ২২১-২২৩।) | অস্পষ্ট বা অতি-সাধারণ চার্জ (যেমন শুধু “তিনি চুরি করেছেন” লিখে তারিখ-স্থান-সম্পত্তির বিবরণ না দেওয়া) আসামির ন্যায্য প্রতিরক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং আপিলে চার্জ বাতিল হওয়ার কারণ হতে পারে। |
Same transaction (২৩৫) → Three offences within twelve months (২৩৪) → Alternative যখন সন্দেহ (২৩৬; ফল ২৩৭) → Group/joint offenders (২৩৯)ক. ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ
সহায়তা ও তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব — ধারা ৪২, ৪৪, ৪৫
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৪২ | যখন কোনো পুলিশ অফিসার তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় (যেমন কাউকে গ্রেপ্তার করা, অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা, বা শান্তিভঙ্গ রোধ করা) সাহায্য চান, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি সেই বৈধ আদেশ মেনে সহায়তা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। এই দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি নিজেই দণ্ডবিধির অধীনে পৃথক অপরাধ (সরকারি কর্মচারীকে সহায়তা না করা) হিসেবে গণ্য হতে পারে। উদ্দেশ্য হলো একজন পুলিশ অফিসারকে একা রেখে না দিয়ে সমাজকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্মিলিত দায়বদ্ধতার অংশীদার করা। |
| ৪৪ | ধারা ৪৪: দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত ধারার (যেমন ১২১, ১২২, ৩০২, ৩০৩, ৩০৪, ৩৯২-৩৯৯, ৪৩৫, ৪৩৬ ইত্যাদি) অপরাধ সংঘটন বা সংঘটনের অভিপ্রায় সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত অজুহাত ছাড়া নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশকে জানাতে বাধ্য — “সব গুরুতর অপরাধ” নয়, কেবল ধারা ৪৪(১)-এর তালিকাভুক্ত ধারা। |
| ৪৫ | ধারা ৪৫: গ্রামের প্রধান, গ্রাম-হিসাবরক্ষক, গ্রাম-চৌকিদার, গ্রাম্য পুলিশ কর্মকর্তা, জমির মালিক বা দখলদার ও তাঁদের ব্যবস্থাপক এবং রাজস্ব/খাজনা আদায়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা — আইনে উল্লিখিত নির্দিষ্ট বিষয় নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার কর্মকর্তাকে অবিলম্বে জানাতে বাধ্য। (বিষয়ের তালিকা মূল ধারা ৪৫(১) থেকে দেখুন।) |
গ্রেপ্তার — ধারা ৪৬, ৫৪, ৬৪, ৬৫ (Chapter V)
- যুক্তিসংগত সন্দেহভাজন হিসেবে আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত
- বেআইনি অস্ত্র বহন করে
- ঘোষিত অপরাধী (proclaimed offender)
- চোরাই মাল দখলে রাখার সন্দেহভাজন
- পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়
- সামরিক বাহিনী থেকে পলাতক
- বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য বাংলাদেশে গ্রেপ্তারযোগ্য
- মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি হয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে
- অন্য পুলিশ অফিসারের গ্রেপ্তারের জন্য লিখিত অনুরোধ পাওয়া গেছে
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৪৬ | একজনকে গ্রেপ্তার করার আইনসম্মত পদ্ধতি হলো তাঁর শরীর স্পর্শ করে বা তাঁকে শারীরিকভাবে আটকে রেখে হেফাজতে নেওয়া — মৌখিক ঘোষণা “আপনি গ্রেপ্তার” বলাই যথেষ্ট নয়, প্রকৃত শারীরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে হবে (ব্যতিক্রম: যদি ব্যক্তি কথায় বা আচরণে স্বেচ্ছায় হেফাজতে জমা দেন)। যদি ব্যক্তি গ্রেপ্তার প্রতিরোধ করেন বা পালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বলপ্রয়োগ করা যায় — কিন্তু এই বলপ্রয়োগের একটি কঠোর সীমা আছে: যে অপরাধ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য নয়, সেই অপরাধে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর প্রাণনাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তা যত বলপ্রয়োগই প্রয়োজন হোক না কেন। |
| ৪৭-৪৮ | গ্রেপ্তারযোগ্য কোনো ব্যক্তি কোনো ঘরবাড়ি বা স্থানে অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য কারণ থাকলে এবং সেই স্থানে প্রবেশাধিকার চাওয়া সত্ত্বেও প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হলে, পুলিশ অফিসার প্রথমে নিজের পরিচয় ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করে প্রবেশের সুযোগ দাবি করবেন। এরপরও প্রবেশ প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করে দরজা বা জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন — তবে এই ক্ষমতা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন প্রথমে শান্তিপূর্ণ প্রবেশের প্রকৃত চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা ব্যর্থ হয়েছে। |
| ৪৮-৪৯ | একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি একটি স্থানে বৈধভাবে প্রবেশ করার পর দেখেন যে আটক করার মতো ব্যক্তি সেখান থেকে বের হতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন (অর্থাৎ কেউ তাঁকে বের হতে বাধা দিচ্ছে বা তিনি নিজে বেরিয়ে আসতে অস্বীকার করছেন), তাহলে পুলিশ অফিসার একই মাত্রার বলপ্রয়োগের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই ব্যক্তিকে বের করে আনতে পারবেন — এই দুটি ধারা একসাথে নিশ্চিত করে যে শুধু বাইরে থেকে প্রবেশে বাধা নয়, ভেতরে আটকে রাখার প্রচেষ্টাও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় বাধা হিসেবে গণ্য হবে না। |
তল্লাশি — ধারা ৯৮, ১০৩, ১০৫ (Chapter VII)
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৯৯ক | সরকার মনে করলে কোনো সংবাদপত্র, বই বা নথিতে দণ্ডবিধি ১২৩ক, ১২৪ক, ১৫৩ক, ২৯২, ২৯৫ক, ৫০৫, ৫০৫ক-এ দণ্ডনীয়, বা রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/স্পিকার/প্রধান বিচারপতির মানহানিকর, বা অত্যন্ত অশালীন/অশ্লীল বিষয়, বা আমলযোগ্য অপরাধে প্ররোচক বক্তব্য থাকলে গেজেট প্রজ্ঞাপনে কারণসহ ঐ সংখ্যার সব কপি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে পারে। এরপর ধারা ১০১ অনুযায়ী ৯৯ক-এর তল্লাশি-ওয়ারেন্টে ধারা ৪৩, ৭৫, ৭৭, ৭৯, ৮২-৮৪ প্রযোজ্য। |
| ১০৩ | যেকোনো তল্লাশি পরিচালনার সময় কমপক্ষে দুইজন স্থানীয় সম্মানিত ও স্বাধীন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে ডেকে আনা আইনত বাধ্যতামূলক — এই সাক্ষীরা পুলিশের সাথে সম্পর্কযুক্ত বা তাদের প্রভাবাধীন হতে পারবেন না, যাতে তল্লাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। তল্লাশিতে যা কিছু পাওয়া যায় তার একটি বিস্তারিত তালিকা (seizure list) প্রস্তুত করে সেখানে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে — এই তালিকাই পরবর্তীতে আদালতে প্রধান প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, এবং সাক্ষী ছাড়া তল্লাশি হলে তা পরবর্তীতে বিচারে চ্যালেঞ্জযোগ্য হয়ে পড়ে। |
| ৫২ | যখন কোনো নারীর দেহ তল্লাশি করার প্রয়োজন হয়, তখন তা অবশ্যই অন্য কোনো নারী দ্বারা এবং “কঠোরভাবে শালীনতা বজায় রেখে” (strict regard to decency) সম্পন্ন করতে হবে — এই বিধান নারীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার একটি স্পষ্ট আইনি সুরক্ষা, যা পুরুষ পুলিশ সদস্যকে নারী দেহ তল্লাশি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখে এবং তল্লাশি প্রক্রিয়ার পদ্ধতি (স্থান, উপস্থিত ব্যক্তি সংখ্যা) নিয়েও সতর্কতা আরোপ করে। |
অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ — ধারা ১২৭-১৩১ (Chapter IX)
৫ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ শান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা সৃষ্টি করলে Executive Magistrate বা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন
আদেশ অমান্য করলে বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ ও প্রয়োজনে গ্রেপ্তার/আটক
বেসামরিক শক্তি অপর্যাপ্ত হলে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাওয়ার ক্ষমতা
ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ (১৩০); যোগাযোগ অসম্ভব হলে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ (১৩১)
খ. অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি উদ্ধার — ধারা ১০০ (অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি)
গ. আত্মহত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যু রিপোর্ট — ধারা ১৭৪ ও ১৭৬
থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার নিকটতম Executive Magistrate-কে জানিয়ে দুই বা ততোধিক সম্মানিত স্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রেসক্রাইবড ফর্মে ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট তৈরি করেন — মৃত্যুর কারণ সন্দেহজনক হলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠান।
ম্যাজিস্ট্রেট নিজে স্বতন্ত্রভাবে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে পারেন এবং প্রয়োজনে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের (disinter) আদেশ দিতে পারেন — পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুতে (custodial death) এই judicial inquiry বাধ্যতামূলক।
Inquest রিপোর্টে যা থাকতে হয়
ঘ. জনউপদ্রব অপসারণ ও জনস্বত্ব অস্বীকারের প্রতিকার — ধারা ১৩৩-১৩৭, ১৩৯ক-১৪৩
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ১৩৩ | জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্ট বা অন্য তথ্যের ভিত্তিতে (প্রয়োজনে সাক্ষ্য নিয়ে) মনে করলে যে — জনসাধারণের ব্যবহার্য কোনো পথ, নদী, খাল বা সর্বসাধারণের স্থান থেকে বেআইনি বাধা বা উপদ্রব সরানো দরকার, কিংবা কোনো ব্যবসা/পেশা বা মালামাল রাখা জনস্বাস্থ্য বা শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষতিকর — তিনি শর্তসাপেক্ষ লিখিত আদেশ (conditional order) দিতে পারেন। (সব উপধারার তালিকা মূল ধারা ১৩৩(১) থেকে দেখুন।) |
| ১৩৪ | আদেশ সম্ভব হলে সমন জারির পদ্ধতিতে যার বিরুদ্ধে আদেশ তাকে জারি করা হবে; জারি করা না গেলে সরকার-নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঘোষণা (proclamation) প্রকাশ করতে হবে এবং উপযুক্ত স্থানে অনুলিপি টাঙাতে হবে। |
| ১৩৫ | আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি হয় (ক) আদেশে নির্ধারিত সময়ে ও পদ্ধতিতে নির্দেশিত কাজ করবেন, অথবা (খ) আদেশ অনুযায়ী হাজির হয়ে আদেশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবেন। |
| ১৩৬ | কাজ না করলে বা হাজির হয়ে কারণ না দর্শালে তিনি দণ্ডবিধি ১৮৮-এ নির্ধারিত শাস্তির দায়ে পড়েন এবং আদেশ চূড়ান্ত (absolute) হয়। |
| ১৩৭ | হাজির হয়ে কারণ দর্শালে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য গ্রহণ করেন (Chapter XX-এর পদ্ধতিতে); আদেশ যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ নয় মনে হলে আর কোনো কার্যক্রম হয় না; সন্তুষ্ট না হলে আদেশ চূড়ান্ত হয়। |
| ১৩৯ক | ১৩৩-এর আদেশ পথ, নদী, খাল বা স্থানের ব্যবহারে বাধা/উপদ্রব সংক্রান্ত হলে, আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাজির হলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে প্রশ্ন করবেন সেখানে জনসাধারণের অধিকার তিনি অস্বীকার করেন কি না। করলে ধারা ১৩৭-এর আগে অনুসন্ধান: নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য (reliable evidence) পেলে কার্যক্রম স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না উপযুক্ত দেওয়ানি আদালত ঐ অধিকারের অস্তিত্ব নির্ধারণ করে; না পেলে ধারা ১৩৭-এর পদ্ধতিতে এগোবেন। প্রশ্নে অস্বীকার না করলে, বা অস্বীকার করেও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে, পরে আর অস্বীকার করা যায় না (১৩৯ক(৩))। |
| ১৪০ | ধারা ১৩৬ বা ১৩৭ অনুযায়ী আদেশ চূড়ান্ত হলে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিকে নোটিশ দেবেন এবং নির্ধারিত সময়ে নির্দেশিত কাজ করতে বলবেন, না করলে দণ্ডবিধি ১৮৮-র শাস্তির কথা জানাবেন। সময়ে কাজ না হলে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে তা করাতে এবং খরচ আদায় করতে পারেন (ধারা ১৪০(২))। |
| ১৪২ | জরুরি ও তাৎক্ষণিক বিপদের ক্ষেত্রে (যেমন কোনো দালান ধসে পড়ার আশঙ্কা, বা মহামারি ছড়ানোর ঝুঁকি) সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে বলে ম্যাজিস্ট্রেট ১৩৩-এর আদেশ দেওয়ার পর গুরুতর আসন্ন বিপদ/ক্ষতি রোধে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যতটুকু প্রয়োজন সেই নিষেধাজ্ঞা (injunction) দিতে পারেন; দ্রুত পালন না হলে নিজে বা অন্যকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন (১৪২(২)) — এটি জরুরি প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ যা তদন্তের বিলম্বজনিত ঝুঁকি এড়ায়। |
| ১৪৩ | যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কার্যক্রম বারবার একই ধরনের বিপদ বা উপদ্রব সৃষ্টি করছে (যেমন একই স্থানে বারবার অবৈধ দখল বা একই কারখানা থেকে বারবার দূষণ), তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিকার না দিয়ে সেই নির্দিষ্ট কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার আদেশ দিতে পারেন, যাতে একই সমস্যা বারবার নতুন করে মোকাবিলা করতে না হয়। |
প্রক্রিয়ার প্রবাহ
নোটিশ জারি (১৩৪)
শান্তিরক্ষা ও সদাচরণের জন্য জামানত — ধারা ১০০, ১০৭-১১০, ১১২-১২৬ক
এটি Executive Magistrate-এর সবচেয়ে ব্যবহৃত ক্ষমতা — “preventive jurisdiction”। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার আগেই ভবিষ্যৎ শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ করা এর উদ্দেশ্য, শাস্তি দেওয়া নয়।
| ধারা | কার বিরুদ্ধে | ভিত্তি | বন্ডের মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| ১০৭ | এমন যেকোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে যে তিনি শান্তিভঙ্গ ঘটাতে পারেন বা অন্য কাউকে দিয়ে ঘটাতে পারেন — ধারা ১০৭-এর ভিত্তি হলো শান্তিভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা; নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষ থাকা আইনের শর্ত নয়। | শান্তিভঙ্গ (breach of peace) নিজে ঘটানোর, বা অন্য কাউকে ঘটাতে প্ররোচিত করার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা — নিছক সন্দেহ নয়, ম্যাজিস্ট্রেটকে “সম্ভাব্যতা” (likelihood) সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্তুষ্ট হতে হয়। | সর্বোচ্চ ১ বছর — ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে তার চেয়ে কম মেয়াদও নির্ধারণ করতে পারেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায়। |
| ১০৮ | যিনি মৌখিক বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা বা গুজবের মাধ্যমে জননিরাপত্তা-বিরোধী প্রবণতা ছড়াচ্ছেন — এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিপক্ষ থাকা আবশ্যক নয়, বরং সামগ্রিক জনশৃঙ্খলার ঝুঁকিই মূল বিবেচ্য বিষয়, যা একে ১০৭ থেকে গুণগতভাবে আলাদা করে। | ধারা ১০৮: কেউ মৌখিক, লিখিত বা অন্য কোনোভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে (ক) দণ্ডবিধি ১২৩ক বা ১২৪ক-এ দণ্ডনীয় রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বিষয়, (খ) ১৫৩ক-এ দণ্ডনীয় বিষয়, বা (গ) বিচারকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন/মানহানির বিষয় প্রচার (বা প্রচারের চেষ্টা/সহায়তা) করছেন — এ তথ্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এলে। (সম্পাদক, মালিক, মুদ্রক বা প্রকাশকের বিরুদ্ধে এই ধারায় কার্যক্রম নেওয়া যায় না — আইনের শর্তাংশ দেখুন।) | সর্বোচ্চ ১ বছর — একই মেয়াদসীমা ১০৭-এর সমান্তরালে রাখা হয়েছে যাতে দুই ধরনের ঝুঁকিকে সমান গুরুত্বে দেখা হয়। |
| ১০৯ | ধারা ১০৯ প্রযোজ্য হয় তথ্য পেলে যে — (ক) কেউ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে নিজের উপস্থিতি গোপনের সতর্কতা নিচ্ছেন বলে বিশ্বাসের কারণ আছে; অথবা (খ) কারও দৃশ্যমান জীবিকা নেই বা তিনি নিজের সম্পর্কে সন্তোষজনক বিবরণ দিতে পারেন না। এগুলো বিকল্প ভিত্তি — সবগুলো একসাথে প্রয়োজন নয়। | ধারা ১০৯: তথ্য পেলে যে (ক) কেউ অপরাধ করার উদ্দেশ্যে নিজের উপস্থিতি গোপনের সতর্কতা নিচ্ছেন বলে বিশ্বাসের কারণ আছে, বা (খ) কারও দৃশ্যমান জীবিকা নেই বা তিনি নিজের সম্পর্কে সন্তোষজনক বিবরণ দিতে পারেন না — ম্যাজিস্ট্রেট কারণ দর্শাতে বলতে পারেন; ভালো আচরণের বন্ড (জামিনদারসহ) সর্বোচ্চ ১ বছর। (ক) ও (খ) বিকল্প ভিত্তি। | সর্বোচ্চ ১ বছর। |
| ১১০ | ধারা ১১০: তথ্য পেলে যে কেউ (ক) অভ্যাসগতভাবে ডাকাত, সিঁধেল চোর, চোর বা জালিয়াত; (খ) চোরাই মালের জ্ঞাতসারে গ্রহণকারী; (গ) অভ্যাসগতভাবে চোরকে আশ্রয় দেয় বা চোরাই মাল গোপন/নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে; (ঘ) অভ্যাসগতভাবে অপহরণ, আটক-অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা অনিষ্টসাধন (এবং দণ্ডবিধি অধ্যায় ১২/৪৮৯ক-৪৮৯ঘ-এর অপরাধ) করে বা সহায়তা করে; (ঙ) অভ্যাসগতভাবে শান্তিভঙ্গজনক অপরাধ করে; বা (চ) এমন মরিয়া ও বিপজ্জনক যে জামানত ছাড়া মুক্ত থাকা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ — তবে কারণ দর্শাতে বলা যায়; সর্বোচ্চ ৩ বছর। | সাক্ষ্য হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরিহার্য নয়; ধারা ১১৭(৪) অনুযায়ী অভ্যাসগত অপরাধী বা বিপজ্জনক ব্যক্তি হওয়ার বিষয়টি সাধারণ সুনাম (general repute) বা অন্যভাবে প্রমাণ করা যায়। | সর্বোচ্চ ৩ বছর — অন্য তিনটি ধারার তুলনায় দীর্ঘতম, কারণ অভ্যাসগত অপরাধপ্রবণতাকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়। |
প্রক্রিয়াগত ধারাসমূহ (১১২-১২৬ক)
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ১১২ | ধারা ১০৭-১১০ এর যেকোনো একটির ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করার প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হলো একটি লিখিত “কারণ দর্শাও” আদেশ (order to show cause) জারি করা — এই আদেশে অবশ্যই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কী কারণে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে (সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য), বন্ডের প্রস্তাবিত মেয়াদ এবং বন্ডের প্রস্তাবিত পরিমাণ — যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঠিক জানেন তাঁকে কিসের বিরুদ্ধে জবাব দিতে হবে, ফাঁকা বা অস্পষ্ট আদেশ আইনত বাতিলযোগ্য। |
| ১১৩ | ধারা ১১২-এর আদেশ আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিকে পড়ে শোনানো বা ব্যাখ্যা করা হয় (ধারা ১১৭(১)-এ এর উল্লেখ আছে)। |
| ১১৪ | আদালতে অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য সমন বা (শর্তসাপেক্ষে) ওয়ারেন্ট জারি; ধারা ১১২-এর আদেশের অনুলিপি সাথে যায় (ধারা ১১৫)। |
| ১১৭ | ধারা ১১৭: আদেশ ধারা ১১৩ অনুযায়ী পড়ে শোনানোর পর বা ধারা ১১৪-এর সমন/ওয়ারেন্টে হাজির হলে ম্যাজিস্ট্রেট তথ্যের সত্যতা অনুসন্ধান করেন। পদ্ধতি: শান্তিরক্ষার জামানতের ক্ষেত্রে summons-case-এর মতো, ভালো আচরণের জামানতের ক্ষেত্রে warrant-case-এর মতো — কোনো ক্ষেত্রেই চার্জ গঠন লাগে না (১১৭(২))। অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিখিত কারণে অন্তর্বর্তী বন্ড/আটক (১১৭(৩)); সাধারণ সুনাম বা অন্যভাবে অভ্যাসগত অপরাধী বা বিপজ্জনক ব্যক্তি হওয়ার প্রমাণ (১১৭(৪)); একাধিক ব্যক্তি জড়িত হলে একসাথে বা আলাদা অনুসন্ধান (১১৭(৫))। |
| ১১৭-১১৮ | ধারা ১১৭: আদেশের ভিত্তিতে তথ্যের সত্যতা অনুসন্ধান — শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে summons-case এবং ভালো আচরণের ক্ষেত্রে warrant-case পদ্ধতিতে (চার্জ গঠন ছাড়া); অনুসন্ধান চলাকালীন তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী বন্ড/আটক (১১৭(৩)); অভ্যাসগত অপরাধী বা বিপজ্জনক ব্যক্তি সাধারণ সুনামের সাক্ষ্যে প্রমাণ করা যায় (১১৭(৪)); একাধিক ব্যক্তি জড়িত হলে একসাথে অনুসন্ধান (১১৭(৫))। ধারা ১১৮: অনুসন্ধানে সত্যতা প্রমাণিত হলে নিরাপত্তা-মুচলেকার আদেশ। |
| ১২১-১২৩ | চূড়ান্ত আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত বন্ড বা জামানত (নগদ অর্থ বা সম্পত্তি বন্ধক) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারাগারে প্রেরণ করা যায়, তবে এই কারাবাস আদেশের নির্ধারিত মূল মেয়াদের (যেমন ১ বা ৩ বছর) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে — এটি বন্ড না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে অনির্দিষ্টকালীন আটক নয়, বরং একটি পূর্বনির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রতিরোধমূলক আটক। |
| ১২৬ক | ধারা ১২২(৩)-এর শর্তাংশ বা ১২৬(২)-এর অধীনে জারি করা সমন/ওয়ারেন্টে কেউ হাজির হলে বা তাকে আনা হলে ম্যাজিস্ট্রেট তার আগের বন্ড বাতিল করবেন এবং বন্ডের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য একই ধরনের নতুন জামানত দিতে আদেশ দেবেন; এই আদেশ ১২১-১২৪-এর জন্য ধারা ১০৬ বা ১১৮-এর আদেশ গণ্য হয় (ধারা ১২৬ক)। |
ধারা ১০৭ প্রক্রিয়ার ধাপ (Flowchart)
শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার তথ্য পুলিশ বা ব্যক্তির কাছ থেকে
ম্যাজিস্ট্রেট লিখিত আদেশে কারণ ও বন্ডের শর্ত উল্লেখ করেন
ব্যক্তিকে হাজির হতে বলা হয়
উভয়পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, warrant-case পদ্ধতি অনুসরণ
মুক্তি, কোনো বন্ড লাগবে না
নির্দিষ্ট মেয়াদে (সর্বোচ্চ ১ বছর) শান্তিরক্ষার মুচলেকা/জামানতসহ বন্ড
কারাগারে প্রেরণ, নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত
১০৭-১১০ ধারার ধাপসমূহ এবং CrPC_17-559 ফাইলগুলোতে এই ধাপগুলোই বিস্তারিত ডায়াগ্রামসহ দেওয়া আছে — মূল কাঠামো এখানে যা দেখানো হলো তার সাথে হুবহু মিলবে।- প্রবিধান ২৮৭: ধারা ১০৭ ও ১৪৫-এর অধীন কার্যক্রমে ডুপ্লিকেট রিপোর্ট নির্ধারিত ফর্মে দাখিল করতে হয় (B.P. Form No. 36)
- প্রবিধান ২৮৮: ধারা ১০৯-এর অধীন গ্রেপ্তারের পর জামিন দিতে ব্যর্থ হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ; PRB ২৮৮ অনুযায়ী ধারা ১০৯-এর কার্যক্রম শুরুর আগে জামিন না দিতে পারা ব্যক্তিকে ধারা ১৬৭-এ মোট ১৫ দিনের বেশি হেফাজতে রাখা যায় না; বর্তমান ধারা ১৬৭(২)-এ পুলিশ হেফাজত সর্বোচ্চ ১৫ দিন, এরপর প্রয়োজনে বিচারিক হেফাজত
- প্রবিধান ২৮৯: ধারা ১১০-এর অধীন সাব-ইন্সপেক্টরের গোপন অনুসন্ধান পদ্ধতি — দাগী অপরাধী সন্দেহে গোপনে তথ্য সংগ্রহ
- প্রবিধান ২৯০: “সাধারণ সুনাম” (general repute) সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার শর্ত — সাক্ষীদের নিরপেক্ষ হতে হবে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগৃহীত হতে হবে, ব্যক্তিগত আক্রোশমুক্ত হতে হবে (ধারা ১১৭(৪)-এর সাথে সম্পর্কিত)
ধারা-শৃঙ্খল (Section Chain) — বিচ্ছিন্ন নম্বর নয়, একটি প্রবাহ হিসেবে মনে রাখুন
মনে রাখুন: ১০৭ → ১১২ (আদেশ) → ১১৩ (উপস্থিতকে পড়ে শোনানো) / ১১৪ (অনুপস্থিতের জন্য সমন-ওয়ারেন্ট) → ১১৬ → ১১৭ (অনুসন্ধান) → ১১৮ (মুচলেকার আদেশ) → ১২৩ (অনাদায়ে কারাদণ্ড); ধারা ১১১ রহিত — এই ক্রমেই বাস্তবে ফাইল এগোয়। ১০৮, ১০৯, ১১০ একই শৃঙ্খলের ভিন্ন “প্রবেশদ্বার” মাত্র (ভিন্ন ভিত্তিতে শুরু হয়, কিন্তু ১১২-এর পর একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে)।
Show-Cause নোটিশের কঙ্কাল (ধারা ১১২, ধারা ১০৭-এর সাথে পঠিত) — ফিল্ড ড্রাফটিং অনুশীলন
- প্রাপ্ত তথ্যের সারমর্ম (শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার বিবরণ)
- বন্ডের পরিমাণ ও প্রয়োজনীয় জামিনদারের সংখ্যা
- বন্ড কার্যকর থাকার মেয়াদ (সর্বোচ্চ ১ বছর — ১০৭/১০৮/১০৯; ৩ বছর — ১১০)
- কেন বন্ড কার্যকর করা হবে না তার কারণ দর্শানোর নির্দেশ
এই চারটি উপাদানের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে নোটিশটি আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ (defective) বিবেচিত হতে পারে — পরীক্ষায় “নোটিশে কী থাকতে হবে” জাতীয় প্রশ্নে এই চারটি পয়েন্ট লিখুন।
গুরুত্ব-স্তর (Recall Tier) — কোন ধারায় কতটা সময় দেবেন
প্রতিটি ধারা সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিচের চার স্তরে ভাগ করে রিভিশনের সময় বরাদ্দ করুন — 🔴 A-তে সবচেয়ে বেশি সময়, ⚪ D শুধু চেনার জন্য।
| স্তর | ধারাসমূহ | কেন |
|---|---|---|
| A | ১০৭, ১৪৪, ১৪৫, ৫৪, ১৯৭, ৪৯৬/৪৯৭ | প্রতিটি ব্যাচে পরীক্ষায় আসে + প্রতিদিনের ফিল্ড কাজে সরাসরি ব্যবহার হয় |
| B | ১০৮, ১০৯, ১১০, ১৩৩, ১৪৭, ১৭৪, ১৭৬, ১০০, ৪, ১৭ | ঘন ঘন আসে, ধারা নম্বর ও মূল শর্ত জানা জরুরি |
| C | ১১২-১২৬ক (প্রক্রিয়াগত), ২২১-২৪০, ১৯০-১৯৯খ, ৩৫৩-৩৬৫ | প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বুঝলেই যথেষ্ট, প্রতিটি উপ-ধারা মুখস্থ নয় |
| D | ৪৯২-৪৯৫, ৫১৩-৫১৬ | প্রশাসনিক/ফরম্যাট সংক্রান্ত — শুধু চিনে রাখুন |
🧭 এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লিগ্যাল ম্যাপ
লক্ষ্য: একটি বাস্তব পরিস্থিতি দেখেই মাথায় সঙ্গে সঙ্গে সঠিক ধারা চলে আসা — এটাই আসল “legal literacy”, ধারা মুখস্থ থাকা নয়।
| ফিল্ড পরিস্থিতি | প্রথম আইনি এলাকা | যে ধারা মনে আসা উচিত |
|---|---|---|
| ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা | প্রতিরোধমূলক (Preventive) | ১০৭-১২৬ক |
| তাৎক্ষণিক জরুরি জনশৃঙ্খলা সংকট | জরুরি আদেশ | ১৪৪ |
| জমি/পানি নিয়ে বিরোধ, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা | দখল বিরোধ নিষ্পত্তি | ১৪৫ / ১৪৬ |
| জমি/পানি ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিরোধ | ব্যবহার-অধিকার বিরোধ | ১৪৭ |
| রাস্তা বাধা/ক্ষতিকর ব্যবসা/বিপজ্জনক স্থাপনা | জনউপদ্রব | ১৩৩-১৪৩ |
| ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, শান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা | অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ | ১২৭-১৩১ |
| অস্বাভাবিক/সন্দেহজনক মৃত্যু | পুলিশ ইনকোয়েস্ট | ১৭৪ |
| থানা হেফাজতে মৃত্যু | বাধ্যতামূলক ম্যাজিস্ট্রেট ইনকোয়ারি | ১৭৬ |
| কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে | উদ্ধার আদেশ | ১০০ |
| পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের প্রশ্ন | গ্রেপ্তার ক্ষমতা | ৫৪, ৪৬ |
| তল্লাশি পরিচালনা | তল্লাশি পদ্ধতি | ৯৮, ১০৩, ১০৫ |
| জামিনের প্রশ্ন | জামিন বিধান | ৪৯৬-৫০২ |
| অপরাধ cognizable/bailable কিনা | শ্রেণীবিভাগ যাচাই | Schedule II |
| সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলার প্রশ্ন | আমলে নেওয়ার পূর্বশর্ত | ১৯৭ |
| রায় লেখার কাঠামো | রায়ের বিষয়বস্তু | ৩৬৬-৩৭৩ |
ক. জরুরি ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ — ধারা ১৪৪
ধারা ১৪৪ বনাম ধারা ১৩৩ — পার্থক্য
নির্দিষ্ট persistent nuisance (রাস্তা বাধা, ক্ষতিকর ব্যবসা) — conditional order → শুনানি → absolute হওয়ার সুযোগ থাকে
তাৎক্ষণিক জরুরি বিপদ (দাঙ্গা, শান্তিভঙ্গ আশঙ্কা) — জরুরি অবস্থায় বা সময়মতো নোটিশ জারি সম্ভব না হলে ex-parte আদেশ দেওয়া যায় (১৪৪(২))
- তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ/দ্রুত প্রতিকার কেন আবশ্যক তার সুনির্দিষ্ট কারণ
- কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে বা কী করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তার স্পষ্ট বর্ণনা
- আদেশের কার্যকারিতার মেয়াদ (সর্বোচ্চ ২ মাস; সরকারি প্রজ্ঞাপনে ভিন্ন নির্দেশ থাকলে তার উল্লেখ)
- একতরফা (ex-parte) হওয়ার ব্যাখ্যা — কেন আগে থেকে শুনানি সম্ভব ছিল না
কনফিউশন পেয়ার — ১৪৪ বনাম ১৩৩
নির্দিষ্ট persistent nuisance — conditional order → নোটিশ → শুনানির সুযোগ → absolute
তাৎক্ষণিক জরুরি বিপদ — সরাসরি ex-parte আদেশ, আগাম শুনানি ছাড়াই কার্যকর
খ. দখল সংক্রান্ত বিরোধ — ধারা ১৪৫ ও ১৪৭
ধারা ১৪৫ প্রক্রিয়ার ধাপ
জমি/পানি নিয়ে বিরোধ শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি করছে
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকৃত দখলের বিষয়ে নিজ নিজ দাবির লিখিত বক্তব্য (written statements) দাখিলের নির্দেশ
সাক্ষী জেরা, স্থানীয় তদন্ত রিপোর্ট (পুলিশ/সার্ভেয়ার), দলিল পরীক্ষা
কোন পক্ষ প্রকৃত দখলে আছে তা ঘোষণা এবং সেই দখল আইনানুগ পদ্ধতি ছাড়া বিঘ্নিত না করার নির্দেশ
কোনো পক্ষের দখল প্রমাণিত না হলে সম্পত্তি ক্রোক (attachment) করে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ
কনফিউশন পেয়ার — ১৪৫ বনাম ১৪৭
জমি/পানির দখল (possession) নিয়ে বিরোধ — কে বর্তমানে দখলে আছে তা নির্ধারণ
জমি/পানি ব্যবহারের অধিকার (right of use) নিয়ে বিরোধ — যেমন সেচ/পথাধিকার
ক. সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধকরণ — ধারা ৩৫৩-৩৬৫ (Chapter XXV)
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৩৫৩ | বিচার চলাকালীন সাক্ষ্য গ্রহণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক উপস্থিতি সাধারণ নিয়ম — এর পেছনের যুক্তি হলো অভিযুক্তের নিজের চোখে সাক্ষীকে দেখার, সাক্ষ্য সরাসরি শোনার এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে জেরার প্রস্তুতি নেওয়ার অধিকার রক্ষা করা (fair trial-এর মূল ভিত্তি)। |
| ৩৫৪ | সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারক নিজে তা লিখবেন, অথবা নিজের নির্দেশনায় অন্য কাউকে লিখিয়ে নেবেন — |
| ৩৫৫-৩৫৬ | যেহেতু সমন-মামলা (summons case) তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ নিয়ে গঠিত এবং দ্রুত নিষ্পত্তিযোগ্য হওয়ার কথা, তাই এখানে পূর্ণাঙ্গ verbatim সাক্ষ্য না লিখে সাক্ষ্যের মূল বিষয়বস্তুর সারমর্ম (memorandum/substance) লেখাই যথেষ্ট — এটি বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে, তবে সারমর্ম যথেষ্ট বিস্তারিত হতে হবে যাতে আপিলে মূল সাক্ষ্যের সারবস্তু বোঝা যায়। |
| ৩৬০ | সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ হওয়ার পর তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সাক্ষীকে পড়ে শোনাতে হবে (অথবা তাঁর ভাষায় অনুবাদ করে শোনাতে হবে), যাতে তিনি নিশ্চিত করতে পারেন যে লিপিবদ্ধ বিবরণ তাঁর প্রকৃত বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ — যদি কোনো অসামঞ্জস্য থাকে, সাক্ষী তা সংশোধনের অনুরোধ করতে পারেন এবং সেই সংশোধনী রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়া সাক্ষ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার একটি মৌলিক সুরক্ষা। |
| ৩৬৪ | অভিযুক্তের নিজের জবানবন্দি (statement/examination of accused, সাধারণত ধারা ৩৪২-এর অধীনে) লিপিবদ্ধ করার সময়ও একই ধরনের নির্ভুলতা ও পদ্ধতিগত যত্ন প্রয়োজন — বিচারককে প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তর যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে, কারণ এই জবানবন্দি প্রায়ই অভিযুক্তের নিজের মুখে বলা একমাত্র সরাসরি বক্তব্য হিসেবে রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। |
খ. রায় — ধারা ৩৬৬-৩৭৩ (Chapter XXV)
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৩৬৭ | রায়ের আবশ্যকীয় বিষয়বস্তু — একটি বৈধ রায়ে তিনটি উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে: (ক) নির্ধারণযোগ্য বিষয়গুলো (points for determination) কী কী ছিল তার সুস্পষ্ট উল্লেখ, (খ) প্রতিটি বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ (সাক্ষ্য বিশ্লেষণসহ), এবং (গ) যদি অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে ঠিক কোন ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলেন এবং কী দণ্ড আরোপ করা হলো তার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ। শুধু উপসংহার লিখে দিলে (যেমন “দোষী, যাবজ্জীবন”) তা বৈধ রায় হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ কারণ-বিহীন সিদ্ধান্ত আসামির আপিলের অধিকারকে অর্থহীন করে তোলে। |
| ৩৬৮ | মৃত্যুদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে রায়ের ভাষায় শাস্তি কার্যকর করার পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে — সাধারণত “গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে” এই সুনির্দিষ্ট ভাষায়, কেবল “মৃত্যুদণ্ড” লিখে দেওয়া যথেষ্ট নয়। এই সুনির্দিষ্টতা নিশ্চিত করে যে দণ্ড কার্যকরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষেত্রে ভাষাগত নির্ভুলতা বজায় থাকে। |
| ৩৬৯ | একবার বিচারক রায় স্বাক্ষর করে ঘোষণা করার পর তিনি নিজে সেই রায় পরিবর্তন, সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে পারেন না — এই নীতি রায়ের চূড়ান্ততা (finality) ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হলো স্পষ্ট কেরানিগত বা গাণিতিক ভুল (clerical or arithmetical error) সংশোধন, অথবা উচ্চতর আদালতে আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমে পরিবর্তন — নিম্ন আদালত নিজে থেকে পুনর্বিবেচনা করতে পারে না। |
| ৩৭১ | রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত ব্যক্তির আইনগত অধিকার আছে রায়ের একটি সত্যায়িত অনুলিপি (certified copy) পাওয়ার, যা তাঁকে যথাযথ নিয়ম মেনে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত ফি দিয়ে সরবরাহ করতে হবে (ধারা ৩৭১(১); চ্যাপ্টার ২০-এর মামলা ছাড়া বিনা খরচে)। |
| ৩৭২ | রায় সাধারণত সেই আদালতের নির্ধারিত ভাষায় (বাংলাদেশে সাধারণত বাংলা) লেখা হওয়া উচিত; যদি কোনো কারণে রায় ইংরেজিতে লেখা হয়, তাহলে আসামির অনুরোধে বা প্রয়োজনে বিনামূল্যে বাংলা অনুবাদ সরবরাহের বিধান রাখা হয়েছে, যাতে ভাষাগত বাধার কারণে আসামি তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বুঝতে অক্ষম না হন। |
রায় লেখার চারটি অপরিহার্য অংশ
নির্ধারণযোগ্য বিষয় (Point for determination) — চার্জশিট থেকে হুবহু না নিয়ে আদালতের নিজস্ব ভাষায় কী প্রমাণ করতে হবে তা লেখা
সাক্ষ্যের মূল্যায়ন — সাক্ষী ধরে ধরে বিশ্লেষণ, প্রতি-জেরায় উত্থাপিত অসামঞ্জস্যের আলোচনা
প্রমাণের মান — অভিযোগ সংশয়াতীতভাবে (beyond reasonable doubt) প্রমাণিত কিনা তার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত
চূড়ান্ত আদেশ — ধারা ৩৬৭ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ধারায় দণ্ড বা খালাসের আদেশ
গ. দণ্ড কার্যকরকরণ ও মওকুফ — Chapter XXXII (নির্বাচিত ধারা) ও ৪০১-৪০২ক
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৩৭৪, ৩৮১ | দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের নিশ্চিতকরণের জন্য পাঠাতে হয় (ধারা ৩৭৪); নিশ্চিতকরণ বা অন্য আদেশ পাওয়ার পর দায়রা আদালত ওয়ারেন্টে তা কার্যকর করায় (ধারা ৩৮১)। জরিমানা আদায়ের ওয়ারেন্ট — ধারা ৩৮৬-৩৮৭। |
| ৩৮৩-৩৮৫ | দণ্ড ঘোষণার পর কারাদণ্ড কার্যকর করার জন্য আদালতকে একটি আনুষ্ঠানিক ওয়ারেন্ট (কমিটমেন্ট ওয়ারেন্ট) জারি করতে হয়, যা নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসরণ করে কারা কর্তৃপক্ষকে আসামিকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেয় — এই ওয়ারেন্ট ছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ কাউকে বৈধভাবে আটক রাখতে পারে না, তাই এটি রায় ও প্রকৃত কারাবাসের মধ্যে সংযোগকারী আইনি দলিল। |
| ৪০১ | সরকারের দণ্ড মওকুফ/হ্রাস/রূপান্তরের নির্বাহী ক্ষমতা — সরকার (সাধারণত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে) যেকোনো সময়, বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে, কোনো দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মওকুফ (remission) করতে পারে, শর্তসাপেক্ষ বা শর্তহীনভাবে, অথবা একটি দণ্ডকে অপেক্ষাকৃত কম কঠোর দণ্ডে রূপান্তরিত (commutation) করতে পারে — যেমন মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবনে রূপান্তর। এই ক্ষমতা বিচার বিভাগীয় আপিলের বিকল্প নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ পৃথক নির্বাহী বিবেচনার ক্ষেত্র, যা মানবিক কারণ, সরকারি নীতি বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান (যেমন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাজা মওকুফ) উপলক্ষেও প্রয়োগ হতে পারে। |
| ৪০২ | ধারা ৪০১-এর অধীনে সরকারের এই ক্ষমতা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের সাংবিধানিক ক্ষমতার সাথে সাংঘর্ষিক নয় বরং উভয়ই একসাথে সহাবস্থান করে — একটি সাংবিধানিক স্তরে (রাষ্ট্রপতি), অন্যটি সাধারণ আইনি/প্রশাসনিক স্তরে (সরকার/স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কার্যকর, এবং দুটি ক্ষমতা একে অপরকে প্রতিস্থাপন করে না, বরং সম্পূরক হিসেবে কাজ করে। |
| ৪০২ক | মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ধারা ৪০১ ও ৪০২-এর ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিও প্রয়োগ করতে পারেন। |
ঘ. পাবলিক প্রসিকিউটর — ধারা ৪৯২-৪৯৫
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৪৯২ | প্রতিটি জেলায় সরকার একজন সরকারি কৌঁসুলি (Public Prosecutor, PP) এবং প্রয়োজনে একাধিক অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (Additional PP) নিয়োগ দেয়, যাঁরা রাষ্ট্রের পক্ষে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করেন — এই নিয়োগ সাধারণত রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে বাস্তবে, যদিও আইনগতভাবে এটি একটি পেশাগত ও প্রশাসনিক নিয়োগ যার লক্ষ্য ফৌজদারি বিচারে রাষ্ট্রের স্বার্থ পেশাদারভাবে উপস্থাপন করা। |
| ৪৯৩ | ধারা ৪৯৩: যে মামলা তাঁর দায়িত্বে আছে সেই মামলায় (অনুসন্ধান, বিচার বা আপিলে) PP লিখিত কর্তৃত্বপত্র ছাড়াই যেকোনো আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন; কোনো বেসরকারি ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ করলে PP-ই মামলা পরিচালনা করেন এবং সেই আইনজীবী তাঁর নির্দেশনায় কাজ করেন। |
| ৪৯৪ | সরকারি কৌঁসুলি বিচারের যেকোনো পর্যায়ে (রায় ঘোষণার আগে) আদালতের সম্মতি নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের (withdraw from prosecution) সিদ্ধান্ত নিতে পারেন — এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচক্ষণ ক্ষমতা যা প্রায়ই প্রমাণের দুর্বলতা, জনস্বার্থ বা নীতিগত কারণে প্রয়োগ হয়। প্রত্যাহারের আইনি ফলাফল মামলার পর্যায়ের ওপর নির্ভরশীল — চার্জ গঠনের আগে প্রত্যাহার হলে তা অব্যাহতি (discharge) হিসেবে গণ্য হয় (যা পরবর্তীতে নতুন প্রমাণে পুনরায় মামলা করার সুযোগ রাখে), আর চার্জ গঠনের পরে প্রত্যাহার হলে তা খালাস (acquittal) হিসেবে গণ্য হয় (যা double jeopardy-এর সুরক্ষা দেয়, একই অপরাধে পুনরায় বিচার করা যায় না)। |
| ৪৯৫ | ধারা ৪৯৫: অনুসন্ধান বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট পদমর্যাদার নিচের নন এমন যেকোনো ব্যক্তিকে (পুলিশ কর্মকর্তা নির্ধারিত পদের নিচে হলে নয়) মামলা পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন; অ্যাটর্নি-জেনারেল, গভর্নমেন্ট সলিসিটর, PP বা সরকার-ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি লাগে না। |
ঙ. জামিন — ধারা ৪৯৬-৫০২ (Chapter XXXIX)
জামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া বাধ্যতামূলক (as of right) — এটি ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশের বিবেচনার বিষয় নয়, আইনি অধিকার।
মৃত্যুদণ্ড/যাবজ্জীবনযোগ্য অপরাধে জামিন সাধারণত পাওয়া যায় না, তবে আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা আছে বিশেষ পরিস্থিতিতে (ধারা ৪৯৭(১)-এর শর্তাংশ: ১৬ বছরের কম বয়সী, নারী, অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তি)।
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৪৯৮ | ধারা ৪৯৮(১): বন্ডের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত হবে এবং অতিরিক্ত হবে না; হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোনো ক্ষেত্রে (আপিল থাকুক বা না থাকুক) জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিতে বা পুলিশ/ম্যাজিস্ট্রেট-নির্ধারিত জামিনের পরিমাণ কমাতে পারে। ধারা ৪৯৮(২): জামিন দেওয়ার সময় আদালত যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করতে পারে। (জামিন-প্রাপ্তকে আবার গ্রেপ্তারের ক্ষমতা — ধারা ৪৯৭(৫)।) |
| ৪৯৯ | ধারা ৪৯৯(৩) (২০২৬): আদালতের অনুমতিতে বন্ড অভিযুক্ত নিজে, আইনজীবীর মাধ্যমে বা অনলাইন ব্যবস্থায় জমা দেওয়া যায় — জামিনদারের পরিচয় ও যোগ্যতা জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য উপযুক্ত উপায়ে যাচাইসাপেক্ষে। ধারা ৪৯৯(১): জামিনে বা নিজের বন্ডে মুক্তির আগে পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত যথেষ্ট মনে করা অঙ্কের বন্ড এবং জামিনে মুক্তির ক্ষেত্রে এক বা একাধিক উপযুক্ত জামিনদারসহ বন্ড সম্পাদন করতে হয়, যেখানে নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে হাজির হওয়ার শর্ত থাকে। |
| ৫০০ | একবার আদালত জামিনের শর্ত নির্ধারণ করে দিলে এবং আসামি বা তাঁর জামিনদার সেই শর্ত অনুযায়ী বন্ড/মুচলেকা যথাযথভাবে সম্পন্ন করলে, আদালতের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে আসামিকে মুক্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বর্তায় — এই মুক্তি বিলম্বিত করা বা অতিরিক্ত শর্ত জুড়ে দেওয়া যাবে না, কারণ বন্ড সম্পন্ন হওয়া মাত্র জামিনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যায়। |
| ৫০২ | ধারা ৫০২: জামিনে মুক্ত ব্যক্তির এক বা একাধিক জামিনদার যেকোনো সময় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বন্ড (পুরো বা তাদের অংশে) বাতিলের আবেদন করতে পারেন; ম্যাজিস্ট্রেট ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় হাজির করান ও বন্ড বাতিল করে নতুন যথেষ্ট জামিনদার দিতে বলেন; না দিতে পারলে পরিণাম আইনে বর্ণিত। (জামিনদার মারা গেলে বা দেউলিয়া হলে নতুন জামানতের বিধান — ধারা ৫১৪ক।) |
চ. বন্ড — ধারা ৫১৩-৫১৬
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ৫১৩ | বন্ড বা মুচলেকা সম্পাদনের পরিবর্তে আদালত বা কর্মকর্তা (ভালো আচরণের বন্ড ছাড়া) নগদ অর্থ বা সরকারি প্রমিসরি নোট জমা রাখার অনুমতি দিতে পারেন (ধারা ৫১৩)। |
| ৫১৪ | যদি বন্ডের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হয় (সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণ — আসামি নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়া), তাহলে বন্ড বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রমাণিত হলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে বন্ডে আবদ্ধ যেকোনো ব্যক্তিকে জরিমানা দিতে বা কারণ দর্শাতে বলতে পারে (ধারা ৫১৪(১)), যাতে তাঁরা ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পান কেন বন্ডের অর্থ আদায় করা হবে না। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে আদালত বন্ডের সম্পূর্ণ বা আংশিক অর্থ আদায়ের আদেশ দিতে পারে, যা প্রয়োজনে ভূমি রাজস্ব বকেয়ার মতো বলপূর্বক আদায় করা যায়। |
| ৫১৫ | ধারা ৫১৫: ধারা ৫১৪-এর অধীন যেকোনো আদেশের (বন্ড বাজেয়াপ্ত-সংক্রান্ত) বিরুদ্ধে আপিল — নির্বাহী/জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে যথাক্রমে DM, সেশন জজ বা মেট্রোপলিটন সেশন জজের কাছে; আপিল না হলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিভিশন করতে পারে। |
| ৫১৬ | ধারা ৫১৬: হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালতে হাজির হওয়ার বন্ডের প্রাপ্য অর্থ আদায়ে ঐ আদালত যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিতে পারে। |
ছ. তফসিল (আইনের পাঠ অনুযায়ী)
২০২৬ সংশোধনীতে দ্বিতীয় তফসিলের পরিবর্তন (আইনের ধারা ২৮): দণ্ডবিধি ১৪৩ — Compoundable; ১৪৪ — Not compoundable; ৩২৫ — Warrant ও Not bailable। পঞ্চম তফসিল: নতুন ফরম IA (গ্রেপ্তার-স্মারক, ধারা ৪৬ক)।
দ্রুত রিভিশন শিট — পরীক্ষার আগের রাতের জন্য
১ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ধারাগুলোর ১-লাইন সারাংশ
| ধারা | এক লাইনে |
|---|---|
| ৫৪ | পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ভিত্তি (আইনের পাঠে ১০টি ক্রম) |
| ১০০ | অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি উদ্ধারের আদেশ |
| ১০৭ | শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় মুচলেকা — সর্বোচ্চ ১ বছর |
| ১০৯ | সন্দেহজনক জীবিকার ব্যক্তি — জীবিকার ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ |
| ১১০ | অভ্যাসগত অপরাধী — সর্বোচ্চ ৩ বছরের মুচলেকা |
| ১৩৩ | জনউপদ্রব অপসারণের conditional order |
| ১৪৪ | জরুরি ক্ষেত্রে ex-parte নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ ২ মাস (সরকার প্রজ্ঞাপনে ভিন্ন নির্দেশ দিতে পারে) |
| ১৪৫ | জমি/পানির দখল নিয়ে বিরোধ — মূল প্রশ্ন প্রকৃত দখল; স্বত্বের চূড়ান্ত নির্ণয় দেওয়ানি আদালতের |
| ১৭৪ | পুলিশের ইনকোয়েস্ট — অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রাথমিক রিপোর্ট |
| ১৭৬ | ম্যাজিস্ট্রেটের স্বতন্ত্র ইনকোয়ারি — custodial death-এ বাধ্যতামূলক |
| ১৯৭ | সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলায় সরকারের পূর্বানুমতি আবশ্যক |
| ২৩৩ | মূলনীতি: পৃথক অপরাধ = পৃথক বিচার |
| ৩৬৭ | রায়ে থাকতে হবে: নির্ধারণযোগ্য বিষয়, সিদ্ধান্ত, ধারা ও দণ্ড |
| ৪০১ | সরকারের দণ্ড মওকুফ/হ্রাসের ক্ষমতা |
| ৪৯৬ | জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন = অধিকার |
| ৪৯৭ | জামিন-অযোগ্য অপরাধে জামিন = বিবেচনামূলক |
২ Executive বনাম Judicial Magistrate — এক নজরে
- Preventive jurisdiction: ১০০, ১০৭-১১০, ১৩৩-১৪৭
- DM-এর অধীন (ধারা ১৭)
- Trial/conviction ক্ষমতা নেই
- ফৌজদারি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-পরবর্তী সীমিত ভূমিকা
- Trial, conviction, sentencing ক্ষমতা
- CJM/CMM-এর অধীন (ধারা ১৭)
- সাক্ষ্য গ্রহণ (৩৫৩-৩৬৫), রায় প্রদান (৩৬৬-৩৭৩)
- বিচার বিভাগের অংশ, নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক
৩ মনে রাখার সব মনেমনিক এক জায়গায়
৪ সাধারণ ভুল যা পরীক্ষার্থীরা করে
- Executive ও Judicial Magistrate-এর ক্ষমতা গুলিয়ে ফেলা
- ধারা ১৭৪ ও ১৭৬ কে এক করে ফেলা (পুলিশ ইনকোয়েস্ট vs ম্যাজিস্ট্রেট ইনকোয়ারি)
- ধারা ১৪৫-কে মালিকানা নির্ধারণের ধারা মনে করা (এটি শুধু দখল নির্ধারণ করে)
- ধারা ১০৭-১১০ কে punitive (শাস্তিমূলক) মনে করা, যেখানে এটি preventive
- ধারা ২৩৩ (পৃথক বিচার) ও ২৩৪/২৩৫/২৩৬/২৩৯ (যৌথ বিচারের ব্যতিক্রম) এর প্রয়োগক্ষেত্র গুলিয়ে ফেলা
- জামিন প্রত্যাখ্যানে case-specific কারণ না দিয়ে গৎবাঁধা ভাষা ব্যবহার করা
🧠 অনুশীলন ও রিকল — শুধু পড়া নয়, মনে রাখা নিশ্চিত করুন
গবেষণায় প্রমাণিত সবচেয়ে কার্যকর ৫টি স্মৃতি-ধরে-রাখার কৌশল এখানে প্রয়োগ করা হলো: (১) পঠন-অগ্রগতি ট্র্যাকিং — কোন অংশ বাকি তা স্পষ্ট থাকা, (২) Active Recall ফ্ল্যাশকার্ড স্প্যাসড-রিপিটিশনসহ, (৩) তাৎক্ষণিক ফিডব্যাকসহ MCQ কুইজ প্রতি সেশনে, (৪) Cloze/Fill-in-the-blank ধারা-স্মরণ ড্রিল, (৫) দুর্বল জায়গা রিপোর্ট — কোন ধারায় বারবার ভুল হচ্ছে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করা। সব তথ্য আপনার ব্রাউজারেই সংরক্ষিত থাকে (localStorage) — পরের বার এলে অগ্রগতি মনে থাকবে।
এখনো কোনো কুইজ দেওয়া হয়নি — উপরের ট্যাব থেকে অনুশীলন শুরু করুন।
🆕 CrPC (সংশোধনী) আইন ২০২৬ — ধারাভিত্তিক পূর্ণ তালিকা
| আইনের ধারা | CrPC | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ২ | ধারা ৩২ | জরিমানার সীমা: (ক) ১০ হাজার → ৫ লক্ষ টাকা ও “Whipping” বিলুপ্ত; (খ) ৫ হাজার → ৩ লক্ষ; (গ) ২ হাজার → ২ লক্ষ টাকা |
| ৩ | ৪৬ক-৪৬ঙ (নতুন) | গ্রেপ্তারের পদ্ধতি ও কর্মকর্তার দায়িত্ব; রেজিস্টার ও জেনারেল ডায়েরি; মনোনীত কর্মকর্তা; স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা; চিকিৎসা পরীক্ষা |
| ৪ | ধারা ৫১ | জব্দ জিনিসের তালিকা সাক্ষীর উপস্থিতিতে, সম্ভব হলে স্বাক্ষরসহ; অনুলিপি গ্রেপ্তারি বা মনোনীত ব্যক্তিকে |
| ৫ | ধারা ৫৪ (প্রতিস্থাপিত) | ১১ ক্রম; ৭ বছর পর্যন্ত অপরাধে বিশ্বাসের কারণ + গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা; লিখিত কারণ; গ্রেপ্তার না করলেও লিখিত কারণ |
| ৬ | ৫৪ক (নতুন) | গ্রেপ্তারের সময়ই কারণ জানানো |
| ৭ | ৬৭ক (নতুন) | হাজির করা ম্যাজিস্ট্রেট/আদালত গ্রেপ্তার-বিধান পালন যাচাই করবেন; অবহেলায় লঙ্ঘনে লিখিত কারণে সার্ভিস বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থার নির্দেশ |
| ৮ | ধারা ৬৯ | নতুন উপ-ধারা (৪): আদালত সমন SMS, ভয়েস কল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বা ই-মেইলে জারির নির্দেশ দিতে পারে; জারির প্রমাণ নথিতে সংরক্ষিত |
| ৯ | ধারা ৭০ | “male” শব্দ বিলুপ্ত (ধারা ১২৮-এ নয়) |
| ১০ | ধারা ১৬৭(২), ১৬৭(২ক) | পুলিশ হেফাজত মোট ১৫ দিন; এরপর বিচারিক হেফাজত (সশরীরে বা ভিডিও লিংকে হাজিরা); “judicial custody”-র ব্যাখ্যা; পুলিশ হেফাজতের আগে ও পরে চিকিৎসা পরীক্ষা |
| ১১ | ১৬৭ক (নতুন) | shown arrest-এর শর্ত; প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য গ্রেপ্তারে বিচারিক হেফাজত অনুমোদন নিষিদ্ধ; আইনবিরুদ্ধ আটকে দণ্ডবিধি ২২০ |
| ১২ | ১৭৩ক (নতুন; ১০ জুলাই ২০২৫ থেকে) | অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন; অপর্যাপ্ত সাক্ষ্যে অব্যাহতি (ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল); পরে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পেলে নাম পুলিশ রিপোর্টে আনা যায় |
| ১৩ | ১৭৩খ (নতুন) | ৬০ কার্যদিবসে তদন্ত সম্পন্ন; সময় বাড়ানো; দেরির ফল; সাক্ষী করা; তদন্তকারীর অবহেলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ |
| ১৪ | ধারা ২৪৭ | শব্দবিন্যাস: “In a case instituted upon complaint, if on…” (অভিযোগ-ভিত্তিক মামলায় ফরিয়াদি অনুপস্থিত থাকার বিধান) |
| ১৫ | ধারা ২৫০ | মিথ্যা, তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক অভিযোগে ক্ষতিপূরণ — “may” → “shall”; অঙ্ক ১০০০/৫০০ → ৫০,০০০/২৫,০০০; ১০০ → ৫,০০০; ৩০০০ → ১ লক্ষ টাকা |
| ১৬ | ধারা ২৬০(১) | (ঘ)-(ছ) দফায় ১০ হাজার → ৫ লক্ষ টাকা (সংক্ষিপ্ত বিচারের মূল্যসীমা) |
| ১৭ | ২৬৪ক (নতুন) | সংক্ষিপ্ত বিচারে চার্জ, সাক্ষ্য, ধারা ৩৪২-এর পরীক্ষা ও রায় সম্ভব হলে একই বৈঠকে |
| ১৮ | ধারা ৩৩৯খ | পলাতক আসামির জন্য আদেশ একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে প্রকাশ; না এলে অনুপস্থিতিতে বিচার; আদালত অতিরিক্তভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারে |
| ১৯ | ধারা ৩৪৫ | নতুন সারি: ধারা ১৪৩ (অবৈধ সমাবেশের সদস্য) — যার বিরুদ্ধে সমাবেশ, তিনি আপস করতে পারেন; নতুন (৮): উভয় পক্ষ সম্মত হলে আইনগত সহায়তা কর্মকর্তা/আইনজীবীর মাধ্যমে আপস ও চুক্তি নথিভুক্ত |
| ২০ | ধারা ৩৯০-৩৯৫ | বিলুপ্ত |
| ২১ | ধারা ৩৯৬(১) | “fine or whipping” → “or fine” |
| ২২-২৩ | ধারা ৪১৩, ৪১৪ | ৫০ টাকা ও ২০০ টাকা → ৫,০০০ টাকা |
| ২৪ | ধারা ৪৯৮ | বিদ্যমান বিধান (১); নতুন (২): জামিনে মুক্তির সময় আদালত পলায়ন রোধ বা সদাচরণ নিশ্চিতে যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করতে পারে |
| ২৫ | ধারা ৪৯৯ | নতুন (৩): বন্ড আসামি নিজে, আইনজীবীর মাধ্যমে বা আদালতের অনুমতিতে অনলাইনে জমা; জামিনদারের NID বা অন্য উপায়ে যাচাই |
| ২৬ | ধারা ৫৪০ক | (১)-এ শব্দ সংশোধন; নতুন (৩): তদন্ত পর্যায়ে জামিনে থাকা, আইনজীবী-প্রতিনিধিত্বপ্রাপ্ত আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা লিখিত কারণে অব্যাহতি |
| ২৭ | ধারা ৫৪৪ | শিরোনাম: “Expenses and protection of complainants, witnesses and victims”; (১)-এ “rules” → “order”; নতুন (২): সংবাদদাতা, ফরিয়াদি, ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর নিরাপত্তায় যেকোনো পর্যায়ে আদেশ |
| ২৮ | দ্বিতীয় তফসিল | এন্ট্রি ১৪৩ → Compoundable; ১৪৪ → Not Compoundable; ৩২৫ → Warrant ও Not bailable |
| ২৯ | পঞ্চম তফসিল | নতুন ফরম IA (গ্রেপ্তার-স্মারক, ধারা ৪৬ক) — ১৭টি তথ্যঘর |
| ৩০ | রহিতকরণ | ২০২৫ সনের ৩৬ নং ও ৪১ নং অধ্যাদেশ রহিত; তাদের অধীন কৃত কাজ এই আইনের অধীন কৃত গণ্য |
📋 তালিকা-ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর ও পার্থক্য (আইনের পাঠ থেকে যাচাইকৃত)
- পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমলযোগ্য অপরাধ করলে
- ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য আমলযোগ্য অপরাধে: যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ/তথ্য/সন্দেহ + অপরাধ করেছেন বলে বিশ্বাসের কারণ + গ্রেপ্তার প্রয়োজনীয় (আরও অপরাধ রোধ, যথাযথ তদন্ত, সাক্ষ্য নষ্ট রোধ, সাক্ষীকে প্ররোচনা/হুমকি রোধ বা আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত — যেকোনো একটি); কারণ লিখিত
- ৭ বছরের বেশি বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য আমলযোগ্য অপরাধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও বিশ্বাসের কারণ
- বিনা বৈধ অজুহাতে সিঁধেল চুরির সরঞ্জাম রাখা
- ঘোষিত অপরাধী
- চোরাই সম্ভাব্য মাল দখলে ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহ
- পুলিশকে কর্তব্যে বাধা বা হেফাজত থেকে পলায়ন/পলায়নের চেষ্টা
- সশস্ত্র বাহিনীর পলাতক সন্দেহ
- বাংলাদেশের বাইরে কৃত কাজ, যার জন্য প্রত্যর্পণ আইনে আটক করা যায়
- মুক্তিপ্রাপ্ত দণ্ডিতের ধারা ৫৬৫(৩)-এর নিয়ম ভঙ্গ
- অন্য পুলিশ কর্মকর্তার নির্দিষ্ট অনুরোধ (requisition)
অতিরিক্ত: ধারা ৫৪(২)-এ প্রতিরোধমূলক আটকের উদ্দেশ্যে এই ধারায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ; গ্রেপ্তারের সময় কারণ জানানো — ধারা ৫৪ক।
- জনসাধারণের ব্যবহার্য পথ, নদী, খাল বা কোনো সর্বজনীন স্থানে বেআইনি বাধা বা উপদ্রব
- কোনো ব্যবসা/পেশা বা মালামাল রাখা জনস্বাস্থ্য বা শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষতিকর হলে — নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ, মাল অপসারণ
- কোনো ভবন নির্মাণ বা পদার্থ নিষ্পত্তি অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে — প্রতিরোধ বা বন্ধ
- কোনো ভবন, তাঁবু, কাঠামো বা গাছ পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় — অপসারণ, মেরামত বা ঠেকা
- পথ বা সর্বজনীন স্থানের পাশের পুকুর, কূপ বা খননস্থল বিপদ এড়াতে বেড়া দেওয়া
- বিপজ্জনক প্রাণী ধ্বংস, আটক বা অন্যভাবে নিষ্পত্তি
আদেশদাতা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরবর্তী ধাপ: ১৩৪-১৪০, ১৩৯ক (ফ্লোচার্ট নিচে)।
| পরিস্থিতি | ম্যাজিস্ট্রেটের ইনকোয়ারি |
|---|---|
| পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কেউ মারা গেলে | বাধ্যতামূলক — নিকটস্থ ইনকোয়েস্ট-ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট “shall” (১৭৬(১)) |
| আত্মহত্যা (১৭৪(১)(ক)) | ঐচ্ছিক — “may”, পুলিশ তদন্তের বদলে বা সাথে |
| অন্য কারো দ্বারা, পশু, যন্ত্র বা দুর্ঘটনায় নিহত (১৭৪(১)(খ)) | ঐচ্ছিক |
| এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যু যেখানে অন্য কেউ অপরাধ করেছে বলে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ (১৭৪(১)(গ)) | ঐচ্ছিক |
অতিরিক্ত: কবর দেওয়া লাশ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেট তা তুলতে পারেন (১৭৬(২)); ইনকোয়ারিতে ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধ-অনুসন্ধানের সমান ক্ষমতা। ধারা ১৭৪: থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বা বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা) নিকটস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সংবাদ দেবেন, দুই বা ততোধিক সম্মানিত স্থানীয় বাসিন্দার উপস্থিতিতে তদন্ত করে মৃত্যুর আপাত কারণ ও আঘাতের চিহ্নসহ রিপোর্ট করবেন।
| ধারা | কাদের বিরুদ্ধে | বন্ডের ধরন | সর্বোচ্চ মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| ১০৭ | শান্তিভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা | শান্তিরক্ষা | ১ বছর |
| ১০৮ | রাষ্ট্রদ্রোহ (১২৩ক/১২৪ক), ১৫৩ক-এর বিষয়, বিচারকের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন/মানহানি প্রচার | ভালো আচরণ | ১ বছর |
| ১০৯ | উপস্থিতি গোপনের সতর্কতা; দৃশ্যমান জীবিকাহীন/সন্তোষজনক বিবরণ দিতে অক্ষম | ভালো আচরণ | ১ বছর |
| ১১০ | অভ্যাসগত অপরাধী বা মরিয়া ও বিপজ্জনক ব্যক্তি (তালিকা ধারা ১১০(ক)-(চ)) | ভালো আচরণ | ৩ বছর |
| ১০৬ (তুলনা) | দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর | শান্তিরক্ষা | ৩ বছর |
পদ্ধতি: শান্তিরক্ষা → summons-case, ভালো আচরণ → warrant-case; চার্জ গঠন নেই (১১৭(২)); প্রমাণ — ১১৭(৪)।
| ধারা | বিষয় (আইনের শিরোনাম অনুযায়ী) |
|---|---|
| ১০, ১৭ | নিয়োগ ও অধীনতা (DM-এর অধীন) |
| ৩৬, ৩৭ | ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা (তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত); সরকার, CJM বা DM কর্তৃক অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান (৩৭) |
| ৮৩-৮৬ | ওয়ারেন্ট এখতিয়ারের বাইরে প্রেরণ/কার্যকরের পদ্ধতি |
| ৯৮, ১০০ | তল্লাশি (চোরাই মাল; অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি) |
| ১০৭-১১০, ১২৬ | প্রতিরোধমূলক জামানত; জামিনদার অব্যাহতি |
| ১২৭-১৩১ | অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ |
| ১৩৩, ১৪৩ | জনউপদ্রব; পুনরাবৃত্তি নিষেধ |
| ১৪৪ | জরুরি ক্ষেত্রে আদেশ |
| ১৪৫, ১৪৭ | জমি/পানি দখল ও ব্যবহারের অধিকার বিরোধ |
| ১৭৪ | অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংবাদ গ্রহণ |
| ১৯০(৪) | সরকারের বিশেষ আদেশে আমলে নেওয়ার ক্ষমতা |
| ৫১৫, ৫৬৫ | বন্ড-সংক্রান্ত আদেশের আপিল; পূর্ব-দণ্ডিতের ঠিকানা জ্ঞাপন |
তৃতীয় তফসিলের “সাধারণ ক্ষমতার” বিস্তারিত তালিকা আমার আইনের পাঠে পাইনি — মূল তফসিল দেখুন।
| ধারা | বিষয় | মূল কথা |
|---|---|---|
| ১২৭ | ছত্রভঙ্গের আদেশ | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা; অবৈধ সমাবেশ বা ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ যা শান্তি বিঘ্ন ঘটাতে পারে |
| ১২৮ | বেসামরিক বল | আদেশ না মানলে বা ছত্রভঙ্গ না হওয়ার সংকল্প দেখালে বল প্রয়োগ, “male person”-এর সহায়তা চাওয়া (সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নয়), প্রয়োজনে গ্রেপ্তার ও আটক |
| ১২৯ | সামরিক বল | অন্যভাবে সম্ভব না হলে ও জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে উপস্থিত সর্বোচ্চ পদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার) সামরিক বল দিয়ে ছত্রভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেন |
| ১৩০ | তলবকৃত সেনা-অফিসারের দায়িত্ব | ম্যাজিস্ট্রেট/কমিশনারের অনুরোধে সেনা-অফিসার ছত্রভঙ্গ ও গ্রেপ্তার করেন; ন্যূনতম বল ও ন্যূনতম ক্ষতি |
| ১৩১ | কমিশন্ড অফিসারের জরুরি ক্ষমতা | জননিরাপত্তা স্পষ্টত বিপন্ন ও কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ অসম্ভব হলে সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার; যোগাযোগ সম্ভব হলেই ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মানতে হয় |
| ১৩২ | সুরক্ষা | এই অধ্যায়ের অধীনে কৃত কাজের জন্য মামলা থেকে সুরক্ষা |
| ধারা | সময় | কীসের জন্য |
|---|---|---|
| ৬১ ও সংবিধান অনু. ৩৩(২) | ২৪ ঘণ্টা (ভ্রমণকাল বাদে) | গ্রেপ্তারির পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে আটকে রাখা যায় না |
| ৪৬ক | ২৪ ঘণ্টা; যথাসম্ভব ১২ ঘণ্টা | নিজ বাসস্থানের বাইরে গ্রেপ্তারে পরিবারকে জানানো; আইনজীবী/আত্মীয়ের সাথে দেখা |
| ১৬৭(২) | মোট ১৫ দিন | পুলিশ হেফাজতের সর্বোচ্চ সীমা; এরপর বিচারিক হেফাজত |
| ১৬৭(৫) | ১২০ দিন | তদন্ত শেষ না হলে জামিন বিবেচনা (অপরাধের ধরন অনুযায়ী আদালত ভিন্ন) |
| ১৭৩খ | ৬০ কার্যদিবস | তদন্ত সম্পন্নের সাধারণ সময়; কারণ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন |
| ১৪৪(৬) | ২ মাস | ধারা ১৪৪ আদেশের মেয়াদ; সরকার গেজেটে ভিন্ন নির্দেশ দিতে পারে |
| ১২৩(৩) শর্তাংশ | সর্বোচ্চ ৩ বছর | জামানত না দিতে পারায় কারাবাসের সর্বোচ্চ সময় |
| ৫১৪(৪) | সর্বোচ্চ ৬ মাস | জরিমানা আদায় না হলে দেওয়ানি কারাবাস |
| ১৪৫(৪) শর্তাংশ | ২ মাস | আদেশের আগের ২ মাসে জোরপূর্বক বেদখল হলে সেই পক্ষকে দখলদার ধরা যায় |
- নিজের নামের স্পষ্ট পরিচয়-চিহ্ন ধারণ
- পরিচয় প্রকাশ ও চাইলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন
- গ্রেপ্তার-স্মারক (memorandum of arrest) তৈরি — সাক্ষীর প্রত্যয়ন ও গ্রেপ্তারি ব্যক্তির স্বাক্ষর/টিপসই
- নিজ বাসস্থানের বাইরে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবার/আত্মীয়/মনোনীত বন্ধুকে সময়, স্থান ও আটকস্থল জানানো
- আঘাতের চিহ্ন থাকলে চিকিৎসা (৪৬ঙ) ও আঘাতের কারণ লিপিবদ্ধ
- পছন্দের আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সাথে — যথাসম্ভব ১২ ঘণ্টার মধ্যে — দেখা করতে দেওয়া
- অভ্যাসগত ডাকাত, সিঁধেল চোর, চোর বা জালিয়াত
- চোরাই মাল জ্ঞাতসারে গ্রহণকারী
- অভ্যাসগতভাবে চোরকে আশ্রয় দেয় বা চোরাই মাল গোপন/নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে
- অভ্যাসগতভাবে অপহরণ, আটক-অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা অনিষ্টসাধন (ও আইনের তালিকাভুক্ত অন্য অপরাধ) করে বা সহায়তা করে
- অভ্যাসগতভাবে শান্তিভঙ্গজনক অপরাধ করে
- এমন মরিয়া ও বিপজ্জনক যে জামানত ছাড়া মুক্ত থাকা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ২২১-২২৩ | চার্জের আকার; সময়-স্থান-ব্যক্তি; অপরাধের পদ্ধতি |
| ২৩৩ | সাধারণ নিয়ম: প্রতিটি স্বতন্ত্র অপরাধের জন্য আলাদা চার্জ ও বিচার |
| ২৩৪ | ১২ মাসে একই ধরনের অনধিক ৩টি অপরাধ একসাথে |
| ২৩৫ | একই লেনদেনের একাধিক অপরাধ — একই বিচারে চার্জ সম্ভব |
| ২৩৬ | সন্দেহ থাকলে বিকল্প চার্জ |
| ২৩৭ | একটি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন (আইনে নির্ধারিত শর্তে) |
| ২৩৮ | ক্ষুদ্রতর অপরাধ/চেষ্টা |
| ২৩৯ | যেসব ব্যক্তিকে একসাথে চার্জ ও বিচার করা যায় (ক-ছ, ৭টি শ্রেণী) |
| ২৪০ | একটিতে দণ্ডের পর বাকি চার্জ প্রত্যাহার/স্থগিত |
| ধারা | বাধ্যতামূলক (shall) | ঐচ্ছিক (may) |
|---|---|---|
| ১৩৩ | — | শর্তসাপেক্ষ আদেশ দিতে পারেন |
| ১৩৭(২),(৩) | আদেশ যুক্তিসঙ্গত নয় — আর কার্যক্রম নয়; সন্তুষ্ট না হলে আদেশ চূড়ান্ত (absolute) | — |
| ১৩৯ক(১) | জনস্বত্ব অস্বীকার করেন কি না জিজ্ঞাসা করবেন | — |
| ১৪৪ | — | আদেশ দিতে পারেন (DM/বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) |
| ১১৯ | প্রয়োজন প্রমাণ না হলে নথিতে লিখে মুক্তি/অব্যাহতি | — |
| ১২৩(১),(২) | জামানত না দিলে কারাদণ্ড; ১ বছরের বেশি মেয়াদে সেশন জজের কাছে কার্যক্রম পাঠানো | — |
| ১৭৬(১) | পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুতে ইনকোয়ারি | অন্য ১৭৪(১)(ক)-(গ) ক্ষেত্রে |
| ৫১৪(১) | কারণ লিপিবদ্ধ করা | বন্ডে আবদ্ধ ব্যক্তিকে জরিমানা দিতে বা কারণ দর্শাতে বলতে পারেন |
| ৫১৪ক | — | নতুন জামানত দিতে আদেশ দিতে পারেন |
- অভিযোগ (complaint) — ধারা ১৯০(১)(ক)
- পুলিশ কর্মকর্তার লিখিত রিপোর্ট — ১৯০(১)(খ)
- পুলিশ ছাড়া অন্য কারও তথ্য বা নিজের জ্ঞান/সন্দেহ — ১৯০(১)(গ); এ ক্ষেত্রে ধারা ১৯১ অনুযায়ী অভিযুক্তকে অন্য আদালতে বিচারের আপত্তির অধিকার জানাতে হয়
- ধারা ৬৪ — ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপরাধ করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ ও হেফাজতে প্রেরণ
- ধারা ৬৫ — যার জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারেন, তাকে নিজের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ
- ধারা ৮৩, ৮৪, ৮৬ — ওয়ারেন্ট এখতিয়ারের বাইরে প্রেরণ ও গ্রেপ্তারকৃতকে নেওয়ার পদ্ধতি
- ধারা ৯৫ — চিঠি/টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত পদ্ধতি (ডাক/টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নথি)
- ধারা ১০০ — অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তির তল্লাশি-ওয়ারেন্ট
- ধারা ১০৫ — নিজের উপস্থিতিতে তল্লাশির নির্দেশ
- ধারা ১০৭ — শান্তিরক্ষার জামানত
- ধারা ১০৯ — ভবঘুরে ও সন্দেহভাজনের সদাচরণের জামানত
- ধারা ১১০ — অভ্যাসগত অপরাধীর সদাচরণের জামানত
- ধারা ১২৬ — জামিনদার অব্যাহতি
- ধারা ১২৭ — অবৈধ সমাবেশকে ছত্রভঙ্গের আদেশ
- ধারা ১২৮ — বেসামরিক বল দিয়ে ছত্রভঙ্গ
- ধারা ১৩০ — সামরিক বল দিয়ে ছত্রভঙ্গের জন্য সেনা-অফিসারকে অনুরোধ
- ধারা ১৩৩ — জনউপদ্রবে শর্তসাপেক্ষ আদেশ
- ধারা ১৪২ — জরুরি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (injunction pending inquiry)
- ধারা ১০(৪) — নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ (সরকারের নিয়ন্ত্রণে)
- ধারা ৯৫(১) — ডাক/টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের হেফাজতের নথি তলব
- ধারা ১২৪ — জামানত দিতে না পেরে কারাবন্দিকে মুক্তি
- ধারা ১২৫ — যেকোনো সময় লিখিত কারণে শান্তিরক্ষা/সদাচরণের বন্ড বাতিল (নিজ জেলায়, নিজের চেয়ে নিম্ন আদালতের)
- ধারা ১৪৪ — জরুরি আদেশ (বা বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট)
- ধারা ১৪৭ — ব্যবহারের অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ
- ধারা ১৪৮ — স্থানীয় অনুসন্ধানের জন্য অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ
- ধারা ৪৯২(২) — সরকারি কৌঁসুলি না থাকলে অন্য কাউকে নিয়োগ
- ধারা ৫১৫ — ধারা ৫১৪-এর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল/রিভিশন
- ধারা ৫১৮ — সম্পত্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অর্পণ
- ধারা ৫৫২ — অপহৃত নারী/১৬ বছরের কম বয়সী মেয়ের উদ্ধার আদেশ
- ১০(১): প্রতি জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে এবং একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করে
- ১০(২): যেকোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করা যায়; সরকারের নির্দেশমতো তার DM-র সব বা কিছু ক্ষমতা থাকবে
- ১০(৩): DM-এর পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে জেলার প্রধান নির্বাহী পদে উত্তরাধিকারী কর্মকর্তা সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত DM-র সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রয়োগ করেন
- ১০(৪): সরকার (বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে DM) আদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্থানীয় এলাকা নির্ধারণ করে; অন্যথায় তাঁর এখতিয়ার সারা জেলায়
- ১০(৫): বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন)-এর যেকোনো সদস্যকে সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারে
- ১০(৬): সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ নিজ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
- ১০(৭): মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার অন্য আইনে পুলিশ কমিশনারকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সব বা কিছু ক্ষমতা দিতে পারে
- ১২(১): সরকার মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে নির্দিষ্ট মামলা, মামলার শ্রেণী বা সাধারণভাবে স্থানীয় এলাকায় যেকোনো ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সব বা কিছু ক্ষমতা দিতে পারে — শর্তাংশ: সহকারী পুলিশ সুপারের নিচের পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেওয়া যাবে না; আর দেওয়া হলেও কেবল শান্তি রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত-গ্রেপ্তার-আটক করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করা ও অন্য আইনের দায়িত্বের জন্য যতটুকু প্রয়োজন
- ১২(২): এঁরা “বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট”; সরকারের সাধারণ/বিশেষ আদেশে নির্ধারিত মেয়াদে নিযুক্ত
- ১২(৩): হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শে সরকার মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিতে পারে
- ১২(৪): এঁরা “বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট”; হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শে নির্ধারিত মেয়াদে নিযুক্ত
- ১২(৫): হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্দিষ্ট ক্ষমতা
- ১২(৬): এঁরা “বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট”
🔀 ফ্লোচার্ট (ধারা-ভিত্তিক প্রক্রিয়া)
ধূসর = ধাপ · হলুদ = সিদ্ধান্ত · সবুজ = ফলাফল/সমাপ্তি। ফ্লোচার্টগুলো আইনের পাঠ থেকে মিলিয়ে তৈরি।
⚖️ বাংলাদেশ-ধাঁচের কেস স্টাডি — তথ্যচিত্র (Documentary) ধরনের প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
BCS লিখিত ও ভাইভার প্যাটার্ন অনুসরণ করে সাজানো। প্রতিটি কেসে একটি বাস্তবধর্মী ঘটনাপ্রবাহ (থানার ডায়েরি/প্রতিবেদন আকারে) দেওয়া আছে, তারপর ধাপে ধাপে প্রশ্ন — প্রথমে সরাসরি তত্ত্ব যাচাই, পরে প্রয়োগ, শেষে “যদি পরিস্থিতি এভাবে বদলাতো” টাইপ ভ্যারিয়েশন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ধারা উল্লেখসহ দেওয়া আছে — নিজে উত্তর লেখার পর মিলিয়ে দেখুন।
সেশন ০১ — আদালতের শ্রেণী, ক্ষমতা ও আমলযোগ্যতার সংজ্ঞা (ধারা ৪, ৪ক, ৫, ৬)
প্রশ্ন ১: ধারা ৪-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী কোন অপরাধটি “আমলযোগ্য” (cognizable) এবং কোনটি ওয়ারেন্ট-মামলা? ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন ২: ডিউটি অফিসারের কাজ কি আইনসম্মত হয়েছে? উভয় ক্ষেত্রে পুলিশের সঠিক করণীয় কী?
প্রশ্ন ৩ (ভ্যারিয়েশন): যদি চুরির পরিমাণ এমন হয় যে অপরাধটি দণ্ডবিধি ৩৮০ (গৃহে প্রবেশ করে চুরি, সর্বোচ্চ ৭ বছর) হয়ে যায়, তাহলে বিশ্লেষণ কীভাবে বদলাবে?
উত্তর ২: আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য এজাহার (ধারা ১৫৪) হিসেবে নথিভুক্ত করা যায়। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ধারা ৫৪-এর বর্তমান পাঠ অনুযায়ী — ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য আমলযোগ্য অপরাধে বিশ্বাসের কারণ + গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা (লিখিত কারণসহ) পূরণ হলেই বৈধ; ৩৭৯ ও ৪২০-এর সর্বোচ্চ সাজা (৩ ও ৭ বছর, দণ্ডবিধি অনুযায়ী) এই শ্রেণীতে পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় কারণ জানাতে হবে (ধারা ৫৪ক)। সংক্ষিপ্ত বিচার: ধারা ২৬০(১)(ঘ)-এ ৩৭৯/৩৮০/৩৮১ ধারার চুরির ক্ষেত্রে মূল্য ৫ লক্ষ টাকার বেশি না হলে সংক্ষিপ্ত বিচার চলে।
উত্তর ৩: ৩৮০ (বাসগৃহে চুরি) ও ৩৭৯ একই ২৬০(১)(ঘ)-এর তালিকায় আছে; কোন আদালত বিচার করবে তা দ্বিতীয় তফসিল থেকে দেখুন। মূল শিক্ষা: শ্রেণী ও আদালত প্রতিবার তফসিল মিলিয়ে নিন।
প্রশ্ন ১: মেট্রোপলিটন এলাকা ঘোষণার আইনগত পূর্বশর্ত কী? (প্রযোজ্য ধারা-নম্বর মূল পাঠে মিলিয়ে নিন)
প্রশ্ন ২: গেজেট প্রকাশের আগে জারি করা আদেশের আইনি অবস্থা কী হবে?
উত্তর ২: গেজেট প্রকাশের আগে জারি করা যেকোনো আদেশ এখতিয়ারবহির্ভূত (without jurisdiction) এবং তাই coram non judice — অর্থাৎ শুরু থেকেই অকার্যকর/বাতিলযোগ্য (void ab initio), কারণ ম্যাজিস্ট্রেট এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন যা তার কাছে আইনত বর্তায়নি। এটি প্রশাসনিক পরীক্ষায় একটি ধ্রুপদী ট্র্যাপ প্রশ্ন — “গুজব/প্রস্তাব” আর “গেজেট বিজ্ঞপ্তি” এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা আবশ্যক।
সেশন ০২ — নিয়োগ ও অধীনতা, আমলে গ্রহণ, চার্জ গঠন (ধারা ১০-১৮, ১৯০-১৯৯খ, ২২১-২৪০)
প্রশ্ন ১: ধারা ১৯০ অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট কয়টি উপায়ে অপরাধ আমলে নিতে পারেন? এই ঘটনায় কোন উপায় প্রযোজ্য?
প্রশ্ন ২: ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যধারায় কী পদ্ধতিগত ত্রুটি (procedural irregularity) রয়েছে?
প্রশ্ন ৩: সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ম্যাজিস্ট্রেটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত ছিল?
উত্তর ২: মূল ত্রুটি — অভিযোগ গ্রহণের পর ধারা ২০০ অনুযায়ী অভিযোগকারীর (এবং সাক্ষী থাকলে তাদের) জবানবন্দি গ্রহণ (examination of complainant) বাধ্যতামূলক, শুধু তখনই ম্যাজিস্ট্রেট প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হয়ে প্রক্রিয়া (process) জারি করতে পারেন। জবানবন্দি না নিয়ে সরাসরি সমন জারি করাটি একটি গুরুতর পদ্ধতিগত অনিয়ম, যদিও এটি সাধারণত curable irregularity হিসেবে গণ্য হয় (নিরাময়যোগ্য), সম্পূর্ণ এখতিয়ারহীনতা নয় — তবে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
উত্তর ৩: ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত ছিল প্রথমে অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা, প্রয়োজনে ধারা ২০২ অনুযায়ী তদন্ত বা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া, এবং সন্তোষজনক প্রাথমিক প্রমাণ পেলে তবেই প্রক্রিয়া জারি করা। বাস্তবে যেহেতু ঘটনাটি আঘাতজনিত ও আমলযোগ্য অপরাধ (দণ্ডবিধি ৩২৩/৩২৫ ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট, ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে বিষয়টি থানায় এজাহার হিসেবে রুজু করতে নির্দেশ দিতে পারতেন অথবা নিজেই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারতেন।
প্রশ্ন ১: তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তাব কি আইনসম্মত? ধারা ২৩৩-এর মূলনীতি কী বলে?
প্রশ্ন ২: ধারা ২৩৫(১) অনুযায়ী এই ঘটনায় একাধিক চার্জ একই বিচারে কীভাবে যুক্ত করা যাবে, তার যৌক্তিকতা কী?
প্রশ্ন ৩: যদি অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শুধু “পাহারাদার” হিসেবে বাইরে দাঁড়িয়েছিল আর সরাসরি লুট বা অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়নি, তাহলে তাকে কীভাবে একই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে?
উত্তর ২: এই ঘটনায় ধারা ২৩৫(১) প্রযোজ্য — “if, in one series of acts so connected together as to form the same transaction, more offences than one are committed… he may be charged with, and tried at one trial for, every such offence.” গৃহে প্রবেশ, মারধর, লুট ও অগ্নিসংযোগ — সবই একই সংঘটিত ঘটনা-শৃঙ্খলের (same transaction) অংশ, তাই সবগুলো অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক চার্জ ফ্রেম করে একই বিচারে বিচার করা যাবে। এতে সাক্ষ্যের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায় এবং সামগ্রিক ঘটনা একটি সুসংগত চিত্র হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়।
উত্তর ৩: “same transaction”-এর নীতি অনুযায়ী, common intention বা common object থাকলে (দণ্ডবিধি ৩৪ বা ১৪৯ ধারার আলোকে) পাহারাদার ব্যক্তিও ডাকাতির দলের অংশ হিসেবে একই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ সে দলবদ্ধ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছে বলে গণ্য হয় — তার ভূমিকা চার্জে “abetment” বা যৌথ দায় হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে সে বুঝতে পারে ঠিক কোন অভিযোগের জবাব দিতে হবে (ধারা ২২১-এর ন্যায্য-বিচার নীতি)।
প্রশ্ন: ধারা ১৭ ও ১৮ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনতা কাঠামো কী, এবং এই কর্মকর্তার কাজ কি শৃঙ্খলাগতভাবে সঠিক?
সেশন ০৩ — গ্রেপ্তার, তল্লাশি, অস্বাভাবিক মৃত্যু, জনউপদ্রব (ধারা ৪২-১৩১, ১৭৪, ১৭৬, ১৩৩-১৪৩)
প্রশ্ন ১: ধারা ১৭৪ অনুযায়ী পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব কী এবং কীভাবে তদন্ত এগোবে?
প্রশ্ন ২: এই ঘটনায় কি সরাসরি পুলিশি তদন্ত যথেষ্ট, নাকি ধারা ১৭৬ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তদন্ত (magisterial inquest) বাধ্যতামূলক? কারণসহ ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন ৩: “ময়নাতদন্ত” (post-mortem) প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা কী?
উত্তর ২: ধারা ১৭৬(১): পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হলে নিকটস্থ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ইনকোয়েস্ট করবেন (বাধ্যতামূলক); ধারা ১৭৪(১)(ক)-(গ)-এর অন্য ক্ষেত্রে (আত্মহত্যা, হত্যা সন্দেহ, ইত্যাদি) ম্যাজিস্ট্রেট ইনকোয়েস্ট করতে পারেন (ঐচ্ছিক) — পুলিশ ইনকোয়েস্টের বদলে বা তার সাথে। হাত-পা বাঁধা ভাসমান লাশ হত্যার ইঙ্গিত দেয়; তাই পুলিশি ইনকোয়েস্ট ও এজাহার-ভিত্তিক মামলা চলবে, ম্যাজিস্ট্রেট ইচ্ছা করলে সমান্তরালভাবে তদন্ত করতে পারেন — তবে হেফাজতে মৃত্যুর সন্দেহ না থাকলে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
উত্তর ৩: ইনকোয়েস্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিকটস্থ সিভিল সার্জন/মেডিকেল অফিসারের কাছে পাঠানোর আদেশ দেবেন (ধারা ১৭৪(৩))। যদি মৃত্যুর কারণ সন্দেহজনক থাকে এবং ধারা ১৭৬ অনুযায়ী তদন্ত পরিচালিত হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে প্রয়োজনে মৃতদেহ পুনরায় উত্তোলনের (disinterment) আদেশও দিতে পারেন, যদি প্রথমবার তড়িঘড়ি করে সৎকার/দাফন হয়ে থাকে।
প্রশ্ন ১: এই পরিস্থিতিতে ধারা ১৩৩ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কী পদক্ষেপ নিতে পারেন? আদেশের ধরন (conditional order) ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন ২: ব্যবসায়ীদের “লিজ থাকার” দাবি ধারা ১৩৯ক অনুযায়ী কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?
প্রশ্ন ৩: যদি ব্যবসায়ীরা আদেশ অমান্য করে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী?
উত্তর ২: ব্যবসায়ীরা যদি আদেশ মানতে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে তাদের সেখানে ব্যবসা করার “অধিকার” (legal right) আছে, তাহলে ধারা ১৩৯ক প্রযোজ্য হবে — ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে খতিয়ে দেখবেন দাবিকৃত অধিকারের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রাথমিক প্রমাণ (reliable evidence) আছে কিনা। যদি প্রমাণ না মেলে, ম্যাজিস্ট্রেট সেই দাবি অগ্রাহ্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন এবং চূড়ান্ত আদেশ দিতে পারেন। তবে যদি জটিল আইনি/মালিকানা প্রশ্ন ওঠে, ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষগুলোকে দেওয়ানি আদালতে গিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারেন।
উত্তর ৩: নির্ধারিত সময়ে আদেশ পালন না করলে বা কারণ দর্শাতে না এলে ধারা ১৩৬ অনুযায়ী দণ্ডবিধি ১৮৮-র শাস্তি প্রযোজ্য হয় এবং আদেশ চূড়ান্ত (absolute) হয়ে যায় — এটি “সরকারি কর্মচারীর বিধিসম্মত আদেশ অমান্য” হিসেবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিজে বলপ্রয়োগ করে (স্থানীয় প্রশাসন/পুলিশের সহায়তায়) বাধা অপসারণ করাতে পারেন এবং খরচ দায়ী পক্ষের কাছ থেকে আদায় করতে পারেন।
প্রশ্ন ১: ধারা ১০০ অনুযায়ী এই পরিস্থিতিতে সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য কোন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে এবং প্রক্রিয়া কী?
প্রশ্ন ২: তল্লাশি পরিচালনার সময় ধারা ১০৩ অনুযায়ী পদ্ধতিগত সুরক্ষা কী কী?
উত্তর ২: ধারা ১০৩ অনুযায়ী (PRB ৪৬৫-ও দ্রষ্টব্য) — (ক) তল্লাশির আগে দুইজন স্বাধীন ও সম্মানিত সাক্ষী (independent witnesses) সংগ্রহ করতে হবে; (খ) তল্লাশি ওয়ারেন্টের একটি কপি ও তালিকা (list of things seized/persons recovered) প্রস্তুত করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে; (গ) উদ্ধারকৃত ব্যক্তিকে অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে হবে (বিশেষত নাবালিকা হলে সেফ হোম/নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রটোকল অনুসরণ); (ঘ) পুরো প্রক্রিয়ার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন (তল্লাশি স্মারকলিপি — search memo) প্রস্তুত রাখতে হবে যা পরবর্তী বিচারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সেশন ০৪ — প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও শান্তিরক্ষার জামানত (ধারা ১০৭-১২৬ক)
প্রশ্ন ১: দুই বংশের বিরোধের ক্ষেত্রে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং কেন?
প্রশ্ন ২: উস্কানিমূলক পোস্টদাতার ক্ষেত্রে কোন ধারা প্রযোজ্য এবং ধারা ১০৭ ও ১০৮-এর মূল পার্থক্য কী?
প্রশ্ন ৩: উভয় ক্ষেত্রে বন্ডের মেয়াদ (ধারা ১০৭ ও ১০৮-এর নিজস্ব পাঠ অনুযায়ী) কত হতে পারে?
উত্তর ২: উস্কানিমূলক পোস্টদাতার ক্ষেত্রে ধারা ১০৮ প্রযোজ্য — এটি প্রযোজ্য হয় যখন কেউ এমন বক্তব্য/লেখা/গুজব ছড়ায় যা রাষ্ট্রদ্রোহ (দণ্ডবিধি ১২৩ক/১২৪ক), শ্রেণী/সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেওয়া (দণ্ডবিধি ১৫৩ক) বা বিচারকের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন/মানহানি অপরাধ ঘটানোর প্রবণতা রাখে — এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষ থাকা আবশ্যক নয়, বরং সামগ্রিক জনশৃঙ্খলার (public order) ঝুঁকি মূল বিবেচ্য বিষয়। মূল পার্থক্য: ধারা ১০৭ পক্ষ-বনাম-পক্ষ শান্তিভঙ্গ রোধে, ধারা ১০৮ প্রকাশনা/বক্তব্যজনিত জননিরাপত্তা-বিরোধী প্রবণতা রোধে।
উত্তর ৩: ধারা ১০৭ (শান্তিরক্ষা বন্ড) ও ১০৮ (ভালো আচরণের বন্ড) — উভয় ধারার নিজস্ব পাঠে সর্বোচ্চ মেয়াদ ১ বছর। তুলনা: ধারা ১০৬ (দোষী সাব্যস্তের পর শান্তিরক্ষা বন্ড) ও ১১০ (অভ্যাসগত অপরাধী, ভালো আচরণের বন্ড) — সর্বোচ্চ ৩ বছর, ম্যাজিস্ট্রেটের বিবেচনামতো তার চেয়ে কম মেয়াদও নির্ধারণ করা যায়। বন্ডের পরিমাণও ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে নির্ধারণ করবেন (excessive হলে চ্যালেঞ্জযোগ্য)।
প্রশ্ন ১: ধারা ১১০ প্রয়োগের শর্তাবলী কী এবং পূর্বে খালাস পাওয়া মামলাগুলো কি এই ধারা প্রয়োগে বাধা?
প্রশ্ন ২: এই ধারার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ বন্ড ও মেয়াদ নির্ধারণ করা যায়?
উত্তর ২: ধারা ১১৮ অনুযায়ী ধারা ১১০-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে (ধারা ১০৭/১০৮/১০৯-এর সর্বোচ্চ ১ বছরের চেয়ে বেশি, কারণ অভ্যাসগত অপরাধীর ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি বলে গণ্য করা হয়)। বন্ডের পরিমাণ ম্যাজিস্ট্রেট যুক্তিসঙ্গতভাবে নির্ধারণ করবেন, ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে।
সেশন ০৫ — জরুরি আদেশ ও দখল বিরোধ (ধারা ১৪৪, ১৪৫, ১৪৭)
প্রশ্ন ১: ধারা ১৪৪ অনুযায়ী জরুরি আদেশ জারির শর্ত কী এবং একতরফা (ex-parte) আদেশ জারি করা কি আইনসম্মত?
প্রশ্ন ২: ৬০ দিনের মেয়াদ কি আইনসম্মত? ধারা ১৪৪-এর মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান কী বলে?
প্রশ্ন ৩: ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ কীভাবে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে পারে?
উত্তর ২: ৬০ দিনের মেয়াদ আইনসম্মত সীমার মধ্যেই আছে — ধারা ১৪৪(৬) অনুযায়ী সাধারণ আদেশের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ মাস (৬০ দিন) পর্যন্ত হতে পারে, তবে জীবন-বিপন্নকারী বা দাঙ্গার আশঙ্কাজনিত গুরুতর পরিস্থিতিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে ভিন্ন নির্দেশ দিতে পারে (আইনে ৬ মাসের সীমা নেই)। যেহেতু এখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই আদেশ দিয়েছেন এবং তা প্রাথমিক ৬০ দিনের সীমার মধ্যে, তাই এটি প্রশ্নাতীতভাবে বৈধ — তবে সমগ্র উপজেলা জুড়ে ৬০ দিনের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গততা ও আনুপাতিকতার (proportionality) মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে যদি প্রকৃত ঝুঁকি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে।
উত্তর ৩: ধারা ১৪৪(৫) অনুযায়ী আবেদন পেলে ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ দেবেন; ক্ষতিগ্রস্ত যেকোনো ব্যক্তি আদেশ জারিকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা তার এখতিয়ারভুক্ত আদালতের কাছে আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারেন (rescind or alter), এবং ম্যাজিস্ট্রেট তা যথাশীঘ্র সম্ভব বিবেচনা করতে বাধ্য। এছাড়া উচ্চ আদালতে রিট বা রিভিশনের মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ করা যায় যদি আদেশ ক্ষমতার অপব্যবহার বা অযৌক্তিক (arbitrary/mala fide) বলে প্রতীয়মান হয়।
প্রশ্ন ১: ধারা ১৪৫ কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট মূলত কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন — মালিকানা নাকি দখল? দুটোর মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন ২: ক-পক্ষের দলিল থাকা সত্ত্বেও কি খ-পক্ষের পক্ষে আদেশ যেতে পারে? কেন?
প্রশ্ন ৩: ধারা ১৪৭-এর প্রয়োগ কখন হবে, এবং তা ধারা ১৪৫ থেকে কীভাবে আলাদা?
উত্তর ২: হ্যাঁ, খ-পক্ষের অনুকূলে আদেশ যেতে পারে, কারণ গত ৩ বছর ধরে তারাই প্রকৃত দখলে আছে (চাষাবাদ করছে) — এটিই ধারা ১৪৫-এর একমাত্র বিবেচ্য মানদণ্ড। ক-পক্ষের দলিল থাকলেও তারা দখলহীন হলে ধারা ১৪৫-এর আদেশ তাদের পক্ষে যাবে না; তাদের প্রতিকার হলো দেওয়ানি আদালতে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে উচ্ছেদের ডিক্রি নেওয়া (Specific Relief Act বা Title Suit-এর মাধ্যমে) — এটিই এই বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন, কারণ পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই ভুল করে “যার দলিল তারই জমি” ভেবে বসেন।
উত্তর ৩: ধারা ১৪৭ প্রযোজ্য হয় যখন বিরোধ জমির দখল নিয়ে নয়, বরং পানির ব্যবহার বা কোনো জমি/পানি থেকে উদ্ভূত অধিকার (right of use of land or water) নিয়ে হয় — যেমন সেচের নালা ব্যবহারের অধিকার, মাছ ধরার অধিকার, বা রাস্তার ব্যবহারের অধিকার। এক্ষেত্রেও ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৃত ব্যবহারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, চূড়ান্ত আইনি অধিকার নয় — কাঠামোগতভাবে ধারা ১৪৫-এর অনুরূপ কিন্তু বিষয়বস্তু ভিন্ন (দখল বনাম ব্যবহার-অধিকার)।
সেশন ০৬ — সাক্ষ্য, রায়, দণ্ড কার্যকর, পিপি, জামিন, বন্ড (ধারা ৩৫৩-৫১৬)
প্রশ্ন ১: ধারা ৪৯৭(১) অনুযায়ী এই মামলায় জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে মূল আইনগত বাধা কী?
প্রশ্ন ২: “অসুস্থ মায়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান” — এই মানবিক যুক্তি কি ধারা ৪৯৭-এর অধীনে জামিন মঞ্জুরের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী?
প্রশ্ন ৩: ধারা ৪৯৭(১)-এর শর্তাংশ অনুযায়ী কোন বিশেষ শ্রেণীর আসামিদের ক্ষেত্রে জামিনের ব্যতিক্রমী বিবেচনা করা যায়?
উত্তর ২: না, নিছক মানবিক/পারিবারিক পরিস্থিতি (উপার্জনক্ষম সন্তান হওয়া) ধারা ৪৯৭-এর জামিনের জন্য আইনগত মানদণ্ড নয় — এটি সহানুভূতিমূলক বিবেচনা হতে পারে কিন্তু “সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দোষী না হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ” থাকা প্রধান শর্ত প্রতিস্থাপন করে না। আদালত এই তথ্য বিবেচনায় নিতে পারেন কিন্তু এককভাবে এটিই জামিনের ভিত্তি হতে পারে না গুরুতর ওয়ারেন্ট/জামিন-অযোগ্য অপরাধে।
উত্তর ৩: ধারা ৪৯৭(১)-এর শর্তাংশ (proviso): ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি, নারী, বা অসুস্থ/দুর্বল ব্যক্তিকে আদালত জামিন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন — অপরাধ মৃত্যুদণ্ড/যাবজ্জীবনযোগ্য হলেও। ধারা ৪৯৭(৩): এই জামিন দিলে আদালত বা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়।
প্রশ্ন ১: ধারা ৩৬৭ অনুযায়ী একটি বৈধ রায়ের আবশ্যকীয় উপাদান কী কী? এই রায় কি বৈধতার মানদণ্ড পূরণ করে?
প্রশ্ন ২: ধারা ৩৬৬ অনুযায়ী রায় ঘোষণার পদ্ধতি (প্রকাশ্য আদালতে, আসামির উপস্থিতিতে) মানা হয়েছে কিনা তা কীভাবে যাচাই করবেন?
প্রশ্ন ৩: এই ত্রুটিপূর্ণ রায়ের ফলাফল কী হতে পারে?
উত্তর ২: ধারা ৩৬৬(১) অনুযায়ী রায় অবশ্যই প্রকাশ্য আদালতে (open court), রায় ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই এবং সাধারণত আসামির উপস্থিতিতে ঘোষণা করতে হবে (আসামি জামিনে থাকলে বা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা মওকুফ থাকলে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য)। এই তথ্য যাচাই করতে আদালতের কার্যবিবরণী (order sheet) ও উপস্থিতির নথি পরীক্ষা করতে হবে।
উত্তর ৩: এমন ত্রুটিপূর্ণ রায় উচ্চ আদালতে আপিলে বাতিলযোগ্য (liable to be set aside) এবং সাধারণত মামলা পুনর্বিচারের (retrial) জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হয়, অথবা উচ্চ আদালত নিজেই সাক্ষ্য পুনর্মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। এটি ফৌজদারি বিচারে ন্যায্য বিচারের (fair trial) মৌলিক লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়, কারণ আসামির আপিলের অধিকার কার্যকরভাবে ব্যাহত হয় (তিনি জানতে পারেন না ঠিক কোন যুক্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো)।
প্রশ্ন ১: ধারা ৫১৪ অনুযায়ী আদালতের করণীয় কী?
প্রশ্ন ২: জামিনদার কি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে পারেন, নাকি বাজেয়াপ্তকরণ অনিবার্য?
উত্তর ২: জামিনদার সম্পূর্ণ দায়মুক্ত নাও হতে পারেন, তবে ধারা ৫১৪-এর প্রোভিসো অনুযায়ী যদি জামিনদার প্রমাণ করতে পারেন যে আসামিকে হাজির করানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল এবং এতে তার কোনো অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল না (যেমন আসামি আকস্মিকভাবে পলাতক হয়ে গেছে এবং জামিনদার তা জানামাত্র পুলিশকে অবহিত করেছেন), আদালত বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ কমাতে বা মওকুফ করতে পারেন। প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা: জামিনদারের সক্রিয়তা (police-কে অবহিত করা, আদালতে সময়মতো জানানো) বাজেয়াপ্তকরণ এড়ানোর একমাত্র সুযোগ তৈরি করে।
📚 বাস্তব মামলা ও বাস্তব ঘটনা — রায়ের নীতি + পত্রিকায় আসা প্রকৃত ঘটনা
ঘটনা: ধারা ৫৪ (পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার) ও ধারা ১৬৭ (রিমান্ড) অপব্যবহারের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠন BLAST ও অন্যরা রিট করেন। মামলাটি “Section 54 Guidelines Case” বা “Rubel Killing Case” নামেও পরিচিত। হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৩ সালে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেন। ২০১৬ সালের ২৫ মে আপিল বিভাগ এই নির্দেশনা বহাল রাখেন।
প্রশ্ন ১: গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে কোন কোন প্রক্রিয়া মানতে হয়?
প্রশ্ন ২: ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড আদেশ দেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন?
প্রশ্ন ৩ (জটিল): এক সন্দেহভাজনকে “সন্দেহবশত” ধরে ২৪ ঘণ্টা পর আদালতে হাজির করা হলো, আসামি জানাল পুলিশ মেরেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের করণীয় কী?
উত্তর ২: ধারা ১৬৭ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট যান্ত্রিকভাবে রিমান্ড দেবেন না — কেস ডায়েরি দেখবেন, আসামির বক্তব্য শুনবেন, শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করবেন এবং রিমান্ড প্রয়োজনীয় কিনা সন্তুষ্ট হবেন। রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতন-নিষেধ রায়ের কেন্দ্রীয় বিষয়।
উত্তর ৩: ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পালিত হলেও আঘাতের অভিযোগ গুরুতর। ম্যাজিস্ট্রেট মেডিকেল পরীক্ষার আদেশ দেবেন, অভিযোগ রেকর্ড করবেন, রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না করে জামিন/কারাগারে প্রেরণসহ বিকল্প বিবেচনা করবেন। এছাড়া নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ প্রযোজ্য হতে পারে — এটি CrPC-র বাইরের অতিরিক্ত প্রতিকার, উত্তরে আলাদাভাবে উল্লেখ করুন।
- ধারা ৫৪-এ গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ধারা ৩ অনুযায়ী আটক করা যাবে না।
- কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ করবেন; চাইলে গ্রেপ্তারি ব্যক্তি ও উপস্থিতদের পরিচয়পত্র দেখাবেন।
- থানায় আনার পরপরই ডায়েরিতে গ্রেপ্তারের কারণ, আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার জ্ঞান/তথ্যসূত্র, ঘটনাস্থল, তারিখ-সময়, উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ।
- গায়ে আঘাতের চিহ্ন পেলে কারণ লিখে হাসপাতাল/সরকারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে সনদ নেওয়া।
- থানায় আনার ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো।
- বাসা/কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার না হলে থানায় আনার ১ ঘণ্টার মধ্যে ফোনে বা বার্তাবাহকের মাধ্যমে নিকটাত্মীয়কে জানানো।
- পছন্দের আইনজীবীর সাথে পরামর্শ বা নিকটাত্মীয়ের সাথে দেখা করতে দেওয়া।
- ধারা ৬১-এ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করার সময় ধারা ১৬৭(১)-এর চিঠিতে ২৪ ঘণ্টায় তদন্ত কেন শেষ হয়নি এবং অভিযোগ কেন ভিত্তিমূলক মনে হয় তা লেখা এবং কেস ডায়েরির (BP ফরম ৩৮) প্রাসঙ্গিক অংশ পাঠানো।
ঘটনা: (ক) ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় সংঘর্ষ রাঙ্গামাটিতে ছড়ালে খাগড়াছড়ি সদরে UNO (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য) এবং রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করেন। (খ) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)-এ UNO বিকেল ৪টায় ১৪৪ জারি করেন, তবু দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়, সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। (গ) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে কারফিউ শেষে ডিসি ১৪৪ জারি করেন; শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও জরুরি সেবা ছাড় পায়। (ঘ) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় একই স্থানে দুই দলের পাল্টাপাল্টা কর্মসূচির আশঙ্কায় ডিসি/ডিএম ১৪৪ জারি করেন।
প্রশ্ন ১: UNO (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে) কি নিজে ১৪৪ জারি করতে পারেন? আদেশ কত দিন বলবৎ থাকে?
প্রশ্ন ২: নবীগঞ্জে আদেশ উপেক্ষা করে জমায়েত হলে কী আইনি পদক্ষেপ?
প্রশ্ন ৩ (জটিল): গোপালগঞ্জের মতো আদেশে পরীক্ষার্থীদের ছাড় দেওয়া কি আদেশের বৈধতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?
প্রশ্ন ৪: আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য ক্ষুব্ধ ব্যক্তি কার কাছে যাবেন?
উত্তর ২: আদেশ জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অমান্য করলে দণ্ডবিধি ১৮৮ প্রযোজ্য; জমায়েত “অবৈধ সমাবেশ” হলে CrPC ১২৭-১২৯ অনুযায়ী ছত্রভঙ্গ। শিক্ষা: ১৪৪ জারি = সমস্যার সমাধান নয়, কেবল আইনি ভিত্তি; কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ/বাহিনী মোতায়েন লাগে (নবীগঞ্জে সন্ধ্যায় সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ আনতে হয়)।
উত্তর ৩: হ্যাঁ — আদেশ হতে হবে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রায় (proportionality)। পরীক্ষার্থী, জরুরি সেবা ও সরকারি অফিস ছাড় দেওয়া আদেশকে আরও যৌক্তিক ও টেকসই করে।
উত্তর ৪: আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার: আদেশদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট/সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনা এবং অবৈধ হলে উচ্চ আদালতের রিট এখতিয়ার — সুনির্দিষ্ট উপধারা নম্বর নোটের §১৪৪ সেকশন থেকে মিলিয়ে নিন।
ঘটনা: বিহারে ১৮৯৮ সালের CrPC-র আওতায় ১৪৪ আদেশের বিরুদ্ধে সমাজবাদী নেতা মধু লিমায়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। আদালত ধারাটি সংবিধানসম্মত রাখলেও ব্যবহারের কঠোর সীমা টানেন: বিপদ হতে হবে বাস্তব ও আসন্ন, আদেশ যথাসম্ভব সংকীর্ণ হবে এবং প্রতিদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রম দমনে সাধারণভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
প্রশ্ন: কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুরো জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল জনসভা নিষিদ্ধ করে ১৪৪ জারি করলে তা কি টিকবে?
ঘটনা: রতলাম শহরে খোলা নর্দমার দুর্গন্ধ ও নোংরা পানিতে বসবাসকারীরা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট ১৩৩ ধারায় পৌরসভাকে প্রতিকারমূলক আদেশ দেন। পৌরসভা অর্থাভাবের অজুহাত দেখায়। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলে, জনউপদ্রব দূর করা পৌরসভার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব, আর্থিক অক্ষমতা অজুহাত হতে পারে না।
প্রশ্ন ১: কোনো সরকারি/স্থানীয় সরকার সংস্থার বিরুদ্ধেও কি ১৩৩ প্রযোজ্য?
প্রশ্ন ২: ঢাকার কোনো ওয়ার্ডে অবৈধ ট্যানারি/ডাম্পিং-এর ক্ষেত্রে এই নীতি কীভাবে কাজে লাগাবেন?
উত্তর ২: শর্তসাপেক্ষ আদেশ (১৩৩(১)) → কারণ দর্শানো → প্রমাণ গ্রহণ → চূড়ান্ত (absolute) আদেশ → অমান্য করলে ১৪৩/দণ্ডবিধি ১৮৮ — ধাপে ধাপে লিখুন। জটিল স্বত্ব-প্রশ্ন উঠলে ধারা ১৩৯ক-র পদ্ধতি।
ঘটনা: অপহরণ-সংক্রান্ত অভিযোগে থানা FIR নিতে গড়িমসি করলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে যায়। আদালত বলে, আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে FIR বাধ্যতামূলক; প্রাথমিক অনুসন্ধান কেবল সীমিত শ্রেণিতে (যেমন পারিবারিক/বাণিজ্যিক বিরোধ, বিলম্বিত অভিযোগ) এবং সময়সীমা-বদ্ধ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে OC (থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) FIR নিতে অস্বীকার করলে ভুক্তভোগীর বিকল্প কী?
ঘটনা: Joginder Kumar মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলে, গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকা আর গ্রেপ্তার করা “ন্যায্য” হওয়া এক জিনিস নয়। D.K. Basu মামলায় পশ্চিমবঙ্গে হেফাজতে মৃত্যু প্রেক্ষাপটে হেফাজতি নির্যাতন রোধে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয় — এ ধারণাগুলোই বাংলাদেশে ধারা ৫৪/১৬৭ নির্দেশনার তুলনামূলক ভিত্তি।
প্রশ্ন: থানায় হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামি মারা গেলে (১) CrPC-র কোন ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত? (২) কোন পাঠ্য-অতিরিক্ত প্রতিকার?
ঘটনা: বিহারের কারাগারে বছরের পর বছর বিচারাধীন বন্দিরা পড়ে থাকায় সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত বিচারকে মৌলিক অধিকার (জীবন ও স্বাধীনতার অংশ) ঘোষণা করে এবং বিচারাধীনদের মুক্তি/ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনের নির্দেশ দেয়।
প্রশ্ন: দরিদ্র আসামি জামিনদার জোগাড় করতে পারছে না — ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
🧩 জটিল ও মিশ্র পরিস্থিতি (Multi-section Scenarios)
নিচের কেসগুলোতে একাধিক ধারা একসাথে ঘুরে আসে — লিখিত পরীক্ষায় একই প্রশ্নে ৩-৫টি ধারা ধরতে পারাই উচ্চ নম্বরের চাবি।
ঘটনা: কুমিল্লার একটি হাটে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা। UNO আগের দিন ১৩৩-এর শর্তসাপেক্ষ আদেশ দেন। পরদিন সকালে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়। UNO ১৪৪ জারি করেন, তবু ৩০০ জন সমবেত থাকে, ইটপাটকেল ছোড়ে, একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। পুলিশ রাতেই কয়েকজনকে ধরে আনে। এজাহারে নাম আছে ১২ জনের; পুলিশ আরও ৫ জনকে “সন্দেহবশত” ধরে।
প্রশ্ন ১: ঘটনা-ক্রমের প্রতিটি ধাপে কোন ধারা?
প্রশ্ন ২: সমাবেশ ছত্রভঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট ও সশস্ত্র বাহিনীর ক্রম কী?
প্রশ্ন ৩: মৃতের জন্য ধারা ১৭৪ ও ১৭৬ কীভাবে চলবে?
প্রশ্ন ৪: “সন্দেহবশত” ধরা ৫ জনের জন্য রিমান্ড আবেদন এলে ম্যাজিস্ট্রেটের করণীয়?
উত্তর ২: আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে সমাবেশ ত্যাগের ঘোষণা (১২৭) → অমান্য হলে বল প্রয়োগ (১২৮) → বেসামরিক বল অপর্যাপ্ত হলে ১২৯ (সামরিক বল, ১৩০-এ ন্যূনতম বল); ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ অসম্ভব হলে ১৩১ (কমিশন্ড অফিসার)। আইনের মূল কথা: ন্যূনতম বল।
উত্তর ৩: পুলিশ ১৭৪ রিপোর্ট করবে; হত্যার আশঙ্কা থাকায় ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক; ম্যাজিস্ট্রেট ১৭৬-এ নিজে তদন্ত করতে পারেন (বিশেষত পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হলে)।
উত্তর ৪: BLAST নির্দেশনা প্রযোজ্য: সন্দেহের যুক্তিসংগত ভিত্তি যাচাই; ভিত্তি না থাকলে রিমান্ড নামঞ্জুর ও মুক্তি/জামিন; ভিত্তি থাকলেও সীমিত মেয়াদ ও মেডিকেল পরীক্ষা সহ।
ঘটনা: রাজশাহীতে দুই ভাইয়ের মধ্যে ২ একর জমি নিয়ে বিরোধ। বড় ভাই ধান কেটে নিতে চান, ছোট ভাই বাধা দেন। উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করে; পুলিশ ১০৭-এর রিপোর্ট দেয়। একই সময়ে ছোট ভাই দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব মামলা করেন।
প্রশ্ন ১: ১০৭ ও ১৪৫ আলাদা কেন? কোনটি প্রযোজ্য?
প্রশ্ন ২: দেওয়ানি মামলা চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৫ চালাতে পারবেন?
প্রশ্ন ৩: দখল কারো প্রমাণিত না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের করণীয়?
উত্তর ২: ১৪৫ কেবল “কে দখলে আছে” নির্ধারণ করে, স্বত্ব নয়; আবার দেওয়ানি আদালত স্বত্ব নির্ধারণ করে — তাই ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ দেওয়ানি রায়ে ভেসে যায় (এই নোটের §১৪৫ অনুযায়ী)।
উত্তর ৩: কোনো পক্ষের দখল প্রমাণিত না হলে ধারা ১৪৬ অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন — সক্ষম আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত; শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো সময় ক্রোক প্রত্যাহারও করতে পারেন (১৪৬(১) শর্তাংশ); পথ/সেচের অধিকার-বিরোধ হলে ১৪৭।
ঘটনা: একটি জালিয়াতি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় অভিযোগকারীর জবানবন্দি নিয়ে ২০২ ধারায় পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ “চূড়ান্ত রিপোর্ট” (FRT) দেয়। অভিযোগকারী নারাজি করেন। ম্যাজিস্ট্রেট নারাজি নামঞ্জুর করেন। পরে একই ঘটনায় আসামি আরেক ধারায় বিচারে খালাস পায়। এরপর আবার নতুন মামলা হয়।
প্রশ্ন ১: নারাজি দরখাস্তে ম্যাজিস্ট্রেটের তিন বিকল্প?
প্রশ্ন ২: খালাসের পর একই ঘটনায় নতুন মামলা চলবে কি?
উত্তর ২: ধারা ৪০৩: একই অপরাধে (বা একই তথ্যে ভিন্ন অপরাধে, ধারা ২৩৫-এর ব্যতিক্রম ছাড়া) পুনর্বিচার নিষিদ্ধ — তবে ভিন্ন তথ্য/উপাদান হলে নতুন অপরাধ আলাদা।
ঘটনা: ২০২৫ সালের ৭ জুলাই নবীগঞ্জে দুই পক্ষের গ্রামবাসী বিকেল ৩টা থেকে সংঘর্ষে জড়ায়; UNO ৪টায় ১৪৪ জারি করেন, কিন্তু দুই হাজার মানুষ জড়ো থাকে; দুইজন নিহত, শতাধিক আহত, ৫০টির বেশি দোকান ও একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর/লুট/অগ্নিসংযোগ; সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনা ও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন।
প্রশ্ন ১: ১৪৪ কেন কাজ করল না?
প্রশ্ন ২: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে UNO-র তাৎক্ষণিক করণীয় পরবর্তী ধাপে কী?
প্রশ্ন ৩: হাসপাতাল ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে CrPC-র কোন ধারায় গ্রেপ্তার?
উত্তর ২: ধারা ১২৭-এ সমাবেশ ত্যাগের আদেশ, অমান্য হলে ১২৮ (বেসামরিক বল), প্রয়োজনে ১২৯ (সামরিক বল; ১৩০-এ ন্যূনতম বল, ১৩১-এ ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ অসম্ভব হলে কমিশন্ড অফিসার), এবং পরে ১৭৪/মামলা রুজুর সমন্বয়।
উত্তর ৩: আমলযোগ্য অপরাধ (দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ — দণ্ডবিধি ১৪৭, ৪৩৫/৪৩৬) → ধারা ৫৪(১) পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার; ধারা ৬১ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির।
ঘটনা: চট্টগ্রামে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টে জরিমানা করেন, আবার ১৩৩-এ স্থায়ী উচ্ছেদ আদেশও চান। ব্যবসায়ীরা বলে — সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স আছে।
প্রশ্ন: মোবাইল কোর্টের জরিমানা আর ১৩৩ আদেশের মধ্যে আইনি পার্থক্য কী? লাইসেন্সের দাবি কীভাবে মোকাবিলা?
ঘটনা: ময়মনসিংহে এক কিশোরীর মৃত্যু। পরিবার থানায় এজাহার করতে গেলে ওসি “আত্মহত্যা” লিখে ১৭৪ রিপোর্ট করতে চান। পরিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ করে। ময়নাতদন্তে সন্দেহজনক আঘাত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১: ওসির কাজ কেন ভুল?
প্রশ্ন ২: ম্যাজিস্ট্রেট কী নির্দেশ দেবেন?
প্রশ্ন ৩: তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষী জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি-সংক্রান্ত ধারা?
উত্তর ২: ১৯০(১)(ক)/২০০ অনুযায়ী জবানবন্দি, প্রয়োজনে ১৫৬(৩)/২০২ অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ এবং ১৭৬-এ ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত/ময়নাতদন্ত তত্ত্বাবধান।
উত্তর ৩: সাক্ষী পুলিশকে বলেন ১৬১ ধারায় (সাক্ষ্য হিসেবে প্রমাণযোগ্য নয়, কেবল বৈপরীত্য দেখাতে); স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন — স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কি না যাচাই বাধ্যতামূলক; তদন্ত শেষে ১৭৩ রিপোর্ট; পরে ২২১ চার্জ। ধারা ১৬১/১৬৪ আপনার নোটে না থাকলে অতিরিক্ত পড়ুন।
✍️ নিজস্ব তৈরি কেস (অনলাইনে হুবহু মামলা না পাওয়া ধারাগুলোর জন্য)
ধারার উপাদান যাচাইয়ের অনুশীলনের জন্য বানানো। স্থান-নাম ও চরিত্র কাল্পনিক; প্রতিটি উত্তরে কেবল এই নোটে থাকা ধারা ব্যবহৃত।
ঘটনা: সিলেটের এক থানা শুক্রবার রাত ১১টায় চুরির সন্দেহে (আমলযোগ্য) রহিমকে ধরে। আদালত বন্ধ। পুলিশ সোমবার সকালে হাজির করে বলে “ছুটি ছিল”। রহিমের পিঠে আঘাতের দাগ।
প্রশ্ন ১: ২৪ ঘণ্টার নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে? প্রশ্ন ২: থানায় পুলিশের কী কী লিপিবদ্ধ ও করণীয় ছিল? প্রশ্ন ৩: ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
উত্তর ২: BLAST নির্দেশনা (১-৩ ও ৪): কারণ ডায়েরিতে লেখা, আঘাতের কারণ লিখে ডাক্তারের সনদ নেওয়া, ৩ ঘণ্টায় কারণ জানানো, আত্মীয়কে জানানো, আইনজীবীর সুযোগ।
উত্তর ৩: ১৬৭(১)-এর চিঠি ও কেস ডায়েরি দেখে সন্তুষ্ট না হলে মুক্তি; আঘাতের অভিযোগ রেকর্ড করে মেডিকেল পরীক্ষার আদেশ; রিমান্ড চাইলে কারণসহ আদেশ।
ঘটনা: ময়মনসিংহে সাধারণ আঘাত (জামিনযোগ্য) মামলায় আসামি করিম থানায় জামিন চাইলে ওসি বলেন “তদন্ত শেষ হয়নি”। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে জামিন দেন; করিম দিনমজুর। বন্ড জমা দেওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষ আরও দুই দিন ছাড়েনি।
প্রশ্ন ১: ওসির আচরণ কেন ভুল? প্রশ্ন ২: বন্ডের অঙ্ক নিয়ে কী করণীয়? প্রশ্ন ৩: মুক্তিতে বিলম্বের প্রতিকার?
উত্তর ২: ধারা ৪৯৯: অঙ্ক যুক্তিসঙ্গত হতে হবে; দরিদ্রের জন্য অকল্পনীয় অঙ্ক জামিনকে অর্থহীন করে — কমানোর আবেদন। (প্রয়োজনে ৪৯৮-এ উচ্চ আদালতের এখতিয়ার)।
উত্তর ৩: ধারা ৫০০: বন্ড সম্পন্ন হলে তাৎক্ষণিক মুক্তি, বিলম্ব বা অতিরিক্ত শর্ত চলে না; ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে মুক্তির নির্দেশ।
ঘটনা: নরসিংদীতে একই পুকুরের পানি সেচের অধিকার ও পাশের ২ বিঘা জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি। দুই দলই দাবি করছে তারা ৫ বছর ধরে দখলে।
প্রশ্ন ১: কোন বিরোধে ১৪৫ আর কোনটিতে ১৪৭? প্রশ্ন ২: দুই পক্ষই সমান দলিল দেখালে? প্রশ্ন ৩: ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ দেওয়ানি মামলায় কতটা বাধ্যতামূলক?
উত্তর ২: ১৪৫-এ স্বত্ব নয়, প্রকৃত দখল দেখা হয় (স্থানীয় তদন্ত, সাক্ষী)। কারো দখল প্রমাণিত না হলে ১৪৬ অনুযায়ী ক্রোক।
উত্তর ৩: আদেশ সাময়িক; দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি তা অগ্রাহ্য করে।
ঘটনা: সাতক্ষীরায় ইউএনও গুজবের ভিত্তিতে পুরো উপজেলায় ৩ মাসের জন্য ১৪৪ জারি করেন, কারণ হিসেবে শুধু “অশান্তি হতে পারে” লেখেন।
প্রশ্ন: আদেশে কী কী ত্রুটি?
ঘটনা: ম্যাজিস্ট্রেট নিজের চোখে হাটে জাল নোট ছাপানো দেখে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আমলে নেন। বিচারে আসামি খালাস পায়। পরে পুলিশ একই ঘটনায় অন্য ধারায় নতুন মামলা দেয়।
প্রশ্ন ১: স্বতঃপ্রণোদিত আমলে গ্রহণ কোন ধারায়? প্রশ্ন ২: নতুন মামলা চলবে?
উত্তর ২: ধারা ৪০৩: একই তথ্যে পুনর্বিচার সাধারণত নিষিদ্ধ — ভিন্ন উপাদানের ভিন্ন অপরাধ কি না আলাদা পরীক্ষা করতে হবে।
📘 বর্ধিত অধ্যায় — ফৌজদারি মামলার সম্পূর্ণ যাত্রাপথ (Stages of Criminal Proceeding)
এই অংশটি মূল রেফারেন্সের সাথে সংযোজিত হলো যাতে একজন পরীক্ষার্থী একটি মামলার জন্ম থেকে আপিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রাপথ একনজরে দেখতে পান — এজাহার/অভিযোগ থেকে শুরু করে তদন্ত, বিচার, রায় ও আপিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এবং সেই ধাপে প্রযোজ্য ধারাগুলো একসাথে সাজানো হয়েছে।
Initiation → Investigation → Proceeding (cognizance) → Trial → Post-trial (appeal/revision)ক. এজাহার (FIR), জিডি (GD) ও অভিযোগ (Complaint) — পূর্ণাঙ্গ তুলনা
দ্বিতীয় FIR: সাধারণত একই ঘটনায় দ্বিতীয়বার এজাহার নেওয়া যায় না, দ্বিতীয় এজাহার গ্রহণযোগ্য কি না তা ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী আদালতের বিবেচ্য।
| বিষয় | জিডি (General Diary) | এজাহার (FIR) |
|---|---|---|
| প্রযোজ্যতা | অ-আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য — ধারা ১৫৫ | আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য — ধারা ১৫৪ |
| আইনি ভিত্তি | পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ধারা ৪৪ | CrPC ধারা ১৫৪ ও PRB প্রবিধান ২৪৩ |
| ফরম | PRB-এর BP Form ৬৫ | PRB-এর BP Form ২৭ |
| বিষয়বস্তু | সকল অভিযোগ, অভিযোগকারীর নাম, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, অস্ত্র/সম্পত্তি জব্দের বিবরণ, সাক্ষীদের নাম | আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য, মৌখিক হলে লিখিত রূপ দিয়ে তথ্যদাতাকে পড়ে শোনানো ও স্বাক্ষর নেওয়া আবশ্যক |
| তদন্তে পুলিশের ক্ষমতা | ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া তদন্ত করা যায় না (ধারা ১৫৫(২)) | পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করতে পারে |
| বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য? | না — ৯ BLC (HCD) ৬৩ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট করে বলেছে GD ও FIR এক নয়, উদ্দেশ্য আলাদা, তাই GD কখনো FIR-এর বিকল্প হতে পারে না। | |
| বিষয় | এজাহার (FIR/GR Case) | অভিযোগ (Complaint/CR Case) |
|---|---|---|
| দাখিলের স্থান | থানায় | সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে (CJM, Add. CJM, বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট — Cr.R.O. Vol.1 বিধি ৮৮) |
| প্রসেস ফি | প্রয়োজন নেই | প্রয়োজন আছে |
| কে দাখিল করতে পারেন | ঘটনা সম্পর্কে অবগত যেকোনো ব্যক্তি | ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ — ধারা ১৯৮/১৯৯ প্রভৃতির ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা নির্ধারিত ব্যক্তি; অন্য ক্ষেত্রে ধারা ৪(১)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী |
| প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিকার | ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাওয়া যায় | দায়রা জজের কাছে যাওয়া যায় |
| দাখিলের পদ্ধতি | টেলিফোনেও সম্ভব | স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে করতে হয় |
| অভিযুক্তের অনুপস্থিতির প্রভাব | রাষ্ট্র নিজেই পক্ষ, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চলতে থাকে | বাদী (ফরিয়াদি) অনুপস্থিত থাকলে ধারা ২৪৭ অনুযায়ী খালাস হতে পারে |
| শপথ | প্রয়োজন নেই | বাদীর জবানবন্দি শপথপূর্বক নিতে হয় |
| অপরাধের ধরন | শুধু আমলযোগ্য অপরাধ | আমলযোগ্য ও অ-আমলযোগ্য উভয় অপরাধ |
খ. নারাজি দরখাস্ত (Naraji Petition) — সম্পূর্ণ পদ্ধতি
• অভিযোগ মামলাতেও (complaint case) নারাজি দরখাস্ত দাখিল করা যায়, যদি বাদী ধারা ২০২-এর অধীনে দাখিলকৃত অনুসন্ধান/তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট থাকেন।
• অভিযুক্ত কখনো নারাজি দরখাস্ত দাখিল করতে পারেন না — এই অধিকার শুধু এজাহারকারী বা অভিযোগকারীর, চার্জশিটের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পুনঃতদন্তের আবেদন করতে পারেন না।
• নারাজি দরখাস্ত পাওয়ামাত্র তা সরাসরি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না — ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই ধারা ২০০-২০৩ অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে: হয় দরখাস্তকারীর জবানবন্দি নিয়ে ধারা ১৯০(১) অনুযায়ী আমলে নিতে হবে, নতুবা ধারা ২০২ অনুযায়ী বিচার-বিভাগীয় অনুসন্ধান বা পুনঃতদন্তের আদেশ দিতে হবে। এই ধাপ অনুসরণ না করে সরাসরি খারিজ করলে ধারা ১৭৩-এর পুলিশ রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
গ. আমলে গ্রহণ — সম্প্রসারিত বিশ্লেষণ (ধারা ১৯০, ১৯১-১৯৩)
| উপধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ১৯০(১) | CMM, CJM, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা ১৯০(২)/(৩) অনুযায়ী বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট — এঁরাই কেবল আমলে নিতে পারেন, এবং তিনটি পদ্ধতির (অভিযোগ, পুলিশ রিপোর্ট, তথ্য/নিজ জ্ঞান) যেকোনো একটিতে। |
| ১৯০(২) | সরকার, হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ/বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে, অথবা CJM নিজে দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে কেবল (ক) অভিযোগ এবং (খ) পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারেন — লক্ষণীয় যে এমন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেও তিনি (গ) তথ্য/নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে আমলে নিতে পারবেন না, যদি না পৃথকভাবে সেই ক্ষমতাও দেওয়া হয়। |
| ১৯০(৩) | সরকার দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে পৃথকভাবে ধারা ১৯০(১)(গ) অনুযায়ী (তথ্য বা নিজ জ্ঞান) আমলে নেওয়ার ক্ষমতাও দিতে পারে, তবে শুধু সেইসব অপরাধের জন্য যা তিনি নিজে বিচার করতে পারেন বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারেন। |
| ১৯০(৪) | সরকার বিশেষ কারণ লিখে ও মেয়াদ উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও তিনটি পদ্ধতির যেকোনোভাবে আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারে — তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নেওয়ার পর মামলাটি অবশ্যই উপযুক্ত আদালতে বিচারের জন্য পাঠিয়ে দিতে হবে, তিনি নিজে বিচার করতে পারবেন না। |
ঘ. চার্জ গঠন — সম্পূর্ণ নীতিমালা (ধারা ২২১-২৪০ বিস্তারিত)
মূল রেফারেন্সের চার্জ টেবিলের পরিপূরক হিসেবে এখানে প্রতিটি ধারার বিস্তারিত উপাদান, উদাহরণ ও case-law নীতিমালা সংযোজিত হলো — পরীক্ষায় “চার্জ গঠনের নীতিমালা ব্যাখ্যা করুন” টাইপ প্রশ্নে এই অংশ সরাসরি কাজে লাগবে।
| ধারা | বিষয়বস্তু — কী বলতে হবে চার্জে |
|---|---|
| ২২১(১)-(২) | চার্জে অপরাধের বিবরণ থাকতে হবে; আইনে অপরাধের নির্দিষ্ট নাম থাকলে (যেমন “murder”, “theft”) শুধু সেই নামেই বর্ণনা যথেষ্ট, বিস্তারিত সংজ্ঞা পুনরুল্লেখের দরকার নেই। |
| ২২১(৩)-(৪) | যদি অপরাধের নির্দিষ্ট নাম না থাকে, তাহলে সংজ্ঞার এত অংশ উল্লেখ করতে হবে যাতে অভিযুক্ত ঠিক বুঝতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী; এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারা নম্বর অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। |
| ২২১(৫) | চার্জ গঠিত হওয়া মানেই ধরে নেওয়া হয় যে অপরাধ গঠনের জন্য আইনে নির্ধারিত সকল আইনগত শর্ত সেই নির্দিষ্ট ঘটনায় পূরণ হয়েছে — পৃথকভাবে প্রতিটি শর্ত উল্লেখের প্রয়োজন নেই (উদাহরণ: হত্যার চার্জ মানেই ধরে নেওয়া হয় তা দণ্ডবিধি ২৯৯/৩০০-এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে এবং কোনো সাধারণ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য নয়)। |
| ২২১(৬)-(৭) | চার্জ ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লেখা যাবে। পূর্ববর্তী দণ্ড (previous conviction) যদি শাস্তি বৃদ্ধির ভিত্তি হয়, তাহলে তার তারিখ ও স্থানসহ উল্লেখ থাকতে হবে — এটি বাদ পড়লেও দণ্ড ঘোষণার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় যোগ করা যায়। |
| ২২২(১) | চার্জে অপরাধের সময়, স্থান, এবং যাঁর/যে সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বিবরণ থাকতে হবে। |
| ২২২(২) | বিশ্বাসভঙ্গ (criminal breach of trust) বা আত্মসাতের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে মোট পরিমাণ ও সময়কাল (সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে) উল্লেখ করলেই চলবে — এটিকে একটি সামগ্রিক অপরাধ (ধারা ২৩৪ অনুযায়ী) হিসেবে গণ্য করা হবে। |
| ২২৩ | যদি শুধু সময়-স্থান-ব্যক্তির বিবরণ যথেষ্ট না হয় (যেমন প্রতারণা বা মিথ্যা সাক্ষ্যের মামলায়), তাহলে অপরাধ সংঘটনের “পদ্ধতি” (manner)-ও চার্জে উল্লেখ করতে হবে, যাতে অভিযুক্ত পর্যাপ্ত নোটিশ পান। |
| ধারা | নীতি ও ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ২৩৩ | সাধারণ নিয়ম — প্রতিটি স্বতন্ত্র অপরাধের জন্য পৃথক চার্জ ও পৃথক বিচার, ব্যতিক্রম কেবল ২৩৪, ২৩৫, ২৩৬ ও ২৩৯-এ বর্ণিত পরিস্থিতিতে। |
| ২৩৪ | একই ব্যক্তি ১২ মাসের মধ্যে একই ধরনের (একই ধারায় শাস্তিযোগ্য) অপরাধ একাধিকবার করলে সর্বোচ্চ ৩টি পর্যন্ত একসাথে চার্জ ও বিচার করা যায়। “একই ধরনের” অর্থ একই ধারায় সমপরিমাণ শাস্তিযোগ্য — বিশেষভাবে প্রোভিসোতে বলা আছে দণ্ডবিধি ৩৭৯ (সাধারণ চুরি) ও ৩৮০ (গৃহে প্রবেশ করে চুরি) এই উদ্দেশ্যে একই ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, এবং কোনো অপরাধের “প্রচেষ্টা” (attempt) সেই মূল অপরাধের মতোই একই শ্রেণীর গণ্য হবে। |
| ২৩৫(১) | একই ধারাবাহিক কাজ যদি একটিই ঘটনা-শৃঙ্খল (same transaction) গঠন করে এবং তাতে একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে সবগুলোর জন্য একসাথে চার্জ গঠন করে একই বিচারে বিচার করা যায়। |
| ২৩৫(২) | যদি একই কাজ একাধিক পৃথক অপরাধের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে (যেমন একটি কাজ একইসাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ উভয়ের উপাদান পূরণ করে), তাহলে সেই সবগুলো সংজ্ঞায় চার্জ গঠন করে একই বিচারে বিচার করা যায়। |
| ২৩৫(৩) | যদি একাধিক পৃথক কাজ (যার প্রতিটি এককভাবে একটি অপরাধ গঠন করতে পারে) একত্রে মিলে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ গঠন করে, তাহলেও সেগুলো একই বিচারে অন্তর্ভুক্ত করা যায় — তবে এতে দণ্ডবিধি ৭১ (একাধিক অপরাধের সমন্বয়ে গঠিত অপরাধের শাস্তির সীমা) এর প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে। |
| ২৩৬ | কোন নির্দিষ্ট অপরাধ ঘটেছে তা অনিশ্চিত হলে একাধিক বা বিকল্প চার্জ গঠন করা যায় এবং সবগুলো একসাথে বিচার করা যায় (যেমন একই লেনদেন চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ বা প্রতারণা — যেকোনোটি হতে পারে এমন অনিশ্চয়তায় সবগুলোতেই চার্জ গঠন করা যায়)। |
| ২৩৭ | ধারা ২৩৬-এর পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত যে অপরাধে চার্জভুক্ত হননি কিন্তু সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়েছে, সেই অপরাধেও তাঁকে দণ্ড দেওয়া যায় — শর্ত থাকে যে তিনি প্রকৃতপক্ষে সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন। |
| ২৩৮ | যদি একটি গুরুতর অপরাধের চার্জের মধ্যেই একটি ছোট/লঘু অপরাধ (minor offence) অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং সাক্ষ্যে কেবল সেই লঘু অংশটিই প্রমাণিত হয় (বাকি উপাদান প্রমাণিত না হয়), তাহলে অভিযুক্তকে সেই লঘু অপরাধে দণ্ড দেওয়া যায়, যদিও তিনি পৃথকভাবে তাতে চার্জভুক্ত ছিলেন না। উপ-ধারা (২ক) অনুযায়ী মূল অপরাধের “প্রচেষ্টা”-তেও একইভাবে দণ্ড দেওয়া যায়। তবে উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী মানহানি (১৯৮) বা বৈবাহিক অপরাধ (১৯৯)-এর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিযোগ ছাড়া এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। |
| ২৩৯ | একাধিক ব্যক্তিকে একসাথে বিচার করার সাতটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণনা করে — (ক) একই লেনদেনে একই অপরাধে অভিযুক্তরা, (খ) মূল অপরাধী ও তার প্ররোচনাদাতা/প্রচেষ্টাকারী, (গ) ধারা ২৩৪-এর আওতায় যৌথভাবে একই ধরনের অপরাধ করা ব্যক্তিরা, (ঘ) একই লেনদেনে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে অভিযুক্তরা, (ঙ) চুরি/প্রতারণা/আত্মসাতের মূল অভিযুক্ত এবং চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ/আশ্রয়দানে অভিযুক্তরা, (চ) দণ্ডবিধি ৪১১/৪১৪-এর অধীনে একই চোরাই সম্পত্তি নিয়ে অভিযুক্তরা, (ছ) জাল মুদ্রা সংক্রান্ত অধ্যায়ের (PC Chapter XII) অধীনে একই মুদ্রা নিয়ে অভিযুক্তরা। |
ধারা ৩৪ (সাধারণ অভিপ্রায়ে একাধিক ব্যক্তির কাজ): যখন একাধিক ব্যক্তি অভিন্ন অভিপ্রায় (common intention) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি অপরাধ সংঘটন করে, তখন সকলকেই সেই অপরাধে দায়ী করা যায়। প্রমাণ করতে হয় — সক্রিয় অংশগ্রহণ + অভিন্ন অভিপ্রায়। সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে দুটি মত আছে — কেউ বলেন প্রকৃত অংশগ্রহণ আবশ্যক, আবার কেউ বলেন কাছাকাছি উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোই যথেষ্ট; অপরাধ সংঘটনে আনন্দ প্রকাশ করাও অংশগ্রহণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিন্ন অভিপ্রায় ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে গড়ে উঠতে পারে (উদাহরণ: চুরি করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে হত্যা করলে মূল অভিপ্রায় চুরি থাকলেও তাৎক্ষণিক নতুন অভিন্ন অভিপ্রায় গড়ে ওঠে)।
ধারা ১০৯ (প্ররোচনার শাস্তি): যখন একজন মূল অপরাধ করেন এবং অন্যজন তা প্ররোচিত করেন, তখন প্ররোচনাকারীকে মূল অপরাধের সাথে ধারা ১০৯ যুক্ত করে চার্জভুক্ত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী না থাকায় কে প্রকৃত অপরাধ করেছেন তা অনিশ্চিত হলেও সবাইকে ধারা ১০৯-এর মাধ্যমে চার্জভুক্ত করা যায়। প্ররোচনা (দণ্ডবিধি ১০৭) তিনভাবে প্রমাণিত হতে পারে — প্ররোচনা দেওয়া (instigation), ষড়যন্ত্র (conspiracy, যেখানে ষড়যন্ত্রের ফলে প্রকৃত কাজ বা অবৈধ বিরতি ঘটেছে), অথবা ইচ্ছাকৃত সহায়তা (intentional aid)। প্ররোচনা সরাসরি সাক্ষ্যে নয়, বরং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ, আচরণ এবং প্ররোচনাকারীর জ্ঞান ছিল কিনা তা বিশ্লেষণ করে প্রমাণিত হয়।
ধারা ১৪৯ (অবৈধ সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধ): অবৈধ সমাবেশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে সমাবেশের সকল সদস্যকে ধারা ১৪৯-এর মাধ্যমে চার্জভুক্ত করা যায়, শর্ত থাকে অপরাধটি সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য (common object) বাস্তবায়নে সংঘটিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত — সাধারণ উদ্দেশ্য থাকা, ইচ্ছাকৃতভাবে সমাবেশে যোগ দেওয়া, এবং সেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা। যিনি উদ্দেশ্য না জেনে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন, তিনি দায়ী হবেন না।
ঙ. আদালত কাঠামোর ক্ষমতা — এক নজরে (দায়রা আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট)
| আদালত/পদ | মূল ক্ষমতার ধরন | গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|
| দায়রা আদালত | আদি এখতিয়ার (Original), দণ্ড প্রদান (Sentencing), আপিল (Appellate), রিভিশন (Revisional), স্থানান্তর (Transferal), প্রত্যাহার (Withdrawal) | নিজে থেকে সরাসরি আমলে নিতে পারে না — ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সোপর্দ (committal) হলেই আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে (ধারা ১৯৩(১))। অতিরিক্ত ও যুগ্ম দায়রা জজ কেবল সরকার বা প্রধান দায়রা জজের নির্দিষ্ট আদেশে বরাদ্দকৃত মামলা বিচার করতে পারেন (ধারা ১৯৩(২))। |
| জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট | আদি এখতিয়ার (ধারা ১৯০), দণ্ড প্রদান, আপিল | CJM/CMM, মেট্রোপলিটন/প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেণীর বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটই কেবল আমলে নিতে পারেন। |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট | প্রধানত প্রতিরোধমূলক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা — গ্রেপ্তার/হেফাজত (৬৪,৬৫), চিঠি/টেলিগ্রাম সংক্রান্ত (৯৫), নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধার (১০০), শান্তিরক্ষা ও সদাচরণের জামানত (১০৭-১২৬), অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ (১২৭-১৩০), জনউপদ্রব (১৩৩,১৪২), জরুরি আদেশ (১৪৪), দখল বিরোধ (১৪৫-১৪৭), অস্বাভাবিক মৃত্যু অনুসন্ধান (১৭৪-১৭৬), পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ (৪৯২(২)) | সাধারণত বিচারিক ক্ষমতাহীন — সরকার বিশেষ আদেশে আমলে নেওয়ার ক্ষমতা দিলেও (ধারা ১৯০(৪)) তাঁকে মামলাটি বিচারের জন্য উপযুক্ত আদালতে পাঠিয়ে দিতে হয়, নিজে বিচার করতে পারেন না। |
চ. গ্রেপ্তার — সম্প্রসারিত বিশ্লেষণ (ধারা ৪৬-৬৭, ১৫১) ও BLAST নির্দেশিকা
| ধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ৪৭ | গ্রেপ্তারযোগ্য ব্যক্তি যে স্থানে প্রবেশ করেছেন সেই স্থান তল্লাশি করার ক্ষমতা। |
| ৪৮ | প্রবেশাধিকার না পাওয়া গেলে অনুসরণীয় পদ্ধতি — জেনানা মহল (zanana) ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা ও শালীনতা বজায় রাখার বিধান। |
| ৪৯ | আটক ব্যক্তিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে দরজা/জানালা ভাঙার ক্ষমতা (মুক্তিদানের জন্য, গ্রেপ্তারের বিপরীত পরিস্থিতি)। |
| ৫০ | গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির ওপর অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংযম (restraint) আরোপ নিষিদ্ধ — কেবল পালানো রোধে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই। |
| ৫১-৫২ | ধারা ৫১: গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশি ও পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া সব জিনিস নিরাপদ হেফাজতে রাখার ক্ষমতা; কোনো জিনিস জব্দ করলে সাক্ষীর উপস্থিতিতে তালিকা তৈরি করে যথাসম্ভব সাক্ষীর স্বাক্ষর নিতে হবে এবং তালিকার অনুলিপি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে দিতে হবে (২০২৬ সংশোধনী)। ধারা ৫২: নারীর দেহ তল্লাশি অন্য নারী দ্বারা, শালীনতা রক্ষা করে। |
| ৫৩ | গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছে থাকা আক্রমণাত্মক অস্ত্র জব্দ করার ক্ষমতা। |
• ৪৬ক: (সংযোজিত ফরম IA — পঞ্চম তফসিলে গ্রেপ্তার-স্মারক) গ্রেপ্তারকারী (ক) নিজের নামের স্পষ্ট পরিচয়-চিহ্ন ধারণ করবেন, (খ) পরিচয় প্রকাশ ও চাইলে পরিচয়পত্র দেখাবেন, (গ) গ্রেপ্তার-স্মারক (memorandum of arrest) তৈরি করবেন — পরিবারের সদস্য বা এলাকার সম্মানিত বাসিন্দা অন্তত একজন সাক্ষী দ্বারা প্রত্যয়িত, ও গ্রেপ্তারি ব্যক্তির স্বাক্ষর/টিপসই (প্রত্যাখ্যান না করলে), (ঘ) নিজ বাসস্থানের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/মনোনীত বন্ধুকে সময়, স্থান ও আটকস্থল জানাবেন, (ঙ) আঘাতের চিহ্ন থাকলে ৪৬ঙ অনুযায়ী চিকিৎসা ও সনদ নেবেন এবং আঘাতের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন, (চ) পছন্দের আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সাথে — যথাসম্ভব ১২ ঘণ্টার মধ্যে — দেখা করতে দেবেন।
• ৪৬খ: সরকারি রেজিস্টারে গ্রেপ্তারের কারণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য, থানার জেনারেল ডায়েরিতে (GD) তাৎক্ষণিক এন্ট্রি; চাইলে আত্মীয়-বন্ধু-প্রতিবেশীকে তথ্য দিতে বাধ্য। ৪৬গ: প্রতি জেলা/মেট্রো সদর ও থানায় গ্রেপ্তারের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ন্যূনতম সহকারী উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা মনোনয়ন। ৪৬ঘ: হেফাজতকারীর দায়িত্ব — গ্রেপ্তারি ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার যুক্তিসঙ্গত যত্ন। ৪৬ঙ: অসুস্থ বা আঘাতপ্রাপ্ত গ্রেপ্তারি ব্যক্তির সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক (না পেলে নিবন্ধিত চিকিৎসক) দ্বারা পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা; নারী হলে যথাসম্ভব নারী চিকিৎসক/নারী নার্সের উপস্থিতি; গুরুতর অসুস্থ হলে ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা যায়।
• ৫৪ক: বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের সময়ই কারণ জানাতে হবে। ৬৭ক: গ্রেপ্তারি ব্যক্তিকে হাজির করা ম্যাজিস্ট্রেট/আদালত গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত বিধান মানা হয়েছে কি না পরীক্ষা করবেন; অবহেলায় লঙ্ঘন পেলে লিখিত কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সার্ভিস বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারেন।
• ১৬৭(২): ম্যাজিস্ট্রেট মোট ১৫ দিনের বেশি পুলিশ হেফাজত অনুমোদন করতে পারেন না; আরও আটক প্রয়োজন হলে (আসামিকে সশরীরে বা ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকে হাজির করিয়ে) বিচারিক হেফাজত। ১৬৭(২ক): পুলিশ হেফাজতের আগে চিকিৎসা পরীক্ষার আদেশ, হেফাজত শেষে আসামিকে অবিলম্বে হাজির; আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের অভিযোগে পরীক্ষা ও নির্যাতন প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা। ১৬৭ক: অন্য মামলায় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে নতুন মামলায় “shown arrest” দেখানোর আবেদন — আসামিকে হাজির, কেস ডায়েরির অনুলিপিসহ, শুনানির সুযোগ দিয়ে এবং আবেদন ভিত্তিমূলক হলেই মঞ্জুর; প্রতিরোধমূলক আটকের উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তারে বিচারিক হেফাজত অনুমোদন নিষিদ্ধ।
• ১৭৩ক: তদারককারী কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন চাইতে পারেন; কোনো আসামির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত সাক্ষ্য থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হলে তাকে অব্যাহতি (discharge) দিতে পারেন (বাকিদের তদন্ত চলবে); পরে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পেলে তার নাম পুলিশ রিপোর্টে আনা যায়। ১৭৩খ: প্রতিটি তদন্ত তথ্য পাওয়ার তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে; যুক্তিসঙ্গত কারণে না পারলে কেস ডায়েরিতে কারণ লিখে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন (অনুলিপি তদারক কর্মকর্তাকে), বাড়ানো সময়েও না হলে লিখিত কারণ প্রতিবেদন; ম্যাজিস্ট্রেট অন্য কর্মকর্তাকে তদন্ত দিতে পারেন ইত্যাদি। ৩২: ম্যাজিস্ট্রেটদের দণ্ডের সীমা — মেট্রোপলিটন/প্রথম শ্রেণী: ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা; দ্বিতীয় শ্রেণী: ৩ বছর ও ৩ লক্ষ টাকা; তৃতীয় শ্রেণী: ২ বছর ও ২ লক্ষ টাকা। ৫১: জব্দ জিনিসের তালিকা, সাক্ষীর স্বাক্ষর ও অনুলিপি। ৩৩৯খ: পলাতক বা আত্মগোপনকারী আসামিকে জাতীয় বাংলা দৈনিকে আদেশ প্রকাশ করে নির্ধারিত সময়ে হাজির হতে বলা; না এলে অনুপস্থিতিতে বিচার (বর্তমান পাঠ)। ৪৯৯(৩): অনলাইনে বন্ড জমা। ২৬৪ক: সংক্ষিপ্ত বিচারে সম্ভব হলে চার্জ গঠন, সাক্ষ্য, ধারা ৩৪২ অনুযায়ী অভিযুক্তের জবাব ও রায় একই বৈঠকে সম্পন্ন করা যায়।
ছ. হাজিরা নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া — সমন, ওয়ারেন্ট ও ঘোষণাপত্র (ধারা ৬৮-৮৯)
| পদ্ধতি | ধারা | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| সমন | ৬৮-৭৪ | আদালত কর্তৃক লিখিতভাবে দুই কপিতে জারি (একটি জারির প্রমাণ হিসেবে রাখা হয়), প্রিসাইডিং অফিসার বা হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ম দ্বারা মনোনীত কর্মকর্তা স্বাক্ষর ও সিলমোহর করেন। |
| ওয়ারেন্ট | ৭৫-৮৯ | আদালত কর্তৃক লিখিতভাবে জারি, প্রিসাইডিং অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চের সদস্য স্বাক্ষর করেন, আদালতের সিলমোহরযুক্ত — বাতিল না হওয়া বা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে। |
| ঘোষণাপত্র (Proclamation) | ৮৭-৮৯ | পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত, সাধারণ সমন/ওয়ারেন্ট ব্যর্থ হলে প্রয়োগ হয়। |
• ধারা ৬৯: যথাসম্ভব ব্যক্তিগতভাবে জারি করতে হবে, এবং জারিকারী কর্মকর্তা চাইলে প্রাপ্তিস্বীকার স্বাক্ষর নিতে পারেন। নিগমিত কোম্পানির ক্ষেত্রে সচিব/স্থানীয় ব্যবস্থাপক/প্রধান কর্মকর্তার কাছে বা রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো যায়।
• ধারা ৭০: ব্যক্তিকে খুঁজে না পেলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যকে সমন দেওয়া যায়।
• ধারা ৭১: এভাবেও সম্ভব না হলে ব্যক্তির সাধারণ বাসগৃহের দৃশ্যমান স্থানে সমন সাঁটিয়ে (affixture) দিলে তা যথাযথ জারি হিসেবে গণ্য হবে।
• ধারা ৭২: সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে তাঁর কার্যালয়ের প্রধানের কাছে সমন পাঠাতে হবে, এবং প্রধানের স্বাক্ষরই জারির প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।
• ধারা ৭৩: স্থানীয় এখতিয়ারের বাইরে বসবাসকারীর ক্ষেত্রে সেই এলাকার এখতিয়ারভুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সমন পাঠাতে হবে।
• ধারা ৭৪: জারিকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির না থাকলে হলফনামার (affidavit) মাধ্যমে জারির প্রমাণ দেওয়া যায়।
• ধারা ৭৬(১): অ-জামিনযোগ্য অপরাধেও আদালত বিচক্ষণতার ভিত্তিতে জামিনযোগ্য পরোয়ানা (bailable warrant) জারি করতে পারে — তখন নির্ধারিত বন্ড সম্পন্ন হলে পুলিশ অফিসার তাঁকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেবেন। এন্ডোর্সমেন্টে জামিনদারের সংখ্যা, বন্ডের পরিমাণ ও হাজিরার সময় উল্লেখ থাকতে হবে (ধারা ৭৬(২))।
• ধারা ৭৭: সাধারণত পরোয়ানা পুলিশ অফিসারের কাছে পাঠানো হয়, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে (কোনো পুলিশ অফিসার উপলব্ধ না থাকলে) অন্য কাউকেও পাঠানো যায়। একাধিক ব্যক্তির কাছে পাঠানো পরোয়ানা তাঁদের সবাই মিলে বা যেকোনো একজন কার্যকর করতে পারেন।
• ধারা ৭৮: প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট পলাতক আসামি/ঘোষিত অপরাধী গ্রেপ্তারের জন্য ভূস্বামী/কৃষক/ম্যানেজারের কাছেও পরোয়ানা পাঠাতে পারেন।
• ধারা ৭৯: পুলিশ অফিসারের উদ্দেশ্যে জারি করা পরোয়ানা যদি অন্য কোনো পুলিশ অফিসার endorsement ছাড়াই কার্যকর করেন, তাহলে তা অবৈধ হবে — তাই এন্ডোর্সমেন্ট আবশ্যক।
জ. পুলিশ হেফাজতে আটকের সময়সীমা — ধারা ৬০, ৬১, ৮১, ১৬৭ ও ৩৪৪
| ধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ৬০ | পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অহেতুক বিলম্ব ছাড়াই এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। |
| ৬১ | পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না (ভ্রমণের সময় বাদে) — ব্যতিক্রম কেবল ধারা ১৬৭-এর অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ থাকলে। |
| ৮১ | পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অহেতুক বিলম্ব ছাড়াই আদালতে উপস্থাপন করতে হবে, ধারা ৭৬-এর বিধান সাপেক্ষে (জামিনযোগ্য পরোয়ানার ক্ষেত্রে)। |
| ১৬৭ | তদন্ত ২৪ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে ম্যাজিস্ট্রেট মোট সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ বা অন্য হেফাজতে আটকের অনুমতি দিতে পারেন (এটিই সাধারণভাবে “রিমান্ড” নামে পরিচিত, যদিও “রিমান্ড” শব্দটি ধারা ১৬৭-তে ব্যবহৃত হয়নি, বরং ধারা ৩৪৪-তে ব্যবহৃত হয়েছে)। |
| ১৬৭(৫) | তদন্ত তথ্য পাওয়ার (বা ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত-আদেশের) তারিখ থেকে ১২০ দিনে শেষ না হলে: যে অপরাধ মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ডযোগ্য নয় তাতে আমলে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিতে পারেন; ঐ ধরনের গুরুতর অপরাধে দায়রা আদালত জামিন দিতে পারে। জামিন না দিলে কারণ লিখতে হয়। অনুমোদন (sanction) নিতে যে সময় লাগে তা বাদ যায়। |
• ১৫ দিন (ধারা ১৬৭(২)): কোনো মামলায় পুলিশ হেফাজত মোট ১৫ দিনের বেশি নয়; আরও আটক প্রয়োজন হলে বিচারিক হেফাজত।
• ১২০ দিন (ধারা ১৬৭(৫)): তদন্ত এর মধ্যে শেষ না হলে জামিন বিবেচনার বিধান (উপরে)।
• ৬০ কার্যদিবস (ধারা ১৭৩খ): প্রতিটি তদন্ত তথ্য পাওয়ার তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার সাধারণ বিধান; কারণ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন।
• মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডযোগ্য নয় এমন অপরাধে — ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিতে পারেন।
• মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে — দায়রা আদালতের এখতিয়ার।
• ধারা ১৬৭: তদন্ত পর্যায়ে প্রযোজ্য, সীমা সর্বমোট ১৫ দিন।
• ধারা ৩৪৪: বিচার শুরু হওয়ার পর শুনানি স্থগিত/মুলতবি রাখার ক্ষমতা, সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য যুক্তিসঙ্গত কারণে — প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন করে (সর্বমোট নয়, প্রতিবারে)।
ঝ. তল্লাশি ওয়ারেন্ট — ধারা ৯৬-১০৫ সম্প্রসারিত
| ধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ৯৭ | আদালত তল্লাশি ওয়ারেন্টকে নির্দিষ্ট স্থান বা অংশে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে, এবং তল্লাশি পরিচালনাকারীকে অবশ্যই সেই সীমা মেনে চলতে হবে। |
| ৯৮ | জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমন বাড়ি তল্লাশি করতে পারেন যা চোরাই সম্পত্তি জমা/বিক্রয়ের স্থান, বা জাল দলিল/সিল/নকল স্ট্যাম্প/মুদ্রা তৈরি/জমা/বিক্রয়ের স্থান বলে সন্দেহ করা হয়। |
| ১০৪ | যেকোনো আদালত চাইলে তার সামনে উপস্থাপিত কোনো দলিল বা বস্তু হেফাজতে নিতে (impound) পারে, যদি তা যথাযথ মনে করে। |
ঞ. অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গকরণ — ধারা ১২৭-১৩২
| ধারা | কখন ও কীভাবে |
|---|---|
| ১২৭ | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার যেকোনো অবৈধ সমাবেশ, বা জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কাযুক্ত পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন — নির্দেশের পর সমাবেশের সদস্যদের ছত্রভঙ্গ হওয়া বাধ্যতামূলক কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। |
| ১২৮ | নির্দেশের পরও সমাবেশ ছত্রভঙ্গ না হলে, বা ছত্রভঙ্গ না হওয়ার উদ্দেশ্য প্রকাশ পেলে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার যেকোনো পুরুষ বেসামরিক নাগরিকের (সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ব্যতীত) সহায়তা চাইতে পারেন, এবং প্রয়োজনে সদস্যদের গ্রেপ্তার ও আটক করতে পারেন। |
| ১২৯ | সামরিক বল প্রয়োগ (Use of military force): বেসামরিক বল দিয়ে ছত্রভঙ্গ সম্ভব না হলে এবং জননিরাপত্তার জন্য ছত্রভঙ্গ আবশ্যক হলে ম্যাজিস্ট্রেট সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারকে ছত্রভঙ্গ করতে ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার-আটক করতে অনুরোধ (requisition) করতে পারেন। (একটি সূত্র অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনারও এই ক্ষমতা রাখেন — মূল পাঠে মিলিয়ে নিন।) |
| ১৩০ | তলবকৃত সেনা-অফিসারের দায়িত্ব: ধারা ১২৯-এর অনুরোধ পেলে কমান্ডিং অফিসার নিজের বিবেচনায় তা পালন করবেন, তবে ছত্রভঙ্গ ও আটকের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে কম বল ও কম ক্ষতি করে — অর্থাৎ ন্যূনতম বল। |
| ১৩১ | গুরুতর পরিস্থিতিতে যদি কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ না থাকেন, তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো কমিশন্ড অফিসার নিজেই সমাবেশ ছত্রভঙ্গের নির্দেশ দিতে ও প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করতে পারেন — তবে তাঁকে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। |
| ১৩২ | ধারা ১২৯-১৩১-এর অধীনে সরল বিশ্বাসে (good faith) কৃত কাজের জন্য আইনগত সুরক্ষা — এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া মামলা শুরু করা যাবে না, তবে এই সুরক্ষা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন কাজ আইন মেনে ও সরল বিশ্বাসে করা হয়েছে। |
ট. নুইসেন্স সংক্রান্ত ধারাসমূহের আন্তঃসম্পর্ক — ১৩৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭
২. এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে নিছক ব্যক্তিগত বিরোধ (private dispute) নয়, যার উপযুক্ত ফোরাম দেওয়ানি আদালত।
৩. এটি জনস্বার্থের জন্য গুরুতর জরুরি অবস্থা বা আসন্ন বিপদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
| তুলনার বিষয় | ধারা ১৩৩ | ধারা ১৪৪ |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | সুনির্দিষ্ট — রাস্তা/জনস্থানের বাধা, বিপজ্জনক দালান/ব্যবসা অপসারণ নির্দিষ্টভাবে মোকাবিলা করে | সাধারণ/ব্যাপক — যেকোনো জরুরি জনবিপদ বা উপদ্রব মোকাবিলায় ব্যবহারযোগ্য বিস্তৃত ক্ষমতা |
| সম্পর্ক | ধারা ১৩৩ নির্দিষ্টভাবে যে নুইসেন্সগুলো মোকাবিলা করে, সেগুলো ধারা ১৪৪-এর সাধারণ বিধানের আওতার বাইরে থাকে তবে ধারা ১৩৩ ধারা ১৪৭-এর অধীনে কার্যক্রম নিতে বাধা দেয় না। | |
• ধারা ১৩৩ স্পষ্টভাবে বাধা অপসারণের বিধান থাকা সত্ত্বেও, একই পরিস্থিতিতে ধারা ১৪৭-এর অধীনেও অনুরূপ আদেশ দেওয়া যেতে পারে (নজির: ১৫ Cr.LJ ৩৬২)।
• তবে যদি ইতিমধ্যে ধারা ১৩৩-এর অধীনে কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে, তাহলে একই বিষয়ে পরবর্তীতে ধারা ১৪৭-এর অধীনে নতুন আদেশ দেওয়া যাবে না (নজির: ১৫ CWN ৬৬৭) — অর্থাৎ একবার একটি পথ বেছে নিলে সমান্তরালভাবে অন্য পথে একই বিষয়ে এগোনো যাবে না।
• ধারা ১৩৩ কেবল সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করা নুইসেন্সে প্রযোজ্য, কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ গোষ্ঠীকে (যেমন একদল কৃষক) প্রভাবিত করায় নয় (নজির: ২৯ Cr.LJ ৬৬১)।
• ধারা ১৩৩-এর আদেশ অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হতে হবে যিনি বাধার জন্য দায়ী — যিনি বাধা সৃষ্টি করেননি তাঁকে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া যাবে না (নজির: ২৮ Cr.LJ ১০৩৬)।
ঠ. ধারা ১৭৪ ও ১৭৬ — পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি
| উপধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ১৭৪(২) | প্রতিবেদনে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং সহমত পোষণকারী অন্যান্যদের স্বাক্ষর থাকতে হবে, এবং তা অবিলম্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে। |
| ১৭৪(৩) | মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে বা অন্য কোনো কারণে প্রয়োজনীয় মনে হলে, মৃতদেহ নিকটস্থ সিভিল সার্জন বা সরকার-নির্ধারিত অন্য যোগ্য চিকিৎসকের কাছে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হবে — শর্ত থাকে আবহাওয়া ও দূরত্ব বিবেচনায় পচনের আগে পরিবহন সম্ভব হতে হবে। |
| ১৭৪(৫) | ইনকোয়েস্ট পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত — জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। |
ড. দণ্ড কার্যকরকরণ — সম্পূর্ণ প্রবাহ (ধারা ৩৮১-৪০২ক)
| ধারা | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ৩৮১ | হাইকোর্ট বিভাগে নিশ্চিতকরণের জন্য পাঠানো দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ডে, নিশ্চিতকরণ বা অন্য আদেশ পাওয়ার পর দায়রা আদালত ওয়ারেন্ট জারি করে সেই আদেশ কার্যকর করায় (আইনের পাঠ: execution of order passed under §৩৭৬)। |
| ৩৮২ | মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড স্থগিতের আদেশ দেবে এবং প্রয়োজন মনে করলে দণ্ড লঘু করতে পারে (আইনে লঘুকৃত দণ্ডের শব্দবন্ধ “transportation for life” — আধুনিক রূপ মূল পাঠে মিলিয়ে নিন)। |
| ৩৮৩ | কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে আদালত একটি কমিটমেন্ট ওয়ারেন্ট জারি করে, যার ভিত্তিতে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। |
| ৩৮৬ | জরিমানা আদায়ের পদ্ধতি — অপরাধীর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করে, অথবা আইনে নির্ধারিত অন্য পদ্ধতিতে। |
| ৩৮৮ | শুধু জরিমানা এবং অনাদায়ে কারাদণ্ড হলে জরিমানা তৎক্ষণাৎ না দিলে আদালত নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত বা কিস্তিতে পরিশোধের আদেশ দিতে পারে (আইনের পাঠ: suspension of execution of imprisonment sentence)। |
| ৩৮৯ | দণ্ড কার্যকরের ওয়ারেন্ট দণ্ডদানকারী বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর উত্তরসূরি জারি করতে পারেন (আইনের পাঠ: who may issue warrant)। |
| ৩৯৬-৩৯৭ | পলাতক দণ্ডিতের নতুন দণ্ডের কার্যকারিতা (৩৯৬) এবং ইতিমধ্যে দণ্ড ভোগরত ব্যক্তির নতুন দণ্ড আগের দণ্ডের মেয়াদ শেষে শুরু (৩৯৭)। রেফারেন্স/রিভিশন: ৪৩৫ প্রভৃতি। |
| ৪৩৫ | ধারা ৪৩৫(১): হাইকোর্ট বিভাগ বা সেশন জজ নিজ এখতিয়ারের অধস্তন ফৌজদারি আদালতের কার্যধারার নথি তলব ও পরীক্ষা করতে পারেন — কোনো সিদ্ধান্ত, দণ্ড বা আদেশের সঠিকতা, বৈধতা ও যথার্থতা এবং কার্যধারার নিয়মানুবর্তিতা যাচাইয়ে; তলবের সময় দণ্ড স্থগিত ও আসামিকে জামিনে মুক্তির নির্দেশও দিতে পারেন। |
রায় (Judgment) → দণ্ডাদেশ (Sentence Order) → কার্যকরকরণ ওয়ারেন্ট (৩৮১-৩৮৩) → কারাদণ্ড/জরিমানা আদায় (৩৮৩, ৩৮৬) → আপিল/স্থগিতকরণ (৩৮৯) → চূড়ান্ত সমাপ্তি
ঢ. Res Judicata / Double Jeopardy — ধারা ৪০৩
ণ. CrPC-এর তফসিল (Schedule) — সম্প্রসারিত বিবরণ
| তফসিল | বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| দ্বিতীয় তফসিল | অপরাধের শ্রেণীবিভাগ | দণ্ডবিধি ও অন্যান্য আইনের অধীনে অপরাধের একটি সারণি, যাতে প্রতিটি অপরাধের ধারা নম্বর, নাম ও বিবরণ, আমলযোগ্য/অ-আমলযোগ্য মর্যাদা, জামিনযোগ্য/অ-জামিনযোগ্য মর্যাদা, নির্ধারিত শাস্তি এবং বিচারযোগ্য আদালত উল্লেখ থাকে। | পুলিশ, আইনজীবী ও আদালতকে সঠিক আইনি পদ্ধতি নির্ধারণে সহায়তা করে — যেমন পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার সম্ভব কিনা, জামিন অধিকার নাকি বিবেচনামূলক, এবং কোন আদালতের এখতিয়ার প্রযোজ্য। |
ত. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা — দণ্ডবিধির ধারা CrPC-এর সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না
Last Updated on 16 hours ago by Asiful Haque
